শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১

রবিবাসরীয় বিভাগ-২৩ ।। আজকের গল্প ।। কান্না — মুক্তি দাশ।।Ankurisha ।। E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 




রবিবাসরীয় বিভাগ-২৩

আজকের গল্প 



কান্না

মুক্তি দাশ


‘ও আসগারকাকু, ছাগলটাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে টানতে টানতে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ গো?’

জমজমাট বাজারের মধ্যে আসগার আলির মাংসের দোকান। টুকাইদের বাড়ির সামনে দিয়ে প্রায় রোজই সে দোকানে যায়। শীতসকালের নরমরোদ গায়ে মেখে বারান্দায় বসে বসে ব্রেকফাস্ট সারছিল টুকাই। আজ রবিবার। ছুটির দিন। পড়াশুনোর বালাই নেই। সুতরাং ব্রেকফাস্টটা বেশ আয়েস করে খাওয়া যেতেই পারে। 

এমনসময় নজরে পড়ল বেশ পুরুষ্টু নধর একটা ছাগলের গলায় দড়ি পরিয়ে প্রায় হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে নিয়ে যাচ্ছে আসগারকাকু। কোথায় যাচ্ছে?

আসগার বলল, ‘দোকানে যাচ্ছি গো টুকাইবাবু। আজ রোব্বার তো, বেজায় ভিড়ভাট্টা হবে। বাবাকে নিয়ে বেলার দিকে একবার চলে এসো না আমার দোকানে, তোমার পছন্দের মাংস দিয়ে দেব…মেটে, কিমা-যা তুমি চাইবে!’

ছাগলটা কিছুতেই যেতে চাইছে না। জোর করে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে গোঁয়ারের মত রাস্তায় দাঁড়িয়েও পড়ছে। আর সেইথেকে ক্রমাগত ব্যা ব্যা করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে…!

টুকাই জানতে চাইল, ‘তো অমন ভ্যা ভ্যা করে কাঁদছে কেন গো ছাগলটা?’

নিষ্পাপ শিশুমনের সরল প্রশ্নে কসাই হয়েও খানিক বিব্রত বোধ করল আসগার। তারপর বলল, ‘ওকে যে একটুবাদেই কেটে ফেলা হবে, বেচারা বুঝতে পেরে গেছে বোধহয়!’

ঠোঁট উল্টে টুকাই বলল, ‘বাব্বা! তার জন্যে এত কান্না! আমি তো ভাবলাম, ইস্কুলে নিয়ে যাচ্ছ বুঝি!’









৪টি মন্তব্য:

  1. খুব সুন্দর গল্পটি। স্কুলে যাওয়ার কথাই প্রথমে মনে
    হয়েছে টুকাইয়ের মনে।যার যা সমস্যা।

    উত্তরমুছুন
  2. খুব সুন্দর লাগলো। একটা সানাইয়ের করুণ সুর বেজে গেল শেষে। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইলো।

    উত্তরমুছুন
  3. অসাধারণ!শিশুর সরল মনে স্কুলে যাওয়াটাই তার কাছে সবচেয়ে কষ্টের কাজ। যে যার সমস্যা নিয়েই ব্যস্ত। সুলেখক কে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা! 🌹🌹💖💖

    উত্তরমুছুন