প্রকৃতি -ই সুর সংখ্যা —২৭
মলয় কুমার মাঝি
আলিসাগড়
রোজ কার মতন এক বেলা খাবারের খোঁজে, পথকে ভালো বেসে পথ হাঁটি; গায়ে অপরিচ্ছন্নতা মলিন পোশাক, তীব্র-অসহ্য খুদা যন্ত্রণায়, মাথার চুল গুলো মুঠোর ভিতর নিয়ে রোগরাতে-রোগরাতে এক সময় ছিঁড়ে ফেলি;তখন তোমরা কেউ দেখে না,পেটকে শান্ত করার জন্য ছুটি, কোন কাজের জন্য সন্ধানে, তোমারা পাগল বলে দূর দিয়ে চলে যাও, ভুল করেও জিজ্ঞাসা সে তো অনেক দূরের কথা!
অকথ্য ভাষায় গাল-মন্দ, ঠাণ্ডা-গরম জল ছুঁড়ে দাও, তারপর বাধ্য হয় ভিক্ষা বেশ, কেউ দেয় কেউ বা না, তাতেও খিদে থেকেই যায়।
এই তো সেই দিন মাথায় মেরে রক্ত ঝড়িয়ে দিলো,
কালো রাস্তার এক পাশে অবচেতনায় পরেছিলাম;বেশ কিছু দিন,গলির কুকুর গুলো-গায়ের উপর গা দিয়ে শুয়েছিলো,
অন্যদিকে কাঁচা মাংস খেকো- হিংস্র শিয়ালের দল,লকলকে জিহ্বা বের করে রক্ত বর্ণ চোখে,টাটকা খাবারের গন্ধ পেয়ে,একে অপরকে বিকট আওয়াজে- ডাকে, দল বদ্ধ হয় ঝাঁপিয়ে পরে,ঠিক সেই সময় পরের হাতে লাথি ঝেঁটা খেকো, কুকুরের দল আমার বাঁচায়। তাদের এক জন ভেবে-তাদের উচ্ছিষ্ট খাবারের কিছু অংশ দিতো।
এই সুশিক্ষিত বিবেক বুদ্ধিমান সমাজ,নিজের
স্বার্থের বেড়া জালের, গণ্ডির মধ্যেই দাঁড়িয়ে; একে আপরের রক্ত ঝরায়, সতস্ফুর্ত মনে অট্ট হাসিতে-হাসে !
এই তো সেই দিনের পরাধীনতার গ্লানির কথা ভাবলে, চোখের কোণে জল জমাট বাঁধে,সেই দিন ধর্মের নামে,জাতির নামে,অন্যায়ের- বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে-এক হতে পেরেছি! আজও কি,কোনদিন হতে পারবো!
মনুষ্যত্ব,বিবেক-বুদ্ধি, কোনদিন জাগবে! অন্যের শেখানো বুলি শিখে;তিল-তিলে,এই ভাবেই শেষ হয়ে যাবো...


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন