বুধবার, ১৩ মে, ২০২০

নির্বাচিত কবিদের কবিতাগুচ্ছ




শুভঙ্কর দাস


----------------------
শু ভ ঙ্ক র দা স  





     পরমহংস



অমরত্ব আলাদা করে চাই না!

যতদিন দিন মৃত্যুর নিচে শুয়ে থাকি,প্রতিটি জ্যোৎস্নাকে মনে হয়ে মৃতদেহের ওপর চাপানো সাদা কাপড়!

যতদিন জীবনের মধ্যে জাগিয়ে রেখেছি জানালা,সেখানেই দেখে নেব যতদূর চোখ যায়,বেঁচে থাকার
হাত পেতেছি,বৃষ্টি রাখার!

তাহলে মুক্তির কী হবে? জন্মজয়ের কোনো পথ,রেখা বা দৃশ্যের দৃশ্য! 

শুধু এটুকু আকাশ, পর্দা উঠলে দেখি,কেউ নেই চরাচরে

ঈশ্বর শুয়ে আছে যন্ত্রণায় কর্কটরোগে একা দক্ষিণেশ্বরে!




     তৃণ



নদীর যা ঢেউ গোপন করা আছে,তটে
সেখানেই ঘর বেঁধে আছে রক্তমাংসের নৌকা
দূরদিগন্তে যেটুকু লালরঙ আছে,তাতে রামকিঙ্কর সহাস্য, কাছে আসি!

শুধু জলের নাভি থেকে ওঠে শব্দ, ভালোবাসি

একটি তৃণ পৃথিবীর সব সবুজ নিয়ে জেগে আছে!



     আঙুররঙা আকাশের নিচে



গৃহের বাইরে এসে হাত একটু মাটি চাইল
গুহার বাইরে এসে মুখ একটু
জল চাইল 

সব জন্ম দাঁড়িয়েছে দুপুর
সব অশ্রুর কান্নার সুর

মৃত্যুমাথায় নিয়ে গুহার ভেতর ওঠে 'ওম' ধ্বনি
গৃহের ভেতর রমণের শব্দ 
আর শিৎকার!

শুধু আকাশ যেমন নীল,তেমনই নীলই আছে!



    তপোবনের একটি পাতা



শ্বাসবায়ুর মাঝখানে যে বিরতি,তাতে এত সমুদ্র, এত আকাশ আর এত নিশীথের নীলিমা

নির্মিত হয়ে আছে আশ্চর্য! 

দীর্ঘশ্বাসের কোনো শস্য নেই,লাঙল নেই,নেই কোনো পৃথিবীর পা চলা পথ

এত সাধন শুধু তপোবনের একটি পাতার জন্ম দেয়,সমগ্র গৃহস্থের বিশ্বাস যদি ছু্ঁয়ে দিত,তাহলে বৃক্ষ চোখে পড়ত

মিলনে! 



    স্বরবর্ণের শেষে



মাতৃগর্ভের প্রতিটি স্তরের কোনো বর্ণমালা নেই,অথচ দরজা খুলে গেলে
মাটি একবার অশ্রুতে ছুঁয়ে দিলেই,এত অভিশাপ কোথা থেকে আসে?

এত দুঃখ কি ঈশ্বর ভালোবাসে?

প্রতিটি জন্ম স্বরান্ত,বিশুদ্ধ স্বয়ং সম্পূর্ণ উচ্চারণ, তার আগে নেই, পরেও নেই

তবু বেঁচে থাকা যেন সর্বনাশে
শুয়ে থাকা শ্মশান

দুঃখে দহন করে আগুন
অশ্রুকে জলে করে পানীয়
আর বিষাদকে বিশল্য করে অমরত্ব করে তুলি

এই জয়,এই শেষ স্বর,প্রাণ!


1 টি মন্তব্য:

  1. কবিতার নিভৃত সুষমা এবং অন্তর্লীন প্রজ্ঞার করধৃত এই কবিতাগুচ্ছ আমাদের আলোর দিশা দেখিয়েছে। তরুণ অপিচ প্রাজ্ঞ এই কবির কাছে আরো অনেক প্রত্যাশা রইল আমাদের।

    উত্তরমুছুন