বুধবার, ১৯ মে, ২০২১

পৃথিবীর উল্টো পিঠ (পর্ব—১০)।। বিশ্বেশ্বর রায়।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 









  পৃথিবীর উল্টো পিঠ (পর্ব—১০)

    বিশ্বেশ্বর রায়




পরদিনও যদিও আকাশে বেশ মেঘ ছিল, কিন্তু আমরা আজ ডাউন টাউনে বেড়াতে যাবই ঠিক করে ফেললাম৷ জয়দীপদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ডাউন টাউনের দূরত্ব হাঁটাপথে বড় জোর কুড়ি-পঁচিশ মিনিট৷ যদিও বাস আছে তবুও আমরা হেঁটে যাওয়াই স্থির করলাম৷ দুপুরের পর ঝির্ ঝির্ করে বৃষ্টি শুরু হল৷ তবে জোরে কখনও নয়৷ সোয়া চারটের দিকে যখন আমরা বের হলাম তখনও পুষ্পবৃষ্টির মত গুঁড়ো গুঁড়ো বৃষ্টিকণা ঝরছিল৷ দু'টো ছাতা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম৷ কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎই এক টুকরো কালো মেঘ মাথার উপর ছড়িয়ে পড়ল নিমেষে৷ আমরা আমাদের উদ্দিষ্ট স্থান থেকে তখন মাত্র চার-পাঁচ মিনিটের দূরত্বে ছিলাম৷ তখনই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি শুরু হল৷ একটু পা চালিয়ে অদূরে একটা ফ্লাইওভারের নীচে গিয়ে সবাই দাঁড়ালাম৷ মিনিট দশেক পরে বৃষ্টির প্রকোপ কমলে গ্রে হাউন্ড বাস টার্মিনাসে গিয়ে একটুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার বেরিয়ে পড়লাম৷ গ্রে হাউন্ড বাস টার্মিনাসের প্রায় গা ঘেঁষেই শুরু হয়েছে হার্টফোর্ডের অন্যতম বিখ্যাত   একটি পার্ক—বুশনেল পার্ক৷ বিশাল পার্কটা৷ ছবির মত সাজানো সবকিছু৷ পার্কে ঢুকতেই প্রথমে পড়ল এক অপূর্ব দর্শন ফোয়ারা৷ তার সামনে বসে ফটো তোলা গেল৷ একটু দূরে বিশাল এক গোলাকৃতি মণ্ডপ৷ তার চতুর্দিকে লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা৷ গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ভিতরের কিছু কিছু দেখা যাচ্ছে৷ আসলে সেটি বাচ্চাদের নানা মজার খেলার সামগ্রীতে পূর্ণ৷ আজ সেটি বন্ধ৷



     ঘুরতে ঘুরতে আমরা কানেক্টিকাট নদী ও তার উপরের ব্রিজে গিয়ে পৌঁছালাম৷ শান্ত, নির্মল, সুন্দর, অপ্রশস্ত নদী৷ ব্রিজের সামনে অদূরে একটি প্রশস্ত মার্বেল পাথরে বাঁধানো চত্তরের মত জায়গায় একটি স্ট্যাচু-স্ট্যান্ডে অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন ও হ্যারিয়েট বীচার স্টোর সাক্ষাৎকারের একটি দৃশ্য কালো কষ্টিপাথরে খোদিত মূর্তিতে দণ্ডায়মান৷ সমগ্র জায়গাটি এত শান্ত-সুন্দর মেয়ে-জামাই যদিও প্রায় একবছর এদেশে এসেছে, কিন্তু পুত্র, বৃন্ত এসেছে মাত্র মাসখানেক আগে৷ জয়দীপের মত বৃন্তও এসেছে তাদের ভারতীয় অফিস থেকে on site-এ৷ আসলে জয়দীপের কোম্পানি I B M এবং বৃন্তর কোম্পানি Deloitte—ওগুলো আমেরিকান কোম্পানি৷ ভারতে আছে ওদের শাখা-অফিস৷ তাই ভারত থেকে ওদেশে যাওয়াটাকে on site বলে৷ বৃন্তর অফিস হার্টফোর্ড থেকে অনেক দূরে, আমেরিকার দক্ষিণে Cansius City নামে ছোট্ট একটা শহরে৷ ওকে থাকতেও হয় সেখানেই৷ ওর সঙ্গে রোজই কথাবার্তা চলে Skype-এর মাধ্যমে সন্ধ্যায়, রাত্রে৷ ওদের এখানে মাসে দু'বার Salary Bill হয়৷ দু'সপ্তাহে একবার করে৷ সেজন্য এ মাসে ২৭ তারিখে ওর Salary পাবার কথা৷ কিন্তু প্রথম মাসের Salary এখানে যেহেতু Cheque-এর মাধ্যমে হয় এবং Cheque আসে আলাদা State থেকে, তাই ওর Cheque পেতে দেরী হচ্ছে৷ ভারত থেকে আসার সময় ওর কাছে যে টাকা(ডলার) ছিল (ভারত থেকে ওর কোম্পানি ওকে দিয়েছিল প্রাথমিক খরচাপাতি চালাবার জন্য) তাই দিয়ে এতদিন চালিয়েছে৷ এখন প্রায় শূন্য হাত৷ তাড়াতাড়ি যদি Cheque-টা না আসে তো মুশকিলে পড়ে যাবে৷ এক্ষেত্রে দেখছি আমাদের দেশের মত এখানের ডাক যোগাযোগ বেশ সময় সাপেক্ষ৷ তবে ওর সহকর্মীরা আছে, বিশেষত ভারতীয়, যদি প্রয়োজন পড়ে তাদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পেতে অসুবিধা হবে না৷ পরবর্তীতে ভারতীয়দের মধ্যে এই পারস্পরিক সহযোগিতার নিদর্শন অনেক দেখেছি৷

     বাবাই এখন ম্যারিয়ট হোটেলে আছে৷ অফিস থেকে এক মাসের জন্য সাময়িক ব্যবস্থা৷ এই এক মাসের মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজে নিতে হবে৷ ওদেশে ভাড়ার জন্য অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া কোনো কঠিন ব্যাপার নয়৷ এর মধ্যেই ওর অ্যাপার্টমেন্ট খোঁজা সারা৷ ওর অফিস থেকে গাড়িতে যার দূরত্ব ১৫-২০ মিনিট৷ সেই অ্যাপার্টমেন্টে ওর অফিসের একজন সহকর্মী থাকে—তাপস পাত্র৷ সে তার পরিবার নিয়ে অন্যত্র থাকে৷ ওই অ্যাপার্টমেন্টটাও ভাড়া নিয়ে রেখেছে অফিসের কাছাকাছি থাকার জন্য৷  











কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন