শনিবার, ৩ জুন, ২০২৩

প্রতিদিন বিভাগে অণুগল্প —১৩ ।। আলোমুখ — দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়।।Ankurisha।। E.Magazine।। Bengali poem in literature।।

 






প্রতিদিন বিভাগে 

অণুগল্প —১৩




আলোমুখ

 দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়


সকাল হতে না হতেই রোজ বাবা ছেলে অরণ্যকে ফোন করে।মা মারা যাওয়ার পর বাবাই ওর সব। বাবা ও ছেলে  একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে আছে  এভাবেই অদ্ভুত এক ভালোবাসার রসায়ণে।  ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে উচ্চ শিক্ষার জন্য বাবা কলকাতার বাইরে এক কলেজে ভর্তি করে ছেলেকে। দুজনেরই বুকের পাঁজরে মনখারাপের বাদল সবসময় যেন।ছেলে বাবার ফোন পেয়েই পড়াশোনায় মন দেয়।
মাঝে মাঝে বাবা বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে অরণ্যকে ফোন করতে ভুলে গেলে ওর মানসিক যন্ত্রণা ও কষ্ট হয় খুব। বাবার একাকীত্বের কষ্টটা বোঝে অরণ্য। বাবাকে মায়ের ফোটোর সামনে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতে দেখেছে ও অনেকদিন। মায়ের মুখটা মনে পড়লেই ওরও বুকের ভেতর কান্নার স্রোত বয়ে চলে। তবুও বাবাকে সামলাতে ও কঠিন হয় ঐ সময়। কান্নাকে গিলে গিলে খেয়ে নেয় ও তখন।
 আজ সকাল থেকেই মনটা একটু অন্যরকম হয়ে আছে অরণ্যর। আজ মাকে বড়ো মনে পড়ছে ওর। কান্নায় বিদীর্ণ ওর বুক। মা বেঁচে থাকলে এইদিন বাড়িতে এক আনন্দভৈরবী চলতো সকাল থেকেই।পায়েস, মাংস -- কতো পদ রান্না করতো মা।আমুদে বাবারও মুখে থাকতো হাসি হাসি রাশি রাশি। কিন্তু এখন সবই বদলে যাওয়া সময়!বাবাও অফিসের ব্যস্ততায় দুদিন ফোন করবে না জানিয়েছে। টেবিলে রাখা মানি প্ল্যান্টটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে অরণ্য। মায়ের স্মৃতি এই গাছটার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আছে।মা বলতো, বড়ো হয়ে গাছের মতো আশ্রয় হয়ে উঠবি সকলের। মায়ের কথার মানে বুঝতো না তখন। এখন বোঝে আর মনে মনে তৈরি হয় ও মায়ের ইচ্ছাকে মর্যাদা দেবে বলে।
 হঠাৎ ওর হোস্টেলের ঘরের বেল বেজে উঠলো। এখন কে এলো আবার? এতো সকালে তো হোস্টেলের কোন বন্ধু ওঠে না !
 দরজা খুলেই চমক ! বাবা দাঁড়িয়ে। হাতে ধরা একটা মাউথ অর্গান সকালের আলো পড়ে চকচক করছে। অনেক দিন আগে ওর মাউথ অর্গান বাজানোর শখের কথা বাবাকে জানিয়ে ছিল অরণ্য। আনন্দে জড়িয়ে ধরলো বাবাকে।অরণ্যকে জড়িয়ে ধরে বাবা বলে উঠলো " হ্যাপি বার্থডে মাই সন।"
  বাবা ও ছেলের কান্নাভেজা আনন্দ মূহুর্তের সাক্ষী হয়ে থাকলো সকালের নরম রোদ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন