সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মদিনে
অঙ্কুরীশা-র কবিতায় শ্রদ্ধাঞ্জলি
কলমে-
১.
জাগুন, বন্ধু জাগুন
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
পথ সব রক্ত ঝরা
এগিয়ে চলছে পা
মুষ্টি বদ্ধ হাতেরা সব
শত্রুর বুকে ঘা
রক্ত চেয়ে বজ্র কন্ঠ
স্বরাজ এবার চাই
বেয়নেটের ভয় আর নয়
মুক্তির গান গাই
চাওয়া সব পাওয়া হল
তুমি রইলে না
দেখছে মা তোমায় চেয়ে
কবে ফিরবে ছা
বাস্তব আজ প্রয়োজন হয়ে
বাঁচার শপথে আগুন
স্বাধীন তো আজ আমার দেশ
বন্ধু এবার তো জাগুন।
২.
শ্রেষ্ট বাঙালী নেতাজী
ভবানী প্রসাদ দাশগুপ্ত
পরাধীন সেই ভারত বর্ষের
উড়িষ্যার কটক শহরে,
জন্ম নিলো ধনীর দুলাল
মা প্রভাবতীর উদরে।
নাম ছিলো তার সুভাষচন্দ্র
নম্র স্বভাবে ডানপিটে,
শিক্ষা দীক্ষায় কাটলো শৈশব
তার স্থানীয় বিদ্যাপীঠে।
পিতা জানকী নাথ বসু
ছিলেন মস্ত বড় উকিল,
তখন ছিলো ইংরেজ শাসন
পরিস্থিতি ছিলো জটিল।
ব্রিটিশ তাড়াও আন্দোলনে
সারা ভারত ছিলো উত্তাল,
ইংরেজ মারায় ক্ষুদিরামের
ফাঁসির আদেশ রইলো বহাল।
ফাঁসির আদেশ শুনে সুভাষ
জিজ্ঞাসে তার দাদা ভাইকে,
ক্ষুদিরামের কি দোষ ছিলো
কেনো ফাঁসি দিবে তাকে।
আদ্য প্রান্ত জানতে পেরে
তার মনে পায় বড় কষ্ট,
বিদেশীদের অত্যাচারে
স্বদেশীরা আজ দিগভ্রষ্ট।
দেশ মাতৃকার স্বাধিকার
আদায়ে সুভাষ নেয় শপথ,
ইংরেজদের তাড়াতে হবে
সামনে আসুক যতো বিপদ।
দাদা রাজবিহারী বসুর
হাত ধরে চলার পথ শুরু,
শিক্ষা দীক্ষায় প্রধান শিক্ষক
বেণী মাধব দাস তার গুরু।
স্বামী বিবেকানন্দের বানী
পড়ে আনতো মনে সাহস,
সাহস গুনে ঐক্য গড়তো
যেন না আসে কোন ধস।
কলকাতার যুব কংগ্রেসে
তিনি ছিলেন সভাপতি,
সেই কলকাতা পৌর সভার
তিনিই সার্থক অধিপতি।
মহাত্মা গান্ধীর কুট চালে
রাজ্য কংগ্রেসের পদ হারায়,
দেশের শত্রু দমন করতে
পরাশক্তির সাহায্য চায়।
পয়তাল্লিশ হাজার ফৌজ নিয়ে
হয় ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল আর্মি,
সুভাষ বোস তার মূল কর্ণধার
প্রশিক্ষণে নিয়ে গেলেন বার্মি।
সেই থেকে নেতাজী নামে
ধন্য সুভাষ চন্দ্রের খ্যাতি,
শ্রেষ্ঠ বাঙালীর সম্মান তার
সংগ্রামী জীবনের সাথী।
"তোমরা আমাদের রক্ত দাও
আমি স্বাধীনতা দেবো",
এই ছিলো নেতাজীর বাণী
আজকের দিনে সবাই ভাবো।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন