বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১

ধারাবাহিক ভ্রমণ কথা( পর্ব-৫)।। পৃথিবীর উল্টো পীঠ — বিশ্বেশ্বর রায়।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 





ধারাবাহিক ভ্রমণ কথা( পর্ব-৫)

পৃথিবীর উল্টো পীঠ 

বিশ্বেশ্বর রায়




আমরা বললাম—'নিউইয়র্কে নামার পর আমরা তোর সঙ্গে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেছিলাম৷ কিন্তু কিছুতেই AT&T-র রেজিস্ট্রেশন করা গেল না৷ অগত্যা ট্যাক্সির খোঁজ করছি এমন সময় এক ভদ্রলোক এগিয়ে এসে তাঁ গাড়িতে করে আমাদের নিয়ে এলেন৷' 

'নিয়ে এলেন মানে! লিফ্ট দিলেন!' মুনিয়ার গলায় বিস্ময়৷ 

'আরে না না৷ ভদ্রলোকের এটা প্রফেশন৷ আর লিফ্ট দেওয়া! উল্টে ব্যাটা ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ ডলার এক্সট্রা ঝেড়ে দিলো৷' আমরা জানালাম৷

'ঝেড়ে দিলো মানে!' মুনিয়ার সবিস্ময় জিজ্ঞাসা৷ তখন আমরা পুরো ঘটনাটা বললাম৷ 'ইউ এস এ-তে পা দিতে না দিতে আমরা ঠকবাজের পাল্লায় পড়লাম৷ এ তো ইন্ডিয়ার ট্যাক্সিওলাদের মতোই কারবার!' সুমিত্রা অনুযোগের সুরে বললো৷

সব শুনে মুনিয়া হেসে বললো—'তাও তোমাদের অনেক লাভ হয়েছে৷ ট্যাক্সি খুঁজতে যদি আরও কিছু সময় নষ্ট করতে তবে এই বাসটা ধরা যেতো না৷ আর তখন এর ভাড়ার পঁচাত্তর ডলার জলে যেতো৷ আবার নতুন টিকিট কেটে কতক্ষণ পর ফেরা যেতো তার ঠিক ছিল না৷ আবার পরের বাসের টিকিটও যে পাওয়া যেতোই তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই৷ কারণ, সব টিকিট অ্যাডভান্স কাটা হয়ে যায়৷ যা হয়েছে ভালোই হয়েছে৷'




হাডসন নদী পেরিয়ে নিউইয়র্ক মহানগর ছেড়ে হাইওয়েতে এসে বাস চলেছে একটানা একই গতিতে৷ এই হাইওয়েতে  গাড়ির গতিবেগ ৬৫ মাইল প্রতিঘন্টা৷ অবশ্য গতির কিছু কম-বেশি ঘটে রাস্তার পাশে গতি-চিহ্নিত লেখা দেখে৷ এখানকার বাস ড্রাইভার এবং বাস পরিষেবা সম্পর্কে কিছু বলা প্রয়োজন৷ এখানে কোনো বাসে কন্ডাক্টর থাকেন না৷ ড্রাইভার নিজেই টিকিট পরীক্ষা করে বাসে উঠতে বলেন৷ প্রত্যেকটি যাত্রী ওঠার সময় ড্রাইভার পাশে দাঁড়িয়ে বলে চলেছেন—'ওয়াচ ইয়োর স্টেপ' কথা ক'টি৷ অত্যন্ত সৌজন্যমূলক, ভদ্র এবং হাসিখুশি ব্যবহার৷ পরবর্তীতেও যতবার দূরপাল্লার বা স্বল্পপাল্লার বাসে উঠেছি প্রত্যেকটি ড্রাইভারের কাছেই ঠিক একইরকম ব্যবহার পেয়েছি৷ এই ব্যবহার যে শুধু অআমেরিকানদের সঙ্গে তা নয়৷ প্রত্যেক যাত্রীর সঙ্গেই একই ব্যবহার৷ যা আমাদের কলকাতা তো বটেই, অন্যান্য প্রদেশেও আশা করা মূর্খামি৷ অবশ্য উত্তরাখন্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং কেরালাতে ড্রাইভার-কন্ডাক্টরদের কাছ থেকে কিছু ভদ্র ব্যবহার পাওয়া যায়৷

    আর একটা কথা এখানেই একটু বলে রাখি৷ যদিও ঘটনাগুলো দেখেছি বা ঘটেছে পরে৷ এখানকার রাস্তায় সব গাড়ি রাস্তার ডানদিক ধরে চলাচল করে এবং গাড়িতে ড্রাইভারের জায়গা বাঁ দিকে৷ আর যেহেতু বাসও এর ব্যতিক্রম নয় তাই বাসের ওঠানামার দরজা ডানদিকে এবং যাত্রীরাও রাস্তার ডানদিক ধরেই চলাচল করেন৷ নির্দিষ্ট বাসস্টপে, যেখানে যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকেন, ঠিক যাত্রীর সামনেই বাস দাঁড়ায়—একটুও এদিক-ওদিক নয়৷ তারপর দরজা খোলে৷ প্রত্যেকটি যাত্রী ওঠার পর দরজা বন্ধ হয়৷ কোনো তাড়াহুড়ো নেই, হাঁকডাক নেই, ছোটাছুটি নেই৷ আমাদের কলকাতার মতো স্টপেজ ছাড়িয়ে সাঁই সাঁই করে অনেকটা এগিয়ে থামা বা ড্রাইভারের মর্জি মতো স্টপেজের অনেকটা আগে, যেখানে যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছেন সেখানে না দাঁড়িয়ে অন্যত্র দাঁড়িয়ে পড়া, তারপর ক্লিনার বা কন্ডাক্টরের চেঁচানি, যাত্রীদের ছোটাছুটি, সব যাত্রী ওঠার আগেই বাস ছেড়ে দেওয়া(সেটা হয় যখন পিছনে একই রুটের অন্য বাস এসে পড়ে) না হলে দাঁড়িয়ে আছে তো আছে, চালাবার গরজ নেই৷ কারণ, বাসে যাত্রী যথেষ্ট গাদাগাদি হয়নি—এমন ঘটনা ঘটতে দেখিনি৷ অথচ আগেই বলেছি ওখানকার বাসে কন্ডাক্টর নামক কোনো কর্মীই নেই৷ যাত্রীরা বাসে উঠেই ড্রাইভারের ডানদিকে তিনটি কাউন্টারের একটিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা, অন্যটায় খুচরো পয়সা ফেলবেন ড্রাইভারকে দেখিয়ে অথবা বলে৷ আর যদি ওই বাস ছেড়ে অন্য বাস ধরতে হয় তবে বলতে হবে 'ট্রান্সফার', তখন একটা কুপন বা টিকিট বেরিয়ে আসবে যেটা পরের বাসের কাউন্টারে ফেলতে হবে৷ অন্যথায় কোনো টিকিট পাওয়া যায় না৷ পুরো ব্যাপারগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করে ড্রাইভার বাস চালাবেন বা বাস চলতে চলতেই ব্যাপারগুলো ঘটতে থাকবে৷ নামার সময় নির্দিষ্ট স্টপেজের আগে ড্রাইভারকে বললে বা ঘন্টি দিলে উনি সঠিক জায়গায় ধীরে সুস্থে যাত্রীকে নামতে সাহায্য করবেন৷ অর্থাৎ বাস দাঁড় করিয়ে সব যাত্রী নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তবে দরজা বন্ধ করবেন৷ সব সময়েই একটি নির্দিষ্ট গতিতে বাস চলে৷ কখনো জোরে বা কখনো ধিকিয়ে ধিকিয়ে নয়৷ কারণ, ওখানে বাসও নির্দিষ্ট স্টপেজে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছোয়৷ এক-আধ মিনিট পরে হতে পারে, আগে কদাচ নয়৷ আর যেহেতু বাস চলাচলের লেন রাস্তার ডান দিকে, ফলত কোনো বাস কখনও তার নির্দিষ্ট লেন ছেড়ে অন্য লেনে যায় না৷ যা আমাদের এখানে হামেশাই ঘটে৷ শুধু তাই নয়, অন্য গাড়িও বাসের সামনে এসে তার গতি রুদ্ধ করে না৷





চলবে...




আরও  পড়ুন 👇👇👇🙏


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/04/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_6.html





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন