শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

বইমেলা সংখ্যার গল্প ।। পেসেন্ট — বহ্নি শিখা

 



বইমেলা সংখ্যার গল্প    


পেসেন্ট 

বহ্নি শিখা


হ্যালো,হ্যাঁ সীমা বল। 

--অর্ক বেরোবি? 
--জরুরী কিছু?
-- না,তেমন কিছু না। বেরোবি কি না বল। 

-- হ্যাঁ, বেরোবো। এগারোটার দিকে। একটা কাজ আছে, সেটা সেরে। কেনো বলতো?
-- এলে বলবো। রাসবিহারী পার্কের সামনে আমি থাকবো। আসার আগে একটা ফোন দিস। 

--ওকে।

স্নান সেরে সীমা খেয়ে অপেক্ষা করছিলো। একটু পরেই অর্কর ফোন পেয়ে বেরিয়ে গেলো। 

-- কিরে, জরুরি তলব করলি সব ঠিক তো?

--নাহ, কিচ্ছু ঠিক নেই। আমি পাগল হয়ে যাবোরে। এভাবে আর কিছুদিন চলতে থাকলে আমাকে পাগলা গারদে ট্রান্সফার করতে হবে দেখিস।  

-- একথা বলছিস কেনো? নিজের বাড়িতে নিজের ফ্যামিলির সাথে থেকে এমন ভাবার কোনো কারণ দেখছি না। অ্যান্টিকে এতোটা খারাপ বলে তো মনে হয় না। একটু মানিয়ে চল। তাহলেই তো হয়। 

--ওকে জাস্ট অসহ্য লাগে। ওকে আমি আর সহ্য করতে পারছি না। 
একদিন দেখবি ওকে খুন করে জেলে গেছি।

-- কেনো কি করেছে? এতোটা ক্ষেপে গেলি?

-- কি করে না সেটাই বল। আমার যা যা অপছন্দ সব তার করা চাই। আমি যদি কিছু বলি এমন আচরণ করে যেনো রাজ্যের অপরাধ করে ফেলছি। দাদা তো পড়ার নামে বিদেশ চলে গেলো। 


-- অ্যাংকেল কিছু বলে না? তুই বলিস না আংকেলকে?

-- বাবা তো প্রায় সময় বাইরে থাকে। যখন সামনাসামনি কিছু হয়ে যায় তখন বাবাই বলে। আমিও বলি বাবাকে। কিছুতেই কোন লাভ নেই। সে শোধরাবার নয়। যা ইচ্ছে বলে অপমান করে তাই বাবাও এখন চুপ। 

-- অনেক তো ঘোরাঘুরি হলো, চল আস্তে আস্তে ফেরা যাক।

-- এখনি যাবি? চল একটু বসি। সারা পার্ক চষে বেড়িয়েছি। একটু বিশ্রাম করে যাই। ক্ষুধা পাইছে ভীষণ। 

-- কি খাবি বল? খেতে খেতেই বিশ্রাম  করা যাবে।

--ওয়াও! তুই কত্ত ভালোরে! চল কাচ্চি বিরিয়ানি খাই। এবারেরটা তুই খাওয়া । পরের বারেরটা আমি খাওয়াব তোকে। 


জানিস বাসায় গিয়ে দেখবো হয় শুটকি রেধেছে,নয় তো একগাদা সবজি সেদ্ধ করে রেখেছে। একটা শাক আর সাথে  অপছন্দের  মাছ করে রাখবে। বলবে এটা শুধু তোর জন্য। যেনো কত্তো আদর করে আমাকে। আর বাবা তো শুনেই খুশি। হেহ,।

মা'র রান্নার ধারে কাছে যায় না ওর রান্না। মা সব সময় আমি কি পছন্দ করি সেটা রান্না করতো। 


অর্ক মনে মনে ততোটা সায় দিতে পারছে না। সে জানে,খেয়েছে। আন্টি খারাপ রান্না করে না। সীমা একটু না অনেকটাই বাড়িয়ে বলে৷ 

 কারণ তার সাথে কয়েকবার সামান্য কথাতেই সে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে, আবার নিজে থেকেই  যোগাযোগ করেছে। যা ওকে বললে আর রক্ষে নেই। সে ভাবছে এবারের মতো ছুটি পাই আগে। 

অর্ক জানে না সত্যিই  সীমার সমস্যা আছে। ডঃদীনবন্ধুর পেসেন্ট। 


--------------------------------------------------------------------------------

আপনিও আপনার সেরা মৌলিক অপ্রকাশিত লেখাটি  আজই পাঠিয়েদিন। মতামত জানান। 

ankurishapatrika@gmail. com

--------------------------------------------------------------------------------                    

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন