বৃহস্পতিবার, ১৮ মে, ২০২৩

উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৬ ।। তৈমুর খান -এর পাঁচটি কবিতা।। Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।






উন্মুক্ত কবিতাগুচ্ছ —২৬



তৈমুর খান -এর  পাঁচটি  কবিতা 



১.

 শয্যা জুড়ে নগ্ন চাঁদ

   

প্রগলভ মাংসল প্রেমে ছুটছে সবাই
ইশারা পেয়েছে ওরা, রাত্রিযাপনের চাবি দিয়েছে ওদের 
সব দরজা খুলে গেলে ওদের শয্যা জুড়ে নগ্ন চাঁদ

 মৈথুনের ঘ্রাণে ডুবে যাবে দেশ
 বাইরে অনুজ্জ্বল শুধু প্রেমের কাহিনি
 প্রদীপ জ্বালাবে মৃত্যুর পর।



 ২.
চাঁদ
 
 
চাঁদটা চলে যাচ্ছে অন্ধকার কলোনির দিকে
আমরা কাত্যায়িনীর কাছে ফিরে যাচ্ছি
আমাদের কপালে চাঁদ নেই
স্বপ্নবিচ্ছেদের জ্বরে দারুণ কাঁপন লেগে আছে

সব রমণীরাই কি চাঁদ হয় তবে?
তাদের জ্যোৎস্নায়  কলঙ্কিত পরিতাপ ঝরে 
নিসর্গ-নক্ষত্রপথে মহিমার কান্না শুনে শুনে
আমাদের রাত পার হয়

যদিও সকাল নেই এ রাতের
যদিও চাঁদের কাছে প্রাণভিক্ষা চায় আত্মহত্যাগুলি।



৩.
শাশ্বতকে পাঠানো বার্তা
   

কাঁদার জন্য এখানে এসেছি
 যদিও হাসির সঙ্গে ঘরকন্না
 যদিও পড়েছি হাসিদের স্কুলে
 কত অভিনয় শিখেছি
 মরে ও বেঁচে জেনেছি নিজেকে

 এখানে কিছুই নেই
 সময়ের সরণিতে শুধু হাহাকার
 ছুটতে ছুটতে, বিশ্রাম নিতে নিতে
 চা খেতে খেতে নেমে আসছে অন্ধকার

 যে কথা এখনও বলতে পারিনি:
 একটি জীবনের কাছে 
 মানবসভ্যতা একটি উদ্বাস্তু কলোনি!
                   


৪.
প্রত্যাশার অন্ধকারে
     
আলো রঙের অন্ধকারে
 একটুখানি মানুষ খুঁজি
 অর্থকড়ি নেইকো কিছুই
 ভালবাসার সামান্য পুঁজি।

 হাতটি দিয়ো এই নিঃস্ব হাতে
 মুখটি তুলে চেয়ো আঁখিপাতে
 সংকটের এই অন্ধরাতে
 দেখা হোক তোমার সাথে।

 বিশ্বাসেরা আসুক ফিরে
 এই ভাঙা  সংসারে
 দুঃখগুলি আনন্দে ভাসুক
 কান্নাগুলি ছন্দে হাসুক।

 মানবকাঙাল এ সভ্যতায়
 ফিরে আসুক মানবহাওয়া
 গুছিয়ে নেবো আবার তবে
 নষ্ট হওয়া হৃদয়খানা।
          
৫.
ঐতিহ্য
     
আমাদের ঐতিহ্য কাঁথা সেলাই করছে
 বাইরে প্রবল বৃষ্টি
 সব ভাবনারা ভেসে যাচ্ছে একে একে
 ঐতিহ্য ফোঁড় তুলছে কাঁথায়
 এও এক ইতিহাস রচনা

 সবাইকে খিদে লেগে গেছে
 আহা খিদেরা কেন যে লাগে!
 সবাই খেলতে ভুলে যাই
 কীরকম এক কান্নার মতো শব্দ বেরিয়ে আসে
 মহাকালের রথে চাপা পড়ে যাওয়া মানুষ

 সবাই বলছে এগিয়ে যাও! এগিয়ে যাও!
 এত বিস্ময় চিহ্ন ডিঙিয়ে কোথায় যাব তবে?
 দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বসে আছে মহাকালের কৃষক
 আমরাও বিক্রি হবো সময়ের হাঁস—
 ঐতিহ্য সুতো ভরছে সুচে আবার কোনো নতুন নকশা হবে

 শ্রম আর ক্ষয় লেগে থাকা কাঁথাগুলি কারা নেবে?
 যুবতী সুচ আর আঙুলের ঘর্ষণে 
 কত মৈথুনের বিকেল পেরিয়ে গেছে
 সভ্যতা তবুও বোঝেনি খিদের কাতরানি
 সারা ঘরে ভেজা গন্ধ,জ্বালানি নেই,কী করে যুদ্ধ হবে?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন