উন্মুক্ত কবিতা -৭
অমিত কাশ্যপ-এর কবিতা
১.
আশ্চর্য বিশ্বসংসার
দেখ কেমন দিনান্ত ভেসে যায় জাহ্নবীর জলে
দুঃখের গল্প আজ থাক, সুখ শোন সুখ
পূর্ণিমার চাঁদ কেমন সাঁতরাছে মাঠের মহিমায়
কি শোভা, কি চমৎকার প্রচ্ছদ যেন
মাঠের মলাট জুড়ে শান্ত পরিচ্ছন্ন
আবাসনের গা বেয়ে পূর্ণিমার প্রলেপ
নিরিবিলি রাতের স্বপ্নেরা এমন দিনে নামে
সুস্বপ্ন যেমন খেলে সাদা পূর্ণিমার চাদরে
রুপোলি মাছের সংসার যেমন পূর্ণিমার জালে
থইথই করে, ভেবে নাও তুমি বেশ আছ
তোমার আশপাশও ঝুলে আছে আশ্চর্য আশ্রয়ে
এরই নাম বিশ্বসংসারের শোভা, শোভন মমতায়
২.
চৈতন্য হোক
সকাল হয়েছে ভাবতেই পারছে না রাস্তা
শিশুর মতো রাস্তা শুয়ে আছে, তোমার যেমন
দীর্ঘ রাস্তায় ঘুম পায়, আর কি কি পায় জানিয়েছিলে
এখন মদনমোহন সরণি পেরিয়ে যেতে
বিকেল গড়িয়ে গেল যেমন ঘুমের ভেতর স্বপ্ন গড়ায়
মসৃণ রাস্তা এখন, সাদা বিছানা যেমন আশ্চর্য হয়
আশ্চর্য ঘুম তোমার আবার পায়, যেমন গানে পায়
বিছানার ভাঁজে ভাঁজে
স্বপ্ন যেমন লুকোয় কালবৈশাখীর হাওয়ার কথাই ধর, কেমন এলোমেলো হয়
প্রবল জ্বরে যেমন প্রলাপ বকে
অচৈতন্য রোগী
চৈতন্য হোক চৈতন্য হোক বলে ঠাকুর যেমন সমাধি পেতেন
৩.
ঈশ্বর
চারটি দেওয়াল নিয়ে একটা ঘর, দুটি দরজা, ছটি জানালা
ঈশানবাবু একটি দরজা দিয়ে ঘরে ঢোকেন
উল্টোদিকের দরজা দিয়ে বারান্দায় যান
রাস্তা দেখেন, ছটি জানালায় গ্রিল
রাতে খুলে রাখেন, চমৎকার বাতাস
দরজাও খুলে রাখেন, জানেন নেওয়ার মতো কিছু নেই
কোনো ওষুধ খান না, বলেন প্রকৃতিই ওষুধ
আলো বাতাস, বাগানের গন্ধ, মানুষের কথাবার্তা
মন ভালো রাখে, মনই হল মন্দির, ঈশ্বর থাকেন

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন