প্রতিদিন বিভাগে
অণুগল্প —১৬
সুবোধের দিনলিপি
অমিত কাশ্যপ
" সকাল হতে না হতেই রোজ বাবা ছেলেকে ফোন করে। ছেলে বাবার ফোন পেয়েই পড়াশোনাতে মনযোগ দেয়।মা মরা ছেলে।। ছেলের ভালোর জন্য কলকাতার বাইরে পড়াশোনার জন্য রেখে দিয়ে আসে।কিন্তু বাবা মাঝে মাঝে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ছেলেকে ফোন করতে ভুলে যায়। ছেলে মানসিক যন্ত্রণা ও কষ্ট পায়....."—
অনেক দূরে এসে পড়েছে সুবোধ। প্রতিষ্ঠা। বাবা বলতেন, প্রতিষ্ঠা পাও, দেখবে সবাই কেমন মান্যতা দেবে। বাবার কথাগুলো বেদব্যাকের মতো মনে হত।
চমৎকার জায়গা শিলিগুড়ি। ইংরেজি অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যেই হোস্টেল। সুন্দর। পরিচ্ছন্ন। দোতলা-তিনতলার বারান্দা আর ছাদে উঠলে সামনে পাহাড়। পাহাড়ের কী অপূর্ব রূপ। রোদ-ছায়ার খেলা মাঝে মাঝে। ছাদে উঠলে মন ভরে যায়। শিলিগুড়ি শহর হলেও এখনো বেশ ফাঁকা। নানান ভাষাভাষির মধ্যেও একটা বন্ধুত্বের সুর দেখা যায়। প্রথম কয়েকদিন মন বেশ ভারি ছিল। এখন কেটে গেছে। রাতে গাড়ির সারি আলো জ্বলে পাহাড় থেকে নামে। সময় কেমন করে কেটে যায়।
সকালে ঝকঝকে আকাশ ও বাবার একটা ফোন। সারাদিন অবাক করা আবেশ আর আবেগ। সুবোধের বাবাই সব। মা নেই বাবা বুঝতেই দেন না। বাবা-মা মিলিয়ে একটা ছাদ। এখন বাবাই ছাদ। দূরে আছে বলে সম্পর্কের দূরত্বে আছে, তা তো নয়।
রোজ সকালে বাবার একটা ফোন, কিরে বাবু ভালো আছিস।
সারাদিন কেমন করে কেটে যায়। সুবোধ জানে, এটা টনিকের মতো কাজ দেয়। যেদিন সেটা হয় না, কিছুই ভালো লাগে না। মনে কেমন একটা ভার। কেমন এক অজানা কষ্ট। বারেবারে মনে হয়, প্রভু ভালো রেখ বাবাকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন