অঙ্কুরীশা পত্রিকা ও আপনার অভিজ্ঞতা
অভিজ্ঞতা -১২
অঙ্কুরীশা এবং নিউটনের প্রথম সূত্র ||
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
[] শেওলারা ডানা মেলে []
অচঞ্চল জল টলটল,কাকচক্ষু বা কালো সাপ দেখার মতো স্নায়ু শিনশিন,তা আসলে জল,কাব্যিক জল।
কবিরা কতকিছুই বলতে পারেন,তবু সে জল স্থির জল।লিখতে পারেন না,এমন নয় অথচ
সুন্দরের গভীরে স্থিতির শ্যাওলা,অণুসুতোর দল সবুজ প্রেমে যা বেঁধেছে তার থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
স্থিতিজাড্যের ক্ষমতা মারাত্মক,নিউটন বলেছিলেন না! বাইরে থেকে বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু নড়ে না।
তেমনই কবির শ্যাওলা-মার্কা জড়তা কাটাতে বাইরের একটা বল প্রয়োজন অঙ্কুরীশা সেই বল প্রয়োগ করে
অনেক কবির কলম বা কি-বোর্ডের বাটন চালু করিয়ে দেয়।
[] মারো ঠ্যালা,হেঁইয়ো []
অনেকে বলেন,সাহিত্যসৃষ্টি ভেতরের ব্যাপার,বাইরে থেকে চাপ দিয়ে তা হয় না,আর হলেও তা ভালো
হওয়া সম্ভব নয়।ভেতরের ব্যাপারটাকে মাথায় তুলে রেখেই বলি,উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য উদ্দীপক লাগে,
তা হতে পারে ভেতরের কিংবা বাইরের।
সাপের বিষ বের করতে গেলেও থলিতে চাপ দিতে হয়।
বাইরের প্রণোদনা প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শারদীয়ার জন্য তিনটে উপন্যাস,আটটা গল্প কেউ আবার
সাতাত্তরটা কবিতা লিখে তৃপ্তিতে ঝলমল করে ওঠেন,কেউ বা পানচেবানো ঠোঁটের রক্তিম আভায় পরম তৃপ্তির
ঢেকুর তোলেন।ভেতরের উদ্দীপনায় লেখা সম্ভব বলে বিশ্বাস হয় না,বাইরের প্রণোদনাই নির্ধারক
হয়ে ওঠে।যেমন সাম্মানিক, সম্মাননা,পুরস্কার.... আরও কতকিছু।
অলস চন্দ্রবোড়াকে জাগাতে হলে
জোরসে ঠ্যালা দিতে হয়।
সেই ঠ্যালা দেবার কাজটিই করে অঙ্কুরীশা ও তার সম্পাদক বিমল মণ্ডল।কীভাবে তারা কলম ও কি-বোর্ডের
বাটনকে জাগিয়ে তোলে -- তারাই ভালো জানে।ভালোবাসার দাবি তো আর ঠেলে সরানো যায় না।
প্রাতঃস্মরণীয় নিউটন আরও বলেছেন,বাইরে থেকে বলপ্রয়োগ না করলে সচল বস্তু চিরকাল গতিশীল থেকে যাবে।
ফলে লেখা বা সৃষ্টির কাজ একবার শুরু করে দিলে তা চলতে থাকে।অন্যান্য ফ্যাক্টর তখন দুর্বল হয়ে যায়।
জয় হয় গতিসূত্রের।
[] অঙ্কুর থেকে গাছ []
বীজ বোনার পর জল,বাতাস তাপে ঘটে অঙ্কুরোদ্ গম,তারপর পরিচর্যা পেলে চারাগাছ তার থেকে
বৃদ্ধি-বিকাশের অদ্ভুত খেলায় রূপান্তরের অপরূপ যাপনকথা।নিয়মিত প্রকাশ, অনলাইনে ও ছাপা
দু-ভাবেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পত্রিকাটি।সাহিত্যকর্মীদের সৃজনক্ষেত্রের ফুল ও ফসলের স্বাদগ্রহণের জন্য
কত সাহিত্যসেবী তার পাতায় একবার চোখ বুলিয়ে নেন,ভেবে আশ্চর্য হই।
এগিয়ে চলুক অঙ্কুরীশা তার বিষয় নির্ধারিত লেখা ও অনির্ধারিত বিষয় নিয়ে লেখা নিয়ে অনলাইন ও
অফলাইন প্রকাশের দুটি মাধ্যমেই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন