শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

আজ ৫ই জুন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস। সচেতনতা ও কিছু ভাবনা।। নন্দিনী মান্না।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 






আজ ৫ই জুন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস

সচেতনতা ও কিছু ভাবনা 

নন্দিনী মান্না 




    স্বপ্ন- বাস্তবে অবশ্যই স্বীকৃত কথা-" মানুষ স্রষ্টার সৃষ্টির সেরা জীব। সুন্দর মানবিকতায়  ভরা সুন্দর মানসিকতা, তাঁর সেরা ধর্ম"। সমাজে প্রচলিত আছে,- "মানুষ অভ্যাসের দাস বা বশীভূত। তা সুঅভ্যাস বা কুঅভ্যাস, যেটাই হোক না কেন। যেমন- উর্বর ভূমিতে উন্নত ও ভালো মানের ফসল হয়। তেমনি সুস্থ মায়ের সুস্থ সন্তান হয়। পৃথিবী নামক গ্রহে প্রথম জীবন সৃষ্টির সময় জল- মাটি- বায়ু, সবই ছিল সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। সুন্দর ও শুদ্ধ পরিবেশ প্রাণধারক, মন বাহক ও জীবনীশক্তির উদ্ভাবক।


     সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে   নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রেখে চলেছে- উদ্ভিদ ও প্রাণী। এই পরিবেশের কোলেই জন্ম-মৃত্যু, লালন- পালন, শিক্ষা-দিক্ষা, বিভিন্ন লীলাখেলা ও মুক্তির আনন্দ।


     জীব বৈচিত্র্যতা ও  আবহাওয়া - জলবায়ুর বিভিন্নতাই  স্বভাব-চরিত্রের স্বাভাবিকতা। কোথাও নদী- সাগর- মহাসমুদ্র- ঝরনা- হিমবাহ- জলপ্রপাত প্রভৃতি। আবার কোথাও পাহাড়- পর্বত- মালভূমি- সমভূমি- মরুভূমি প্রভৃতি। কোথাও ঠান্ডা- গরম, আবার কোথাও মাঝারি ধরনের উষ্ণতা। কোথাও নোনতা আবার কোথাও মিষ্টতার আস্বাদ। কোথাও ম্যানগ্রোভ অরণ্য- চিরসবুজ অরণ্যানী- পাতাবিহীন অভিযোজিত ক্যাকটাস- কোথাও লম্বা- মাঝারি- বেঁটে লতানো সবুজের সমারোহ। কোথাও ঘোড়া- উট- গরু- ছাগল- মহিষ- ময়ূর- রঙবাহারি পাখি। কোথাও কোকিলের কুহুতান কোথাও নাইটিঙ্গেলের সুরেলা গান। কোথাও বালিময়- ধুলোময়- রাঙ্গামাটির আস্তরন- পলিমাটির স্তরায়ন-  কঠিন পাথরের  সুউচ্চ দৃশ্যায়ন- ঠান্ডার  জমায়ন প্রভৃতি। রামধনু রঙের বাহারে সবুজের মাটিতে রোদ- জল- ঝড় প্রভৃতি।


     শত শত  জীব বিভিন্নতা ও জলবায়ুর- আবহাওয়ার মাঝখানে নিজস্বতা ও মানবিকতার সর্বোত্তম ও প্রকৃত বন্ধু- প্রতিবেশী হলো সবুজের  সমারোহ। কখনো হয়ে যায় স্বপ্নের কুঁড়েঘর বা শিল্পের আঁতুড়ঘর। কখনো কাঁচামাল যোগানদার - রঙবেরঙের খাবারের প্রস্তুতকারক। কখনো ছোট্টো চারায় মেলে ধরে শৈশবের মধুমাখা  আবেষ্টনী। আবার কখনো পরিণত হয়ে খুলে বসে অগাধ দান ভান্ডার। কখনো পথ্য আবার ঔষধি। কখনো বায়ু  সরবরাহকারী আবার বায়ু শোধনাগার।  কখনো বিভিন্ন প্রয়োজনে আছে আত্মসমর্পণ বা বিসর্জনী।


     ঋতু বৈচিত্র্যের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে, ঠান্ডা- গরমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হয়ে যায় প্রাকৃত উৎপাদনকারী কিংবা প্রস্তুতকারকের স্বাভাবিক কারখানা কিংবা "প্রাকৃতিক বড়ো বাজার"। 


    সমাজে পণপ্রথার মতো মেয়ে পক্ষ যতই উজাড় করে দান সামগ্রী দিক না কেন, বরপক্ষ কোনোভাবেই তুষ্ট হয়না। উপরন্তু উপরি পাওনা হিসেবে শত শত লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সইতে হয় মেয়ে ও তার বাপের বাড়িকে।অবোধ- অবলা সবুজ উদ্ভিদ ও কল্পতরু হয়ে শতশত হাতে নিজের শরীরের সব অঙ্গ উজাড় করে দেয়। আর মানুষরূপী শয়তান, অকৃতজ্ঞ মনে পাশবিক নির্যাতনের পরিচয় দিয়ে আসছে। উন্নত বিজ্ঞানের যন্ত্র বিদ্যা ব্যবহার করে খুবই স্বার্থপর হয়ে চলেছে। আরামের জন্য কোনো নিয়ম তোয়াক্কা করছে না। এখানে পুরুষশাসিত সমাজের রমরমা খেলা, পরিবেশের ভারসাম্যকে মুমূর্ষ অবস্থায় ফেলেছে। মেয়ে জন্ম নিলেই বলবে ছেলেই চাই। আবার ছেলে হলে বলবে- "এক পয়সায় পয়সা নয়"। এই ধরনের কুসংস্কার ও গোঁড়ামির বশবর্তী হয়ে জনসংখ্যা আজ অতিমহামারীর রূপ নিয়েছে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের আদি সমস্যা। তারপরেই লাইন দিয়ে এসেছে কতো কতো দূষণের কারণ। আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলে গেছেন-" The earth has a fever. And the fever is rising. The fever is "Global Warming".


    উদ্ভুত পরিবেশ সমস্যার সমাধানের চেষ্টায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্যোগে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পরিবেশবিদদের নিয়ে আলোচনার বৈঠক বসে। সেই সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর পাঁচই জুন "বিশ্ব পরিবেশ দিবস" হিসেবে উদযাপন করা হয়ে আসছে। এই দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য- সব জায়গায় একই দিনে সব স্তরের সব বয়সের সব মানুষের মধ্যে সচেতনতা জাগানোর বা বাড়ানোর পক্ষে প্রচার করা হয়ে আসছে। তাই বিভিন্নভাবে এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়। যেমন- পরিবেশ ও সবুজ বাঁচানোর জন্য আলোচনা সভা,  বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের পরিবেশ সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর, লিফলেট বিতরণ, বীজ বোনা, ব্যানার ও পোস্টার সহযোগে পদযাত্রা প্রভৃতি। বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট কথায় এর প্রচার করা হয়। যেমন- "ছোট ছোট স্বার্থ ত্যাগ করা। নিজের অভ্যাস বদল করা"। "বীজ বপনে ভরব এ মাটি। তৈরি করব সুখের অনুভূতি"। "দেশের বায়ু, দেশের মাটি। গাছ লাগিয়ে করবো খাঁটি"।



    



          .সবুজ রোপণ


 প্রতিদিন গাছ লাগানো পরিবেশের ভারসাম্যে,

 পরিবেশের উষ্মায়নের রব  ফোটে মর্মে মর্মে,

 সবুজ মানে সমতার মহান অঙ্গীকার,

 গাছ লাগানোতেই হয় আসল উপকার।

 সবুজ শোষণ ও শোধন করে যতো বিষ,

 দূষণের মাত্রা কমে বাঁচায় পরিবেশ।

 প্রকৃতির কোল যেন আরামের বিছানা,

 সবুজের জয় গান ছাড়ায় অসীমের সীমানা।

 বাড়িতে থেকে কাজের সেরা সময়ের সন্ধিক্ষণ,

 বীজ বুনুন, গাছ লাগান, দুর্যোগ কমান।









আরও  পড়ুন 👇👇



https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/06/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_73.html




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন