শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০২৩

লিটল ম্যাগাজিনের প্রাণপুরুষ... সদ্যপ্রয়াত সন্দীপ দত্ত: শ্রদ্ধা ও স্মরণে — শ্রদ্ধা তর্পণ — দুর্গাদাস মিদ্যা।। Ankurisha।। E.Magazine।।Bengali poem in literature।।

 




লিটল ম্যাগাজিনের প্রাণপুরুষ সদ্যপ্রয়াত সন্দীপ দত্ত: শ্রদ্ধা  ও স্মরণে 




 শ্রদ্ধা তর্পণ

দুর্গাদাস মিদ্যা


একটা বিখ্যাত proverb আছে যা এই মূহুর্তে স্মরনীয় তা হল -A man is known by his deeds not by his words. এই প্রবাদের মধ্যে এক গভীর সত্য লুকিয়ে আছে তা হল মানুষ চেনার নিদান। এই নিদানে, বর্তমান ভাঙাচোরা সময়ে সদ্য প্রয়াত সন্দীপ দত্তকে চিনে নেওয়া যেতে পারে। 'ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো'র কাজ হচ্ছে লিটল ম্যাগাজিন করা। সেই কাজটিও যে কত মূল্যবান
তা বুঝতে এবং বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন সদ্যপ্রয়াত সন্দীপ দত্ত। সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ যে কত জরুরি কাজ তা অন্তর থেকে অনুধাবন করেছিলেন এই মানুষটি যা একটি বৈজ্ঞানিক ভাবনার প্রকাশ। 
তাঁকে কেন প্রাণপুরুষ বলা হচ্ছে লিটল ম্যাগাজিনের সে কথা ভাবতে গেলে তাঁর এই আশ্চর্য পরিকল্পনার কথা আমাদেরকে অবাক করে দেয় যে এমন ভাবনা তিনি ভাবতে পেরেছিলেন বা ভেবেছিলেন। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক ছিলেন। আসলে তিনি ছিলেন একজন সমাজ শিক্ষক। শুধু কথায় নয় হাতে নাতে কাজ করে দেখানোর একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব যাঁর কাজের মূল্যায়ন ও যথার্থ স্বীকৃতি তিনি পেলেন না। 
ব্যক্তিগত উদ্যোগে এতবড় লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরী ও গবেষণা কেন্দ্র আর ভূভারতে আর কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই। এই অভিনব উদ্যোগের জন্যই তাঁর মান্যতা অনেক বেশি প্রাপ্য ছিল। সেই ১৯৭৮ সাল থেকে স্বল্প বেতনে চাকুরী রত একজন শিক্ষক যে অবাক করা কাজটি করে গেলেন গাঁটের পয়সা খরচ করে তা অবিস্মরণীয় এই বেনিয়া মনোভাব সুলভ জগতে। এমন একটি নিঃস্বার্থ মূলক কাজ যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা অর্থাৎ বর্তমান সময় কেউ তেমন করে বুঝলাম না যার ফলে সন্দীপ দত্ত তেমন কোনো সম্মান পেলেন না রাজ্যস্তরে বা জাতীয় স্তরে যা তাঁর একান্ত প্রাপ্য ছিল। 
সন্দীপ দত্ত আমাদের মনের মানুষ ছিলেন, ছিলেন ঘরের মানুষ। তিনি প্রয়াত ১৫/০৩/২৩ তারিখে,, এই দিনটি যর্থাথই লিটল ম্যাগাজিনের পক্ষে শোকের দিন, অনতিক্রম্য দুঃখের দিন। 
তিনি ছিলেন লিটল ম্যাগাজিনের একজন অঘোষিত অভিভাবক যিনি বাদে, বিবাদে, সংবাদে এবং প্রতিবাদে নিরলস লিটল ম্যাগাজিনের পাশে থাকতেন। তাঁকে শুধু শ্রদ্ধা জানানোই শেষ নয় তাঁর আরাধ্য কাজকে রক্ষা করা এবং সেই দায়িত্ব বহন করে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা নেওয়ার দিন ও আজ। তবেই তাঁকে যথার্থ সম্মান জানানো হবে। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন