রবি স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি -৩৩
ব্রততী পরামাণিক
১.
হে মোর দেবতা
শয়নে,সপনে,জাগরণে হে রবীন্দ্রনাথ
আমার হৃদয় করেছো উন্মোচিত, মথিত,উত্তোলিত
ঋষিবর,প্রশান্ত মুখমণ্ডল, প্রদীপ্ত চোখ
আমিও খুঁজে বেড়ায় তোমার মধ্যে আমাকে
পাই,পেয়েও যাই আমার শত জিজ্ঞাসার উত্তর
আর তাই তো তোমায় আঁকড়ে পড়ে থাকি জীবনভর
জানি,অনন্ত পথের যাত্রী তুমি, অনন্তকালের সাক্ষী -
ঝড়-ঝাপটা,দুঃখ-যন্ত্রণাগুলো কাঁটা নয়
ফুল করে অঞ্জলিতে ভরিয়ে দিয়েছো,
বিশ্ব-বিধাতার কাছে অজস্র আকুতিতে
সমর্পণ করেছো নিজেকে, নিজের ব্যথামালাতে
আর তা সর্বজনীন করে বিলিয়ে দিয়েছো
"আমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই,বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে
এ কৃপা কঠোর সঞ্চিত মোর জীবন ভ'রে"
দিয়েছো দু-হাত তুলে, যা আমার মতো
অভাগীদের চলার পথের পাথেয়
মৃত্যু নয়, জীবনের মন্ত্রের গানেই
কন্টকাকীর্ণ পথকে সুকোমল করেছো
তোমার বাণীতে,লেখনীতে আর বিশ্বাসে
"হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ, প্রাণ
কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান।"
২.
সেই তো তুমি আলো
পরিচয় কবিতায়,গানে, গল্প-উপন্যাসে সাহিত্যের প্রতিটি আঙিনায়
তবু কত কাছের তুমি, আমার একান্ত আশ্রয়স্থল
বটবৃক্ষের মতো ছায়াদান, আর তৃষ্ণার্ত হৃদয়ে এক আঁজলা জল
আ:, মুক্তি,এবার শান্তি নিজের হৃদয় ও মস্তিষ্ক
"প্রভু আমার,প্রিয় আমার পরম ধন হে
চির পথের সঙ্গী আমার চিরজীবন হে"
সংসারের জ্বালায়, সমাজের জ্বালায় যখন জর্জরিত
কে উদ্ধারিবে? না তুমি, শুধু তুমি
হে রবীন্দ্রনাথ তুমি ত্রাণকর্তা,
সমস্যাদীর্ণ কন্টকতায়
প্রতিটি পদক্ষেপেই তোমার লেখনীই তো আমার সম্বল
পেটের ক্ষুধা নয়,মানসিক উৎপীড়নে চোখের জলেই দিনাতিপাত
কেউ নেই,কেউ নয় তখনই অপার প্রশান্তি দিতে হাজির তুমি
"তোমারে জানিনে হে, তবু মন তোমাতে ধায়
তোমাতে না জেনে বিশ্ব তবু তোমাতে বিরাম পায়"
হে সত্যদ্রষ্টা মহামানব,তুমি যে আমায় অনেক দিয়েছো
"অনেক দিয়েছো নাথ,আমায় অনেক দিয়েছো নাথ"
শূন্যতা পূর্ণ করেছো ,পূজার থালায় দিয়েছো অঞ্জলির ফুল
তোমার আলোয় আলোকিত হয়েছে আমার জীবনের সমস্ত অন্ধকার
"অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো
সেই তো তোমার আলো"
লেখা পাঠান 👇👇


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন