মঙ্গলবার, ১৮ মে, ২০২১

আজকের গদ্য কবিতা।। অক্ষমতা নামক মৃত্যু — অলক জানা।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 







আজকের  গদ্য কবিতা 

অক্ষমতা নামক মৃত্যু 

অলক জানা 


অক্ষমতা ক্রমশ বেড়ে গেলে নীরবে মেনে নিত হয় অপ্রতিদ্বন্দ্বী অদৃষ্টের শাসন। কী করতে পারি?  কী আর করা যায় তখন। সবই যে হাতের বাইরে, সমূহ বিপর্যয় নীরব দর্শকের ভূমিকা মেনে দেখে যাওয়া ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নেই। এবার প্রশ্ন 'অক্ষমতা' কী? এর রূপ, প্রকৃতি কেমন অথবা আমাদের ভেতর কিভাবে বসত করে ? একটি মারণ ব্যাধির চেয়েও কী আশঙ্কাজনক ? অবশ্যই। একটি স্বরচিত লালিত পরাজয় অথবা পাঁকের খুঁটার মতো অমেরুদণ্ডী আদলে বিকারহীন ভাবে পরিবার রাষ্ট্র সম্পর্কের ভেতর জেগে ওঠা অসঙ্গতি মুখবুজে মেনে নেওয়া। 



এসব কথা লিখে কী হয় ? সবাই সচেতন সুস্থ গণদেবতা, ছোটোখাটো ব্যাপার কারো কিচ্ছু এসে যায় না। তবে নিজেকে এই পরাজয় ভূমির মধ্যে একটা আলাদা অনুভূতির জীব মনে হয়। কার্যত এসব হককথা বলার জন্য অকাল মরণ এসে যদি কড়া নাড়ে নির্দ্বিধায় তাকে গ্রহণ না করে উপায় কী ? ভোট-ভাইরাস, কাছেপিঠে স্বজন বিয়োগ, কালোবাজারি কত আর সহ্য করা যায় ? কারণ মানবধর্মের চেয়েও বড়ো ধর্ম হলো মানুষের নির্বাচিত অভিরুচি একটা অপশাসন আপদকে সযত্নে প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় রাখা। প্রীতিসুন্দর মানবপ্রেম এই ধরণের স্পর্শকাতর শব্দ এখন প্রায়শই দেখা যায় অর্থহীনতার অসুখে নিরন্তর ভুগছে। তার ফলস্বরূপ আনন্দের চেয়ে অসহায়তাকে আমরা মরমে বড়োবেশি উপভোগ করি। তাতেও কোন উষ্ণতা আওড়ানোর জায়গা কিংবা প্রয়োজন থাকে না। বরং সবকিছু অদৃষ্টের খপ্পরে সমর্পণ করে বেকুব আপদের জন্য প্রতীক্ষাপাঠ করতে থাকি জন্ম থেকে জন্মান্তর। 




এখন একটা কথা আলোবাতাস ও মননে ঘুরপাক খাচ্ছে----"যদি মরে যাই!" যেভাবে ডাইনে-বামে মৃত্যু-উৎসব, তাতে শ্মশানেরও বিস্তর অরুচি। তবুও সর্বত্র মৃত্যুর ফাঁদ, মৃত্যুর বিভীষিকা! ফলে এই আশঙ্কাই সর্বাধিক সক্রিয়। অন্যকিছু ভাববার সাহস এখন বাড়ন্ত। সুযোগ সন্ধানী বরাবর ঘোলাজলে মৎস্য শিকার প্রক্রিয়াকে সুদক্ষ কারিগরের প্রসন্ন সৌভাগ্য লাভ বলে মনে করে। তাই হয়ত ভোটব্যবসা, চিকিৎসা-ব্যবসা, শ্মশানব্যবসার মতো নবাগত কর্মসংস্থান একবিংশ শতকের বড়ো অলংকার। মুখে বললেও কতজনই বা সুন্দরের সুস্থতা চায়? সাবধানী স্বভাবে আজ যা কিছু গা বাঁচিয়ে পাশকাটিয়ে চলে যাওয়া তা আসলে একটি অক্ষমতা প্রশ্রয় ও লালন করে চলা। সেই সঙ্গে ভাবী পৃথিবীর প্রজন্মকে গাড্ডায় ফেলে দেওয়ার পথকে মসৃণ করা।অক্ষমতা সচেতন এক কারবারি। যে অদৃষ্টের দৌলতে সুদ সমেত আমাদের বিপন্ন বিষাদ ফিরিয়ে দিতে বড়োবেশি সচেষ্ট।






1 টি মন্তব্য:

  1. আমরা সবকিছুই বিনা দ্বিধায় মেনে নিই সবকিছু
    অপরাধ।যদি আমরা কাউকে মড়ার সাথেও সহবাস
    করতে দেখি আমরা না দেখার ভান করে সরে
    যাই। মানুষ এখন অনেক কিছুর সাথেই সমঝোতা
    করে নিতে শিখে গেছে।

    উত্তরমুছুন