বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১

ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১৮)।। নেপথ্য সংগীতের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।।

 






ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১৮)

নেপথ্য সংগীতের আড়ালে 

অনন্যা দাশ 




মামার বন্ধু ভেঙ্কাট আঙ্কেল এপ্রিল মাসের কুড়ি তারিখ ওদের বাড়িতে থাকতে এলেন। মামার ফ্ল্যাটেও থাকতে পারতেন কিন্তু তাহলে রান্নাবান্না সবকিছুই মামাকে করতে হত তাই উনি জিকো-কেকাদের বাড়িতেই উঠলেন। ওনার থাকার দিনগুলোতে মামাও ওদের বাড়িতেই রইলেন। প্রথম দিনটা বেশ হইচই করেই কাটল। ভেঙ্কাট আঙ্কেল বেশ আমুদে লোক। সন্ধেবেলা একজন ভদ্রলোক ভেঙ্কাট আঙ্কেলের সঙ্গে দেখা করতে এলেনবয়স্ক ভদ্রলোকলাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটছিলেন কিন্তু পোশাক আসাক বেশ শৌখিন। মার্সিডিজ গাড়ি করে এসেছিলেন। জিকো কেকাদের বসবার ঘরে দরজা বন্ধ করে কিছুক্ষণ কথাবার্তা হল তারপর ভদ্রলোক চলে গেলেনবেশ রাগতভাবেই গেলেন মনে হল।

 

জিকো-কেকা কিছু শুনতে পাওয়ার আশায় আশপাশেই ঘুরঘুর করছিল। ভদ্রলোক চলে যেতে মামা ওদের ডাকলেন, “উনি কি কথা বলতে এসেছিলেন জানতে চাস তো?” দুজনে প্রবলভাবে মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যাঁ বলল।“ঠিক আছে আয় তবে। ভেঙ্কাট তোমার জিনিসটা আরেকবার বার কর না হয়এদের দেখিয়েই দিই।”ভেঙ্কাট আঙ্কেল পাশে রাখা ব্রিফকেশ থেকে একটা ভেলভেটের বাকসো বার করলেন। বাকসোটা খুলতে ভিতরে একটা নীলচে সবুজ রঙের পাথর বেরিয়ে পড়ল। এত সুন্দর দেখতে পাথরটাকেচোখ ফেরানো যায় না!

 

ভেঙ্কাট আঙ্কেল বললেনএটার নাম সেরেনডিবাইট। শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায় মুলত এই পাথরটকেক্যালসিয়াম, ম্যাগনিসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকনবোরোন আর অক্সিজেনের একটা মিশ্রণের পরিণাম এই পাথরটা। অবশ্য ফর্মুলা খুবই জটি্ল। ভিপি গুণশেখর যিনি এই সব দামি পাথর নিয়ে কাজ করেন তিনিই প্রথম দুটো খুঁজে পান। এটা ওই জাতীয় পাথরের সে সব চেন ছোট তাও এটার দাম অনুমান এক মিলিয়ান ডলার”

 

“ওরে বাবা!”  

হ্যাঁ ওরে বাবাই বটে।” মামা হাসলেন।

কেকা বলল, “তার মানে ভদ্রলোক এই পাথরটা দেখতে এসেছিলেন।”

 

ভেঙ্কাট আঙ্কেল মুখ কাঁচুমাচু করে বললেন, “নামটা আর বলছি না কিন্ত উনি কোন জিনিস শুধু দেখে শান্তি পান না। উনি সব কিছুকেই কিনে ফেলে নিজের সংগ্রহের অংশ করে ফেলতে চান! কিন্তু এ জিনিস তো আর আমার নয় যে আমি বেচে দেব! আমি এটা কুয়ালালামপুর নিয়ে যাচ্ছি ওখানকার একজনের পৌঁছে দিতে। পরশু দিন আমার ফ্লাইট। কদিন আগে কলকাতা এসে পড়েছিলাম বলে মনে হল সাগরের সঙ্গে দেখা করে যাইতাই এখানে থেকে গেলাম।”

সেদিন রাতে আরো দুজন লোক এসে ভেঙ্কাট আঙ্কেলের সঙ্গে কথা বলে গেল।

 

পরদিন স্কুলে যাওয়ার পথে জিকো কেকাকে বলল, “ওই অত দামি পাথরটা আমাদের বাড়িতে রয়েছে ভাবলেই কেমন গায়ে কাঁটা দিচ্ছে তাই না?”

 

হ্যাঁ, আর লোকে জেনে গিয়ে যখন ভেঙ্কাট আঙ্কেলের সঙ্গে দেখা করতে আসছে তার মানে খবরটা রাষ্ট্র হয়ে গেছেসেটা ভাবলে তো৷ আরোই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।"




চলবে...




আরও পড়ুন 👇👇


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/03/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_30.html









 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন