রবি স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি -৩২
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
১.
রবীন্দ্রনাথ -
আমার দৈনন্দিন তোমার বাণীতে বাঁধা
সহজপাঠ বুকে তোমার গভীর উপলব্ধির তত্ত্বতালাশে পথচলা
ভাবনায় অবিরাম সংক্রমণ পথভ্রষ্ট হতে দাও না রবীন্দ্রনাথ।
তোমার হিমালয় কুয়াশার ভেতর দুর্লঙ্ঘ্য সবুজ টান চলমানতার প্রণোদনা
সমুদ্রের গভীর নীলে আর শুভ্র ফেনায় প্রাণের স্পন্দন -- বিশ্বভ্রমণ।
একটু বিশ্রাম তোমার ভুবনডাঙায় সবুজ প্রান্তরে ছায়াময়
কথা আর সুরে পার হই ঊষর ভূমি
আঘাতে ভাঙে না আশা দুর্নিবার জয়ে প্রবল প্রত্যয়।
সূর্যের মতো জীবনের ইঙ্গিত সীমিত পৃথিবীর রং জাগানিয়া কৃষ্ণচূড়ায়
শিরীষ শাখায় বা চাঁপাগন্ধে উতরোল দিনের দিশায় মানসযাত্রা
শিলং পাহাড় বা শিলাইদহে নীলগ্রহের দিকে দিকে জেগে ওঠা
প্রাণ আমার রবীন্দ্রনাথ।
২
রবীন্দ্র-বরষায়
অবিরাম বৃষ্টির প্রতিবন্ধ দুর্লঙ্ঘ্য প্রাচীর বুকে দুরুদুরু ঘা
হাতে তুলি গীতবিতান
ধারাপাতে ঢেকে যায় বেসুরের স্খলিত ব্যবধান
প্রশ্রয় হাসিতে চেয়ে কোমলমন্দ্র রবীন্দ্র ঠাকুর
বকুলমুকুলে কদম্ব-কেয়ার কেশরে রেণুতে মিলন বাঁশরি
শ্যামলের বার্তা দেয় রিমঝিম মৃদঙ্গ মুরজ শঙ্খ হুলুরব
ঘনরাতে বাজে মেঘমল্লার বিজলি উজল ব্জ্রনাদ ছিঁড়ে দেয়
অভিসার জাল অসম্ভবের কোলে ভেঙে পড়ে ব্যর্থ আশা
এ কূলের ক্রন্দনমোহ সে কূলের পায় না নাগাল প্রিয়
তবু যদি মনেমনে জানো
বরষাকে আশ্রয় করে এসো মিলন ভরসায়।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন