শুক্রবার, ১২ মার্চ, ২০২১

প্রকাশিত হল।। অঙ্কুরীশা-র বসন্ত সংখ্যা।। কবিতা সংকলন।। Ankurisha ।। E.Magazine ।। Bengali poem in literature ।





অঙ্কুরীশা-র  বসন্ত সংখ্যা 

কবিতা সংকলন 


সূচি পাতা—
তপন বন্দ্যোপাধ্যায় 
জ্যোতির্ময়  দাশ 
অজিত বাইরী
গৌতম  হাজরা 
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় 
রবীন বসু
রবিন বণিক
বিকাশ চন্দ
মঙ্গল প্রসাদ মাইতি 
সঞ্জীব  দে
অমিত কাশ্যপ 
বিশ্বজিৎ রায়
সুধাংশুরঞ্জন  সাহা
অশোককুমার লাটুয়া 
অজয় দেবনাথ 
সুস্নাত  জানা
শুভ্রাশ্রী মাইতি
গৌতম  বাড়ই
তপন জ্যোতি মাজি
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় 
মঞ্জীর বাগ
স্বাতী ভট্টাচার্য পিউ
জয়দেব মাইতি
অশোক রায় 
সুবীর ঘোষ
কবিতা ভট্টাচার্য 
জগদীশ মণ্ডল 
ফটিক চৌধুরী 
ত্রিপর্ণা  ঘোষ 
শুভ্রশ্রী নায়েক
বৈদ্যনাথ  ধাড়া
ভবানী প্রসাদ দাশগুপ্ত 
আকাশনীল মাইতি
ডঃ রমলা মুখার্জি 
রিয়া মিত্র
রঞ্জন ভট্টাচার্য 
তনুশ্রী মল্লিক 
শ্রাবণী  বসু 
নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত
দীপা কর্মকার 
উষা দত্ত
অনুপ মজুমদার 
মালা ঘোষ (মিত্র)
অনিন্দিতা শাসমল
নিমাই আদক




বসন্তের কবিতা
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

তুমি যে এঁকেছ রক্তিম ভোরে ফাল্গুনছোঁয়া ফুল
তুমি যে এঁকেছ ফুলেল মুহূর্ত অনন্ত অতুল
তুমি যে গেয়েছ হিন্দোল রাগ তার রঙে রাঙা হয়ে
সবুজ প্রাণের সবুজ আকুতি ফুটে থাকে এ কিশলয়ে।


বসন্তের সম্পর্ক 
জ্যোতির্ময় দাশ 

বিষয়টি আপাত সহজ মনে হলেও ঘটনা তেমন নয়... 

# একটি সামাজিকতার চারপাশের বৃত্তে যারা রয়েছে 
যাদের সঙ্গে আমাদের প্রাত্যহিক দেখাশোনা 
বাজারের লৌকিক অথবা শ্মশানের অপার্থিব পরিবেশে 
তারা প্রতিবেশী হলেও তাদের কারো কারো মুঠোয় 
লোকানো বাঘনখ আড়াল করা থাকে। 

# সবশেষে আমাদের নিজেদের কথাই ধরা যাক 
এক দীর্ঘকাল আন্তর্জালের অক্ষপথে এই যে একসাথে চলা তবু আমাদের সম্পর্কের ব্যাসবাক্যটা জানা হল না। 

# এই বসন্তে চারপাশে কেবল মুখোশ  আর মুখোশ!  
একটা মুখোশের সঙ্গে অন্য আর একটি আপাত সাদৃশ্য মুখোশের কি সম্পর্ক?  তারা কি সহোদর?  


বসন্ত  এসে গেছে  

অজিত বাইরী  


 বসন্ত এসে গেছে; প্রকৃতই কি এসেছে

  বসন্ত? 

অগ্নিবর্ণ ধারণ করেছে কিশলয়, কোকিলের কণ্ঠে সুর। 

তবু কেন মনে জাগে সংশয়? কেন বারেবারে  

মনে হয়, চারিদিকে  ফুটে আছে রক্তের ফুল! 

 এ কেমন বসন্ত? বসন্ত কি শুধু ঋতু-বদল

 আর প্রকৃতির রঙ-বদল? চতুর্দিকে বইছে বিমর্ষ হাওয়া-  

ক্যাকটাস বনে পড়ে আছে ধর্ষিতা চাঁদ; 

তবু বসন্ত, আহা, কী অপরূপ, লাবণ্যময়ী বসন্ত!



এমন বসন্ত দিনে

গৌতম হাজরা

এমন বসন্ত দিনে মনে পড়ে অপেক্ষায় গড়িয়ে যাওয়া দিন
যে দিনে শিমূল পলাশ হয়ে তুমি এসেছিলে
ত্রস্ত ভীরু পায়ে। 

তখন এ শহর অন্যমনস্কের মতো 
আমিও তোমার পিঠে পিঠ রেখে ঘুমিয়ে পড়েছি জোনাকি আঁধারে
অচেনা কোনো  এক পাতার কুটিরে
যেখানে ভরা কোটালের জল কলকল ছলছল হয়ে
চৌহদ্দি ছুঁয়ে যায় অখণ্ড মায়ায় 
আমাদেরই ঘুমন্ত দরজার কাছে। 

এমন বসন্ত দিনে সাদাকালো জীবনকে সাজাই

তোমার অবাধ্য চুলে নিজেকেই টুকরো টুকরো করে! 




গাছতলার চালাঘর হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এমনভাবে কথা বলে যেন আর কখনও দেখা হবে না আমাদের সবটুকু এমনভাবে কুড়িয়ে নিতে চায় যেন আর কখনও কিছু চাওয়ার থাকবে না তার নদীর গায়েই আমাদের দেখা হয়েছিল সকাল দুপুর মেঘ রোদ নিয়ে অনেকগুলো দিন আমরা একসঙ্গে আছি একটা জানলাও খোলা নেই তবু বলে চলে যাব আরও কিছুদিন চলে যাওয়ার গল্প থাকবে তার দু'একটা বাণিজ্যিক কাগজে প্রকাশ হলেও হতে পারে তারপর হঠাৎ করেই একদিন সংসার গল্প কাগজ সব বেপাত্তা হয়ে যাবে সব অনুমান মিথ্যে করে দিয়ে গাছতলায় দেখা যাবে একটা চালাঘর বদলে যাবে সব প্রাত্যহিক সিলেবাস ।


আবারও বসন্ত এল 

রবীন বসু


আবারও বসন্ত এল, ভরে ওঠে শুকনো ডাল

মরা নদী প্রাণ পায়, নৌকো তুলে দেয় পাল।


সুদূরের ঘাট ভাসে মায়াজন্ম পড়ে থাকে কাল

জানি না কেন যে বলে সবকিছু লিখে রাখে ভাল।


আবারও দক্ষিণবায় শিমুলে পলাশে দেখে লাল

উড়িয়ে শরীর বিভা প্রেম নয়, দেখি কারও চাল l


গভীর গোপন এক স্ব-মেহন স্মৃতি চলাচল

আঁধারে আকুল হলে কণ্ঠ শুধু ধরে হলাহল l


যে বিষ অমৃতে আছে তারও তো নাম জানা চাই

পরানস্পর্শেই প্রেম তাকে যেন ফিরে ফিরে পাই l


আবারও বসন্ত এল, বেহিসেবি রঙের পিচকারি

এ জীবন কাকে ডাকে, কাকে করে তুইতোকারি







শ্রেণির বসন্ত
রবিন বণিক 

বসন্ত  মানে  এই  নয়  আমি    তুমি  স্পর্শ  করেছি  ঋতু

বসন্ত  মানে  এই  নয়  পলাশ  ঘিরে  অবিরাম  মধ্যবিত্ত  ঘর

বসন্ত  মানে  শ্রেণির  গায়ে  শ্রেণি  লেগে  থাকা  উৎকন্ঠা

বসন্ত  মানে  সিঁড়ি  বেয়ে  নেমে  আসা  বিবর্ণ  রোজগার

 

মৃত  চিন্তার  গায়ে  ছত্রাক  ফুটছে  দেখ

কলমের  পাশে  দুঃস্থ  বসন্ত  চর

 

বসন্ত  মানে  এই  নয়  

ঐকিক  নিয়মে  শূন্য  থেকে  ঝাঁপ  দেওয়া  কোনো  উচ্চতম  পলাশ





কৃষাণী অঙ্কুর
বিকাশ চন্দ

 
কৃষ্ণচূড়ার গর্ভকেশর জানে বাতাসের বশ্যতা---
অনবরত রাধা রঙ ছুঁয়ে কতবার কলঙ্কিনী চাঁদ, 
সলজ্জ গোলাপ জানে কিছু কাঁটা কুঁড়ি চুম্বন---
তবুও তো কুমারী স্পর্শ কাতরতা পাঁপড়ি বরণে। 
#
শীত কাতর শব্দেরা জানে ঋতুকালে রাহাজানি ---
সকল গাছের শরীরে পাতা ঝরা ক্ষত ময় সুখ,
কুঁড়ি মুখ জানে লুকোনো গর্ভকেশর কচি পাতা ঘেরা
বেলাগাম বাতাস ডাকে বসন্ত রঙের মিছিলে। 
#
আঁচলের জলছবি দেখেছিল মুকুলের নম্র দোলন
অচঞ্চল বাসনায় বোল তোলে বসন্ত বৌরি কোথায়, 
রাধাময় বাধা হীন কৃষ্ণ শরীরে আলো দোল পূর্ণিমার
গেরস্ত মানুষ জানে বুকের উষ্ণতা খোঁজে আবীরের রঙ। 
#
চাঁদের চাঁদোয়া জানে পাখিদের সান্ধ্য স্বরলিপি ---
শস্য ময় শরীর জানে বসন্ত পরাগ মাখে বিরহের সুখ,
সকল বেদনা ধুয়ে জলরঙে ভরে ওঠে সংসারি চিত্রপট
শ্যাওলা শরীর ছিঁড়ে মানুষের বুক ছোঁবে কৃষাণী অঙ্কুর। 


বসন্ত এসেছে – তবু

মঙ্গলপ্রসাদ মাইতি

 

এবেলা সকালে ফুটেছে গোলাপ,বিকালে রঙিন পলাশ

অশোকে-শিমুলে রঙ ছড়াছড়ি,বুকেতে দীর্ঘশ্বাস

 

মেলেছে পাপড়ি কৃষ্ণচূড়া,টুকটুকে লালে লাল

শাখায় শাখায় নতুন পাতা,শুষ্ক মনের ডাল।

 

বইছে বাতাস মিষ্টি-মধুর,ঝরাপাতা উড়ে যায়

মনের ঘরে দারুণ ব্যথা,কাকে যেন পেতে চায়।

 

কোকিলের ডাকে ভুবন মাতাল,অলি-ভ্রমরের গুঞ্জরণ

আমার প্রাণে এলোমেলো সুর,আসে না সুখের লগন।

 

হয়তো তুমি কাছে নেই বলে,বুকে এই বিরহ-জ্বালা

সব আছে যেন কিছু নেই,শুকায় প্রেমের মালা।

 

বসন্ত এসে গেছে
সঞ্জীব দে

আমি রাষ্ট্রের অধীনত সৈনিক।
কাঁটাতারের বেড়াটাকে বেশ খানিকটা এগোতে, ট্যাঙ্কের চালকের আসনে বসে।

সেনানায়ক আদেশ করতেই
আমি সুইচ টিপে দিলাম।

আমি অবাক,
তাজ্জব বনে গেলাম দেখে -
ঝাঁকে ঝাঁকে গোলাপ বেরিয়ে যাচ্ছে!

বসন্ত এসে গেছে
             বসন্ত এসে গেছে!


মাঘীপূর্ণিমা

অমিত কাশ‍্যপ

তুমি বলেই চল, সেবারের পূর্ণিমার কথা 
কেমন জ‍্যোৎস্নাচাদর মেলেছিল ফাঁকা মাঠে 
ওই মাঠেই তো গাজনের মেলা  হত
সেবার ওই মাঠেই তো যাত্রাপালা হল
বেহুলা-লক্ষীন্দর, পরের দিন হরিশ্চন্দ্র-শৈব‍্যা

চোখে জল এসেছিল, এখন সেই মাঠে কেমন জ‍্যোৎস্না
রাত নেমেছিল অনেক পর, তুমি হাত ধর না 
গ্রামীণ পথের বাঁকে পলাশ ছড়িয়ে আছে 
বসন্তের গল্প বল, তুমি বলেই চল
হাতে হাতে রাত নামছে, মাঘীপূর্ণিমার টিপ কপালে



ঋতুরঙ্গ  
 বিশ্বজিৎ  রায় 

প্রতিটা ঋতু এসে আমাকে জাপটে ধরে ভালোবেসে
কখনো গরম হাওয়ায়, কখনো  শ্রাবণধারায় প্রস্ফুটিত করে,
কখনোবা, শীতল হাওয়ায় কম্বলবন্দী করে রেখে দেয় ---
আমি ওই ঋতুরঙ্গ উপভোগ করতে করতে
খুব উচ্ছ্বল হয়ে উঠি,কখনো একদম চুপসে যাই ...

শরতের সোনাঝরা রোদের ছোঁয়ায়  বুকের খাঁচাটা 
রিমঝিম বেজে ওঠে, পৃথিবীটা যেন হঠাত বদলে যায়,
সেই  সুর বিলম্বিত লয়ে খেলতে খেলতে  এগিয়ে  চলে হেমন্তে ----

 রঙিন ফাগ উড়িয়ে যখন সে  বিদায় নেয় নিঃশ্বব্দে,
পাতাঝরা বৃক্ষের মতো আমার ভেতরটাও যেন
শুনশান, খা-খা হয়ে ভেঙে পড়ে 
বসন্তের অনন্ত  বিরহে ...


ফাগুনের জয়গান
সুধাংশুরঞ্জন সাহা

শিমুলের লাল ফুলে
বুনেছিল পাখি গান।
চোখে চোখে বসন্ত
ফাগুনের জয়গান ।

রঙে রঙে সেজেছিল
ঠোঁটে ঠোঁটে ছায়াপথ ।
সাগরের জলরাশি
মুছে দেয় শত ক্ষত ।

পলাশের রূপকথা
জীবনের রঙেরূপে ।
জোনাকির অপেক্ষায়
আকাশটা নানারূপে ।


নিষেধের নিষাদ তর্জনী নাড়ে

  অশোককুমার লাটুয়া 

আজও মরেনি সেই আদিম মন — যদিও সেই কবে মানুষ বেরিয়ে এসেছে 
অরণ্যের অন্ধকার খুলিগুহা থেকে। 
মেটেনি যেসব ইচ্ছা মানুষের- সেই ইচ্ছাগুলি আজও ভীড় ক'রে আছে 
রক্তের ভিতরে অ্যাকোরিয়ামে। 
প্রাক্তন মধ্যযুগ ফিরে আসে আধুনিকে বংশপরম্পরায়? 
নিষেধের নিষাদ তর্জনী নাড়ে — ক্রৌঞ্চ আর ক্রৌঞ্চীর ভাব বিনিময় 
একসাথে নয়। কোনারক মন্দিরের দেয়ালে মিথুন দৃশ্য 
নড়েচড়ে ওঠে — অকপট, অবাক, অপলক 
শুধু চেয়ে থাকে আশ্চর্য নিষ্পাপ জিজ্ঞাসায়। 
আজও মরেনি সেই আদিম মন। 
প্রথম আর দ্বিতীয় রিপু- বিকৃত সম্পর্কে আজও করে সম্বোধন। 
সভ্যতার পোশাকের নীচে যেমন উলঙ্গ ;তেমনি রয়ে গেছে অশ্লীল উচ্চারণ। 
নিষেধের নিষাদ তর্জনী নাড়ে — বসন্ত পঞ্চমীতে হলুদ পাঞ্জাবি-শাড়ি 
 ভাব বিনিময় একসাথে নয়। 



পরকীয়া

অজয় দেবনাথ

 

উদয়াস্ত সময়েরই রূপ বদল

হয় ভাবের ঘরে চুরি

নয়তো সূর্যাস্তে রক্তিম

খাজুরাহ-মৈথুনে অতীত-বর্তমান…

 

বিরহ পাষাণ চাপা বুকে—

ক্ষণিকের বেদনা-বিলাস

অক্ষম মেরুদণ্ডের দ্বিচারিতা।

সত্যাসত্য গোলকধাঁধায়

গেরস্থালি টেকানো কৌশল।

 

দমবন্ধ মানসপ্রাসাদে তবু পরকীয়া

বসন্তের একঝাঁক মেদুর বাতাস…


ফাল্গুন
সুস্নাত জানা

খনো কুয়াশা সকালে রাখে ঢেকে
স্নিগ্ধ ছায়ায় আলো হয়ে আসে ম্লান
দিগন্তে তার আলোর আগস্ট ঘিরে
হাওয়া গেয়ে উঠে পাতা ঝরানোর গান। 

বিবর্ণ ডালে ধীরে জাগে কচিপাতা
ঝলমল করে নাচে প্রকৃতির প্রাণ
কে যেন ডেকেছে অবেলার আহ্বানে
এলো কান্না হাসির আগুনে  ফাল্গুন। 


বাসন্তিক প্রেম

শুভ্রাশ্রী মাইতি

পলাশ গাছটার মগডালে দাউদাউ আগুন জ্বলে উঠলেই
ওরা দুজনে ঠিক এসে বসে ছাতিমের গন্ধভরা ছায়ায়।
হাতের মুঠোয় আদর ঘামে ভিজতে থাকে
রাধাচূড়ার নরম হলুদ চিঠি, প্রেমের।
দমকা বাতাসে একসাথে উড়তে থাকে বাসন্তী আঁচল 
আর বোতামখোলা পাঞ্জাবির দুঃসাহসী মায়া
ঢং ঢং করে বিপদের ঘন্টা বাজিয়ে চলে কৃষ্ণচূড়া একমনে...
একটা লাজুক নৌকা দুলে দুলে ওঠে ভরা নদীর বুকে গভীর আশ্লেষে
নাছোড় কোকিলটা ডেকে চলে শুধু কুহুডাকে
ততক্ষণ থামাবে না তার গান, যতক্ষণ না শ্বাসের গভীর আবেগে
বসন্ত এসে চেপে ধরে পৃথিবীর ঠোঁট জীবনকে ভালোবেসে...


বসন্তের বাসন্তী সাজে সাজায় প্রেমের ডালি
গৌতম বাড়ই



ধূসরিত সন্ধ্যায় তুলিকা লেপন চলে
নবপত্রে জেগে ওঠে প্রেম অনর্গলে
কিশলয় ছোঁয় হৃদয়ের হৃদয়ে সবুজে
যে নাজুক সাজ নিয়েছে মন অবুঝে
বুঝি তাই বসন্ত এসে গেছে-----

প্রিয়া তুমি ছায়া ঘেরা বাগানে বীথিতে
ছুঁয়ে যাও কথা বল মধুমাসে গীতিতে
অন্তরের আবেশে নির্ঘুম কী স্বপ্নের রেশে
ভালবেসে চেয়ে দেখ চোখে- চোখ মেশে
বুঝি তাই বসন্ত এসে গেছে-----

তুমি শিমুল তুমি পলাশ
তপনজ্যোতি মাজি

এই বসন্তে তোমাকে অন্য নামে ডাকতে ইচ্ছা হয়।
নতুন পাতার মতো তোমার শরীরে দিগন্তে লেগে থাকা  
সূর্যাস্তবেলার রঙ যত্নে বুলিয়ে দিতে ইচ্ছা হয়।
তোমাকে ছুঁয়ে বলতে চাই
জাগো প্রাণ জাগো।
প্রকৃতির মতো জাগাও নিজেকে।

বসন্তে জন্ম যার সে কি বাউল? সে কি প্রেমিক?
সে কি প্রণয়ী? সে কি  উড়ে যাওয়া রঙিন উত্তরীয়?
সে কি কৃষ্ণচূড়ার শীর্ষে  টু পয়েন্ট এইট
কৌণিক রেখায় চূর্ণ সূর্য্য কিরণ?

আমার বিস্ময় তোমাকে বসন্তের মতো ঘিরে আছে আজও।
তুমি রক্তবর্ণ শিমুল! তুমি আগুনবর্ণ অশোক!
তুমিই বসন্ত!



বুকের ভেতর পলাশ বাস
 দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়

পলাশ সৃক্কণী জুড়ে তোমার মনোমদ
মুনিম তোমার আস্য
সুকর সিসৃক্ষা সর্জমান
চুমকুড়িতেই লাস্য


পলাশ লালের আগুন লালের ফাগুন
চম্পূ তোমার ছন্দ
শৌন্ড বিলিখন স্তন
নর্দিত তব আনন্দ

ভালোবাসা তাই পলাশ মাতাল
বসন্ত যখন মহুয়ার কাল

লেখক: দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
উত্তর পাড়া হুগলি




রঙ
মঞ্জীর বাগ



চাঁদ, দোলের চাঁদ. বড় ভয় করে তোমায়

তোমার পূর্ণ গোলক আলোর ছটায় এক 
পাগল বের হয়ে আসে, ঢুকে পড়ে আমার ভেতর
দ্রাক্ষালতার মতো  তার চুল;
ঢুকে পড়তে চায় পলাশের বনে; 
 আমি বৃন্দাবনের বৃন্দগান দেখি
আগুনের আঁচ পাই

পোড়া গন্ধে ভরা যমুনা তটে ও ভালো  লাগে ভালবাসাবাসি গান,

রাধার পরণের বাস ছিঁড়ে গেছে,
এখনও গান অপেক্ষা করে, 
 সময়ের নদীজলে গানঘ্রাণ ভেসে গেলেও 
পলাশ ,আজই হোরি।




বসন্ত এসে গেছে 
স্বাতী ভট্টাচার্য পিউ 


বিষাদ মাখা ফাগুন আসে মন কেমনের সুর লয়ে। 
ঝরিয়ে পাতা গাছের তলে, ডাক দেয় সে কিশলয়ে।
ফাগুন পরি একলা বসে উদাস পারা মনটি তার!  
আসবে কবে বসন্ত তার, সাথে লয়ে রঙ বাহার!  
 শীতের বুড়ি কইলো হাসি  দিল তারে আশীর্বাদ ।  
ঋতুরাজের যাত্রা শুরু পেয়েছে সে সুসংবাদ।  
মনের মাঝে উঠল তুফান, প্রিয় তার আসবে কাছে। 
কুহু রবে কোকিল জানায় তারে,  বসন্ত এসে গেছে। 
গাছে গাছে সবুজ পাতা, লাল হলুদের ফুল বাহার।  
ঋতুরাজের সাথে ফাগুন খেলবে হোলি আর একবার।
আবীর লালে কৃষ্ণচূড়া সবার মন দেয় রাঙিয়ে। 
বসন্ত যে এসে গেছে,  প্রেমের সুধায় দাও ভরিয়ে।



গোপন রঙ
জয়দেব মাইতি 


স্বপ্ন মাখে চাঁদের আলোয়
অন্ধকার কাটে 
ফুলেল হয় চারপাশ 

অচেনা সম্পর্কে দাবিদার 
পলাশ- শিমূল - মহুয়া 
 গল্প করে 
ভালোবাসে
রঙিন হয়

রাত হারালে
দেহ থেকে খসে পড়ে বসন্ত রঙ


মন-বসন্ত
অশোক রায়

পলাশ এখন ভারি ব্যস্ত পুরুল্যের বনান্তে
বারান্দায় বসে মন্দ বাতাসে তার ছৌ নাচ দেখি
প্রকৃতির কানাচে এখনিই গ্রীষ্মের  তপ্ত নিঃশ্বাস
আসার আগেই চলে যাবে নাকি সে
যার আবাহনে কোকিল মুখর বসন্ত বাউরি
ভোরের আকাশ জাগে শীত-মাখা আবেশে
সুগন্ধি রাত বনজ্যোৎস্নায় মাতাল করে ত্রিভুবন 
অলসবেলায় কাঠফাটা রোদ্দুরে
খুঁজে খুঁজে ফিরি সেই মন-বসন্তের পাখিটাকে।।
                                                                    

বসন্ত এসে গেছে

 সুবীর ঘোষ

 

বসন্ত এসে গেছে, ভিজে যাচ্ছে আবেগধরণী,

পলাশে আগুন জ্বলে, পদচাপে ভেঙে যায় শুকনো পাতারা;

এমন খুশির দিনে সন্তর্পণে জাগছে উৎসব,

রাতে শুভ্র চাঁদ নামবে অভিসার পার্বণে।

 

বসন্ত এসে গেছে, মালঞ্চ পাহাড়ে ওঠানামা,

দুলছে বাঁধের জল, ঘণীভূত যাত্রী যাত্রিণী,

মনের ভাঁড়ার খুলে মাপে কান্নাজল,

এমন সুখের দিনে সন্তর্পণে জাগছে উৎসব।

 

বসন্ত এসে গেছে, নব রাধা শ্যামে

পলাশে রাঙিয়ে হাত, মুরুগুমা ড্যামে,

কোন্ পথ চলে যায় কত দূর পথে

আমাদের বাড়িঘর  জ্যোৎস্না ভাসাবে।



আলোর ধারা 
কবিতা ভট্টাচার্য

ঝাঁকড়া বকুল ফাঁক গলে তার 
আলোর ধারা 
রোদের তেজ — ডাকল কোকিল 
মন কেমনেই পাগল পারা 
ফাগুন দিনে লাগল আগুন 
শিমূল পলাশ ডালে ডালে 
মাতল হাওয়া ছন্দবিধূর 
নৃত্য কলার দৃপ্ত তালে 
লালমাটি সেই আঁকড়ে ধরে 
বলে উদাস যাস ধারে 
কঠিন যদি ভাঙতে পারিস 
হাওয়া ওড়া আঁচল ধরে।


বসন্ত ঐ দ্বারে

জগদীশ মন্ডল


শীতের আমেজ ছুটি নিলে দাখিন বাতাস আসে
ডালে ডালে আমের মুকুল মিটিমিটি হাসে,
লাল আবির ছড়িয়ে দে যায় কৃষ্ণচূড়া ফুলে
বসন্ত ঐ দ্বারে দাঁড়ায় বাসন্তী রঙ গুলে।

মুখ লুকিয়ে বসন্ত দূত ছিলো বহু দূরে
ঘুম ভেঙেছে সকাল সকাল কুহু কুহু সুরে,
কুচি কুচি সুরের ভাঁজে দোলের রঙে মন
ভুবন জুড়ে উঠলো মেতে ফাগুন মধুর ক্ষণ।


এবার গান হোক
ফটিক চৌধুরী

আমরা স্মৃতি থেকে মুছে দিতে চাই একটি বছর
আমরা বোধহয় এবার পেরিয়ে এলাম দুর্গম পথ
কতদিন আমরা একসাথে গান শুনিনি
তাই এবার গান হোক।

আমরা ভয়ার্ত ছিলাম, শীতার্তও
শীতদিন পার করে চলে এসেছি স্বপ্নের উদ্যানে
'আকাশ আমায় ভরল আলোয় 
                 ‌              আকাশ আমি ভরব গানে'।

সীমারেখার পাঠক্রম শিখে রেখেছি সবাই
ঋতুপর্যায়ে বসন্ত টানবে তার সীমারেখা
তার আগে এবার গান হোক।


হঠাৎ বসন্ত
ত্রিপর্ণা ঘোষ


হঠাৎ উড়োচিঠির মতো করেই আসল এক পশলা বৃষ্টি।
অকালে বর্ষন;
কিছুটা কৌতূহলী চোখে চোখ রেখে দেখি জানলার বাইরে,
শুষ্ক ভূমির বুক জুড়ে নেমেছে প্রেমের বৃষ্টি।
বৃষ্টিফোঁটায় ভালোবাসা মিশিয়ে এসেছে বসন্ত।

তার আলতো ছোঁয়ায় মাটি হয়েছে কোমল,
হীমেল দিনও আলিঙ্গন করেছে উষ্ণতাকে।
অপ্রেমীকের ঘুম ভেঙেছে কোকিলের ডাকে।
লাল পলাশের রঙ মনের মধ্যে আগুন জ্বালিয়েছে
অপ্রেমীকের সুপ্ত ভালোবাসার।

শান্ত দুপুরে উষ্ণ প্রত্যাশী প্রেমের হাওয়া রঙিন প্রেমের ডালি নিয়ে এসেছে আকুল প্রেমিকের কাছে।
গোধূলি শেষের বাতাস স্নান করেছে ভালোবাসার কাম্পিল্যে।
রন্ধ্রে রন্ধ্রে ভরে উঠেছে ভুবন ভালোবাসার স্পর্শে,
বসন্তের প্রেমে।


ফাগুন হাওয়ায়
শুভশ্রী নায়েক

পশমিনার ভাঁজ খুলে 
সুতির আলখাল্লা আভিজাত্য-
সাথে পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া;
বাউন্ডুলে মনে আনে বসন্ত।
ঘন কুয়াশার বুক চিরে
ঠিক যেন ঈগল দর্শন-
শিল্পীর মনে একতারার বোল তোলে,
চলে অনুরণন।
বেণী জুড়ে রঙিন মাদকতা
উৎসবের প্রস্তুতিতে মাতে-
ফাগুন হাওয়ায় আঁচল ওড়ানো
মহুয়া ছন্দে।

এখনো তুমি রঙ মাখোনি

বৈদ্যনাথ ধাড়া

                               

এখনো তুমি রঙ মাখোনি
ফাগুন দাঁড়িয়ে দ্বারে,
বাতাস তো তাই বলে গেছে
সে কথা বারে বারে।

লাল হলুদে শিমুল পলাশ
ছুড়ছে তাদের রঙ,
শুকনো পাতায় মচমচিয়ে
সবুজে সবুজ ঢঙ।

বেনেবউ ঠোকর মারে
পাকা পেঁপের গায়,
আকাশ ভরা নীলাভ রঙ
মাছরাঙাটি পায়।




সুখ বসন্ত
ভবানী প্রসাদ দাশগুপ্ত 

আজ বসন্ত এসে গেছে
দখিনা সমীরণে,
শিমুল পলাশ সেজেছে তাই
রক্তিম আভরণে।

রঙের মোহে আকুল হয়ে
পাখিরা উড়ে বসে, 
ময়না শালিক পরাগ মাখে
আনন্দে প্রেমের রসে।

আমের মুকুল থোকায় দুলছে
প্রকৃতির বাতায়নে
শিরিষ শাখে কোকিল ডাকে
বসন্তের আগমনে।


স্রোত 
আকাশনীল মাইতি

কৃষ্ণচূড়ার শাখায় এখন রঙিন বসন্তের অভিমান
একখানি গল্প লেখার ইচ্ছে নিয়ে 
নদীর পাড়ে দাঁড়াই
নদীর সাথে কাশফুলের সখ্যতা ছিল একদিন 
সবাই জানে,
অথচ তিনপুরুষসম গভীর গর্ত খুঁড়েও তার
 কোন প্রমাণ পেলাম না

তবে কি নোনাজলে শুধুই বেদনা ফুলে ওঠে?
একখান নৌকো নিয়ে ভাঁটার টানে চলি 
শৈশব মনে পড়ে। 



এসেছে বসন্ত
 ডঃ রমলা মুখার্জী

গাছেরা সব ঝিরঝিরিয়ে ঝরায় পাতাগুলি,
দখিন-বায় দেয় সবার হৃদয়-দুয়ার খুলি।

শিমূল পলাশ কৃষ্ণচূড়ার বনে লালের আগুন-
কচি পাতার ডালে চেপে এল প্রেমের ফাগুন।

তামস শেষে সজনে হেসে ফোটায় মিঠে ফুল,
বাহার রাগ গাইছে সুখে পরাণের বুলবুল।

লেবু ফুলের গন্ধ মেখে বসন্ত ঐ দ্বারে-
উচাটন মনটা তাই পথ পানে বারে বারে।

পলাশ ফুলের মালাখানি রেখেছি যত্নে গেঁথে-
মন-মন্দিরে প্রিয়তমের আসন রেখেছি পেতে।



প্রেমের ফাগুন
রিয়া মিত্র

ফাগুন হাওয়ায় মাতলো রে মন
লাগিয়ে প্রেমের পরশ,
পলাশ রঙ চুইয়ে ঝরে
মাতন হাওয়ার বরষ।
প্রভাত সূর্য ছড়িয়ে যাচ্ছে
আবির-রঙের আদলে,
আদিম মন দুলছে মত্তে
বাঁধনহারা মাদলে।
কৃষ্ণচূড়ার আড়ালে লুকিয়ে
প্রাণের রাই-কানাই,
আকুল পানে ডাগর চোখের
চোরা পথ হারাই।


বসন্ত আসে যায়
রঞ্জন ভট্টাচার্য 

বসন্ত এলো বুঝি কানায় কানায় 
আমার মনের খোলা জানালায় 
দিকে দিকে ফুলে ফুলে ঘিরেছে যে নদীকূলে 
আমার হৃদয় কূলে সে যে মিশে যায় ।

হারায়ে হারায়ে শেষে 
পেয়েছি যে ভালোবেসে 
আকুলি-বিকুলি মনে 
জীবনে বীণায়।

কী জানি কি হ'লো বেলা
আষাঢ়ে ফাগুন খেলা 
মেঘে মেঘে যায় বেলা 
কিসের আশায় !



বসন্ত আসে আর যায়
তনুশ্রী মল্লিক


বসন্ত আসে আর যায়, যায় আর আসে
অথচ হৃদয়ে পলাশ রঙ লাগেনা , 
সেখানে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ তিথি নিশ্চুপে বসে থাকে, 
বিদায়ী সূর্যের অভিমানী আলো এসে কার্নিশে ঝুলে থাকে, 
সমস্ত বিকেলের রঙ ম্রিয়মাণ হয়ে উঠলে বসন্ত বাতাসের গায়ে ঝরে
পড়ে অনাস্বাদিত চুম্বনের মোহ,
যে বাতাস দক্ষিণ থেকে উত্তরে বয়ে আনে মনকেমনীয়া সুর 
তাকেই কি বলে প্রেম ? না বসন্তর ডাক , 
প্রতিটা ঋতুর গায়ে লেগে থাকে ভিন্ন মাত্রা অথচ ফাগুন বাতাসে হৃদয়ে জ্বলে যায় তুষাগ্নীর চিতা,বসন্ত আসে আর যায় 
ঠোঁটের ওপর ঠোঁট
অপেক্ষায় বসে থাকে
একটি দীর্ঘ চুমুর পাশে।


বসন্ত এসে গেছে
শ্রাবণী বসু


আহা,সে কোন জন্মের পোড়া কোকিল!
কার্নিশে বসে শুনিয়ে গেলো-
হাজার বছরের পুরানো
চির নূতন সেই কথাটি-
'বসন্ত এসে গেছে'!

পুরানো পৃথিবী বসন পাল্টে
নতুন সাজে সেজেছে!
নদী, সরোবর,বৃক্ষ,লতা
মদনশরে পীড়িত হয়ে
প্রেমের রঙ্গে মজেছে। 




বসন্ত 
নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত 


বসন্ত, আহা বসন্ত, ফাগুন দিন
উছল হৃদয় যৌবনের পলাশ ঋণ।

যৌবন উপবন এক সুন্দরের 
নাকি মন্দির ঘরকুনো ঈশ্বরের। 

ঈশ্বর! পিঠে বড়শি বেঁধা ঈশ্বর 
চড়কগাছে ঝুলবে শেষে স্বপ্নঘর।

স্বপ্ন! আহা,হৃদয় ছাওয়া বসন্ত 
যৌবনে আনে অশ্রুভেজা অমৃত।

বসন্ত, ওগো বসন্ত, ঝরাও ফুল
সুন্দর হোক উছল এ হৃদয় কূল।


বসন্তের পদধ্বনি
দীপা কর্মকার 

দীপ্তির ছটা কৃষ্ণচূড়ায়
পলাশের বুকে রঙের আগুন
প্রকৃতির মনে প্রেম জেগেছে
এসেছে দ্বারে চৈতালী ফাগুন।

দেয়ার কুহুতানে নেশার আবেশ
নব কিশলয়ে যৌবন রূপ
রঙের মোহিনী খেলায় মাতাল
পুষ্পে পুষ্পে অলি মধুপ।

হৃদয়ের খাঁজে উত্তাল ঢেউ
রঙের ফাল্গুনী এনেছে বসন্ত
শিহরণে আজ কম্পিত হিয়া
কল্পনা-চুম্বনে মন অশান্ত।

দহনি নিঃশ্বাস
ঊষা দত্ত 

বসন্ত এসেছে পলাশে ফাগুনে 
নকশীকাঁথা হৃদয় জুড়ে,  

শিমুল-পলাশে-গোধূলি-আবিরে 
কিশোর-কিশোরীর অন্তপুরে। 

কোকিলের টুঁয়োটুঁয়ো গানে মন ওড়ে,   
ফুলে ফুলে যেথা ভ্রমরেরা গুঞ্জরে। 

বসন্ত এসেছে দুয়ারে বাঁশরী বাজে ওই,  
রাধামন প্রেমের আগুনে পোড়ে সই। 

দখিনা বাতাস কানে কানে বলে যায়, 
 প্রেমময় জীবন সদাই দহনি নিঃশ্বাসে ধায় ৷



আঁধার আড়ালে 
অনুপ মজুমদার 

অদেখা সেই অজানা রইলো আমার অচেনা
যতই তারে জানি ততই আমি শুনি,
"আমি অসীম কেমন করে চিনবে আমায়
নিজের কাছে রয়েছি আমি নিজেই অজানা।"

যতই ভাবি আপন করে জানবো তারে
একটু জেনেই মরি আমি অনেক অহংকারে
জানার কি আর শেষ আছে যতই চিনি তারে
সে শুধু যায় বাজিয়ে সুর উতাল সুরে সুরের বাঁশীটারে

এমনি করে ফুরাবে কাল থামবে বাঁশী হঠাৎ করে
আমার দেখা আমার জানা, আমার শোনা আমার চেনা
কালের বুকে থাকবে পড়ে অচেনারই অন্তরে
সকল আলো আঁধার হবে অজানা সেই গহ্বরে।



রঙিন হও  
মালা ঘোষ (মিত্র) 


এক ফাল্গুনের সন্ধ্যায়
বিবর্ণ পাতাঝরা গাছে
নতুন পাতায় যখন ভরে যাচ্ছে
সেই মহেন্দ্র ক্ষণে ---
নির্মল হাসিতে, মুগ্ধতায়
পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণ চূড়া
পূর্ণতা পায় রঙিন করে
এলোচুলেও নিস্তব্ধতা অবশ করে 
হৃদয় রাঙানো বসন্ত
সজ্জার আবরণে ঢেকে রাখে। 



অনুভবের পলাশ 
অনিন্দিতা শাসমল

বসন্ত মানে অযোধ্যা পাহাড় অথবা আদ্রা ছাড়িয়ে জয়চন্ডী,গড়পঞ্চকোট,বড়ন্তির পথে আগুন ছড়ানো পলাশ।

রাধাচুড়ার রেণু মাখা লজ্জারাঙা মুখ 
আর খোঁপায় তোমার পরানো পলাশের মালা।

প্রতিবছর এই স্বপ্ন দেখতে দেখতেই দোল চলে আসে;  রঙিন মন তখনও অপেক্ষা করতে করতে
কখন যেন দিগন্তে আগুনের হলকা পুড়িয়ে দেয় হৃদয় ।


আজ বসন্ত
নিমাই আদক

যে কথা বলা হয়নি তোমাকে, লজ্জা কিংবা সংকোচে
বিনি সুতোয় গাঁথা সেই কথামালা...
অজস্র পাতা ঝরে এলোমেলো হাওয়ায়
আজ বসন্ত, আমার মনের দুয়ার খোলা ।






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন