ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (পর্ব-১৩)
নেপথ্য সংগীতের আড়ালে
অনন্যা দাশ
উদয়পুরের লক্ষ্মীবিলাস হোটেলের উপর আমাদের লোক নজর রাখছে। তুমরা যাচ্ছ না থাকছ আমরা সব খবর রাখি। তুমরা কালকের মধ্যে না গেলে খুব মুশকিল হবে বলে দিলাম! আমরা কোন হানি করতে চাই না কিপ্তু কাজে ঝামেলা করলে যা কিছু হয়ে যেতে পারে। তুমার ভাইটাকে ফোন লাগাও,” বলে লোকটা মাকে একটা মোবাইল ফোন এগিয়ে দিল। মা নম্বর টিপতে ওপাশ থেকে মামা ধরলেন। মা কিছু বলার আগে লোকটা মার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে বলল, "তুমার দিদির লড়কার কানটা কেটে পাঠাব নাকি তুমাকে?”
“কে? কে বলছেন?”
“আমি কে সেটা জানা জরুরি কি? তুমরা ওই ছোকরার মদত করা না ছাড়লে লড়কার কান আর লড়কির হাতের ছোট উঙ্গলী কেটে তোমাকে পাঠাব। মিথ্যা কথা বলছি না।”
২৩
একটু পরেই অখিলবাবু ফিরে এলেন, বললেন, “প্লেন তো ছেড়ে দিল, আমি আর থেকে কি করব তাই চলে এলাম। প্রচুর ঝামেলা হল, বোর্ডিং পাস নিয়ে চেক-ইন করেও কেন প্লেনে চড়ব না সেটা বোঝাতে। উফ্ফ একেবারে নাজেহাল করে ছাড়ছিল। যাইহোক, কোন খবর আছে?”
“একটু আগেই ফোন এসেছিল একটা।”
“ও, কে করেছিল?”
“একটা লোক। বলল ওদেরকে ধরে রেখেছে। আমাকে প্রিয়ব্রতর কেসটা ছাড়তে বলছে না হলে নাকি জিকোর কান আর কেকার আঙ্গুল কেটে পাঠাবে বলেছে। আমি তো বললাম যে ওকে আমি সাহায্য করব না কিন্তু তাতে হবে না। আমাকে জয়পুর ছেড়ে যেতে হবে। আমি লোকটাকে বললাম যে জয়পুরে আমার অন্য কাজ আছে চাকরি সুত্রে, তখন ও ফোনটা রেখে দিল। আমি দেখি অফিসের সঙ্গে কথা বলে। অরিন্দম তো রয়েছে আরো দুজন বড় সাহেবও আসছেন, আমার এখানে না থাকলেও চলবে। শুধু ওদের যেন ছেড়ে দেয়। এদিকে এখানে ফ্রন্ট ডেস্কে জিগ্যেস করলাম গাড়ি কোথা থেকে ডেকেছিল, তখন ওরা একটা কম্পানির কথা বলল। তাদের সঙ্গে কথা বলতে তারা বলছে যে এই লোকটা ওদের রেগুলার ড্রাইভার নয়। অত সকালে ড্রাইভার পেতে অসুবিধা হচ্ছিল আর এই লোকটা ওদের অফিসে গিয়েছিল হয় চাকরি খোঁজার জন্যে বা অন্য কারো সাথে সেটা ওরা ঠিক বলতে পারল না। সকাল পাঁচটায় কে যাবে তাই নিয়ে ওরা যখন নিজেদের মধ্যে কথা বলাবলি করছে তখন লোকটা বলে যে সে যেতে পারে। ওরা নিজেদের গাড়ি দিতে চায়নি অচেনা লোক বলে, তখন সে বলে আমার নিজের গাড়ি আছে। সেই গাড়ি নিয়েই ও এসেছিল। তাই গাড়ির নম্বরও ওদের জানা নেই।”
“এতো ভয়ানক বিপদ হলো।”
“হ্যাঁ, কি যে করব বুঝতে পারছি না। পুলিশের সঙ্গে কথা বললাম। যে মোবাইল ফোন থেকে ফোনটা এসেছিল সেই নম্বরটাও দিলাম। ওরা বলছে ওরা দেখছে। কিন্তু তারপর আর ওদের সাড়া পাত্তা নেই। এদিকে বেচারা প্রিয়ব্রত কালকে বিছানায় খুলি রাখা দেখে ফোন করেছিল। আমি বলেছিলাম আজ সকালে যাবো কিন্তু এখন তো আর যেতে পারব না। মহা বিপদ হয়েছে৷ আমারই দোষ, দিদিকে লুকিয়ে এইভাবে এখানে নিয়ে আসলাম আর এখন কোন্ ফাদে পড়ে গেছে ওরা”
অধিলবাবু অবশ্য বললেন, “তবে একটা কথা আপনি লুকিয়েছিলেন, কালনাগ আর ধূজর্টিববর ব্যাপারটা, প্রিয়ব্রতর ঘটনাটা তো বৌদি জানতেন কারণ ওর দাদা তো জিকোদের বাড়ি গিয়েছিলেন”
“হ্যাঁ, তা ঠিক।”
“আপনি ওই নম্বরে আর ফোন করার চেষ্টা করেছিলেন?”
“হ্যাঁ, বারবার কিন্তু এখন সেটা সুইচ অফ করা, ভার মানে আর কথা বলতে চায় না। ধূসর রঙের গাড়িটা ছিল যদি
নম্বরটা লিখে রাখতাম!”
“আপনি মিছিমিছি ওসব ভাবছেন। ওর যদি মতলব খারাপ থাকে তাহলে নম্বর প্লেটও ভুয়ো হবে।”
মামা আবার পুলিশকে ফোন করলেন কোন খবর আছে কিনা জানার জন্যে। আরো কিছুক্ষণ পুলিশদের সাথে কথা বলে
সময় কেটে গেল।
মামা ক্রমাগত ঘরময় পায়চারি করে বেড়াচ্ছেন দেখে শেষে দুটো নাগাদ আর থাকতে না পেরে অখিলবাবু বললেন, “এবার
একটু কিছু খেয়ে নিলে হয় না? না খেলে তো আপনার শরীরও খারাপ হয়ে যাবে তখন কি আর ওদের কোন লাভ হবে?”
“চলুন,” বলে দুজনে হোটেলের লবিতে যেই নেমেছেন অমনি একটা পুলিশের গাড়ি এসে হোটেলের সামনে দাঁড়াল। গাড়ি থেকে বীরদর্পে নেমে এলো জিকো-কেকা আর ওদের পিছন পিছন ওদের মা-বাবা।
“মামা!” বলে জিকো তো মামার গলা ধরে ঝুলে পড়ল।
“আরে তোরা ... কি করে - মানে ...?” মামা আর অখিলবাবুর মুখ দিয়ে আর কথা বেরল না।
“আমরা ভীষণ ভীষণ লাকি! একটা বাচ্চা ছেলে ছাগল চড়াতে গিয়ে আমাদের অজ্ঞান অবস্থায় গাড়ি থেকে বার করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটা দেখতে পায়। সেই পুলিশকে খবর দেয়। তারপর ওরা এসে আমাদের উদ্ধার করে কিন্তু আসল বদমাইশরা পালিয়েছে। ওদের ধরা যায়নি।”
তারপর হই হই করে খাওয়াদাওয়া আর গল্প। মর্টনকারির অর্ডার করতে যাচ্ছিলেন মামা, মা বললেন, “না, না, আজ ছাগলের মাংস কিছুতেই খাব না! রামুর ছাগল কালুয়া পালিয়েছিল ঝলে আমরা আজ জ্যাপ্ত ফিরতে পারলাম! না হলে কি যে হতা”
খেয়ে উঠে জিকো বলল, “মামা আমাকে কুড়ি টাকা দেবে? হোটেলের লবির সাইবার ক্যাফেটা থেকে একটু বন্ধুদের জানাবো আমাদের অভিজ্ঞতার কথা।”
মামা এমনিতে কথায় কথায় টাকা চাওয়া বা দেওয়া একদম পছন্দ করেন না কিন্তু আজকে কিছু না বলে পকেট থেকে টাকা বার করে দিয়ে দিলেন।
চলবে...
আরও পড়ুন 👇👇
https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/02/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_24.html

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন