আজ ৯ই মে। রবিবার।
"আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবস"
শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনে- নন্দিনী মান্না
" মাতৃ দিবস- মর্যাদায় অমলিন স্থান"
প্রথম শব্দ "মা" বোল স্নেহ- ভালবাসার অফুরন্ত ও রহস্যময়ীর ভান্ডার। এর কোথায় শুরু- শেষ তা এখনো অজানা ও অ-দেখা। নারী ও একজন মা। নারী সমাজের অচলায়তন রক্ষণশীলতা কাটিয়ে ধাপে ধাপে আজ সব বিভাগে সবুজ আলোর শিখা দেখাচ্ছে। মান -মর্যাদার আসন ধরে সমানতালে দশ ও দেশের আশা ,বিশ্বাস ও সাফল্যের বিভিন্ন অগ্রণী পথের সন্ধান দিচ্ছে। সেই নারীরূপী জননী প্রাচীনতার বেড়াজাল কাটতে সক্ষম হয়েছে। বহু আন্দোলনের মাধ্যমে বছরের একটি দিনকে "মাতৃ দিবস" রূপে সম্মান জানানোর অধিকার আদায় করেছে।
ধর্মীয় রীতির ইতিহাসে দেখা যায় ,প্রাচীন গ্রিসের মাতৃ আরাধনা প্রথার সূত্রপাত হয়। গ্রিকদের বিশিষ্ট দেবী, সিবেলের উদ্দেশ্যে পালন করা হতো একটি উৎসব। সেই ধারাবাহিকতার রেওয়াজে আধুনিকতার স্বর ওঠে।
১৮৭০ সালে আমেরিকায় গৃহযুদ্ধের পৈশাচিকতার দৃশ্য চারদিকে ছড়িয়ে যায় ।তখন সমাজকর্মী "জুলিয়া ওয়ার্ড হোই" নামে এক নারীর অবদান মনে রাখার মতো। তিনি ঐ পরিস্থিতিতে শান্তির জন্য "মাদার্স ডে প্রোক্লেমেশন" লেখেন ।এর মাধ্যমে রাজনৈতিক স্তরের সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মত দেন ।যুদ্ধশেষে পরিবার হীন অনাথদের সেবায় ও একত্রীকরণে নিয়োজিত হন, সমাজকর্মী আনা রিভিজ জার্ভিস ও ওনার মেয়ে আনা মেরি জার্ভিস ।আনা রিভিজ জীবনের বেশিরভাগ সময় অনাথ - আতুরের সেবায় কাটান ।এই সময়ে জুলিয়া "মা দিবস" পালন শুরু করেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে রিভিজ ১৯০৫ সালের ৫ ই মে মারা যান।
নিজের মা রিভিজ এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে আনা মেরি "মা দিবস" কে স্বীকৃত ছুটি হিসেবে পালনের পক্ষে কথা বলেন। আমেরিকায় পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সেন্ট "Andrew's Methodist" চার্চে মায়ের মেমোরিয়াল রাখেন । চার্চ টি বর্তমানে "International Mother's Day Shrine" নামে পরিচিত। রিভিজ কার্নেশান ফুল ভীষণ ভালোবাসতেন। "মাতৃ দিবস"এর পালনের সময়, নিজের ও সব মায়ের সম্মানে উপস্থিত মায়েদের দুটি করে কার্নেশন ফুল উপহার দেন।
১৯১২ সালে আনা মেরি জার্ভিস এর উদ্যোগে "International Mother's Day Association"গঠিত হয় ।এর মাধ্যমে প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মাতৃ দিবস উদযাপনের ব্যাপক প্রচার চালাতে সক্ষম হন ।অবশেষে মার্কিন কংগ্রেস একই ঘোষণা করে।জীবনের প্রতি পলে প্রতি সংকটে যিনি সব সময় পাশে থাকেন, তিনি পরম মমতাময়ী মা। এই মায়ের জন্য পৃথিবীতে আসা,আলো দেখা, হাত ধরে একটু একটু করে পথ চলা,ও জীবনকে বুঝতে শেখা। মা আছেন বলেই, মানবসমাজে সৃষ্টিশীলতার ধারা আজো প্রবহমান। তিনিই মায়া-মমতা ও নিরাপত্তার সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ আশ্রয়স্থল, অভিভাবিকা, শ্রেষ্ঠা শিক্ষিকা ও অকৃত্রিম বান্ধবী।
বর্তমান মহামারীতে মায়ের কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। অন্তত প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার "আন্তর্জাতিক মাতৃ দিবসে" নিজের মাকে "রানী"র মত রাখা উচিত। তাছাড়া অন্তরে প্রাতঃস্মরণীয় করে চিরদিন রাখা উচিত।
"অনন্য মাতৃ দিবস"
আনা রিভিজ জার্ভিস, মা এমন,
আনা মেরি জার্ভিস তার উপযুক্ত সন্তান।
জননীর অনন্য অবদান,
অমর করার জন্য সম্মান।
আসে প্রতি বছর মে মাস,
দ্বিতীয় রবিবারে মাতৃ দিবস।
বিশ্বের নানান দেশ করে পালন,
অবদানের অনন্যতায় মাকে উদযাপন।
পালনের মাঝে অনুষ্ঠানের বিভিন্নতা,
উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে থাকে অভিন্নতা।
"শব্দই - আশ্চর্য"
এক শব্দ - অক্ষরের আকর,
বিনা- সুদের ব্যাংক, ভালোবাসার।
এক ফোঁটা দুধের মতোই দামী,
স্নেহের পরশের অদম্য মরমী।
মায়ের দানেই সবাই ঋণী,
অপরিশোধ্য অন্তরে তা মানি।
হাসিতে ছড়ায় অবিরাম রোদ,
রহস্যময়তায় লুকায় অন্তরের সাধ।
"প্রকৃতির সৃষ্টি'
দুনিয়ায় সবুজ সেরা প্রকৃতি,
নেয় শুধু মায়ের আকৃতি।
ভাবে - আবেগে কত আকুতি,
পরম্পরা প্রকাশে থাকে সংস্কৃতি।
ভাস্কর্যের শ্রেষ্ঠতম স্থপতি,
কালের গরিমায় জানাই প্রণতি।
সংসারের গরিমায় তব কৃষ্টি,
স্নেহ - পরশে ভরা সেরা সৃষ্টি।
"অচেনায় - চেনা"
অচেনা মাটির প্রথম স্পর্শ দায়ী,
অজানা সাগরে প্রথম নিশ্চয়তা কারি।
অদেখা সংসারে তুমিই চোখের মনি,
অজানা জিনিস এর জানার বাণী।
খিদের সময়ে খাবার ভান্ডার,
পিপাসায় হয় জলের সাগর।
যন্ত্রণায় নিশ্চয়তার বিশ্বাস,
বিপদে নিরাপত্তার আশ্বাস।
মায়ের আদরে সেরা সুখ,
চোখের জলে বিশ্ব - দুখ।
মুখের হাসিতে আনন্দ সন্ধান,
অসুখে- বিসুখে নিরানন্দ মুখ।
পৃথিবী-সূর্য চির ঘূর্ণায়মান,
জল-জলজদের অবাধ সন্তরণ।
কলম-লেখকের মনের মিলন ,
মা- সন্তানের চিরদিনের বন্ধন।
,


পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব মা।
উত্তরমুছুন