বুধবার, ২ জুন, ২০২১

ধারাবাহিক ভ্রমণকথা৷ (পর্ব—১২)।। পৃথিবীর উল্টো পিঠ— বিশ্বেশ্বর রায়।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 








ধারাবাহিক ভ্রমণকথা৷ (পর্ব—১২)

পৃথিবীর উল্টো পিঠ
বিশ্বেশ্বর রায়



গতকাল ছিল আমার জন্মদিন৷ আসলে আমার জন্মদিন ২১শে শ্রাবণ৷ কোনো বছর তারিখটা ৬ই আগস্ট হয়, কোনো বছর ৭ই আগস্ট৷ এ বছর যেমন ৬ই পড়েছে৷ গতকালই মুনিয়া-জয়দীপ Save a lot থেকে একটা মাঝারি মাপের চকোলেট কেক কানে রেখেছিল৷ আমাকে জানায় নি৷ আজ হঠাৎ ওদের ব্যবস্থাপনায় মোমবাতির আলোয় সেটাকে কর্তন করতে হল৷ তার আগে অনামিকা (আমাদের ভাবী পুত্রবধূ) আর ওর বাবা-মা মুম্বাই থেকে Skype-এ আমাকে শুভেচ্ছা জানালেন৷ বাবাইও যোগ দিলো সন্ধ্যায় ক্যানসাস সিটি থেকে৷ নতুন অ্যাপার্টমেন্টে যাবার জন্য ও প্রয়োজনীয় কিছু কিছু জিনিসপত্র কেনাকাটা করেছে৷ আরও কিছু কিনতে বাকী৷ Salary পেলে সবকিছু আস্তে আস্তে কিনবে৷ এসব কথাবার্তার পর জানালো ওর ছুটি মঞ্জুর হয়েছে৷ এ মাসের শেষ তারিখে ও এখানে আসবে৷ তখন ওর সঙ্গে আমরা দু'জন নায়াগ্রা, ওয়াশিংটন সিটি এবং আরও কিছু দ্রষ্টব্য স্থান ঘুরতে যাব৷ মুনিয়া-জয়দীপ যাবে না৷ কাণ, ওসব জায়গা ওদের ইতিমধ্যেই ঘোরা হয়ে গেছে৷ আরও ঠিক হল নায়াগ্রা, ওয়াশিংটন ভ্রমণ শেষ করে হার্টফোর্ডে ফিরে দু'দিন এখানে থেকে বাবাই-এর সঙ্গে আমরা দু'জন ওর কর্মস্থল Cancius City যাব৷ ওখানে দু'মাস কাটিয়ে নভেম্বরের শেষে আবার ফিরে আসব হার্টফোর্ডে৷ তারপর তো ৩রা ডিসেম্বর আমাদের দেশে ফেরার পালা৷


      সারাটা দিন কেটে গেল আগামী তিন দিনের Acadia tour-এর জন্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও গোজগাছ করতে৷ বেশ কিছু খাবার-দাবার, বাড়তি জামাকাপড় ইত্যাদি নিতেই হবে৷ এছাড়াও বাড়তি কিছু টাকাও সঙ্গে রাখতে হবে৷ কারণ, আগেই বলেছি Tour Party শুধু যাতায়াতের খরচ এবং হোটেলে থাকার ভাড়া যা লাগবে সেটুকুই নিয়েছে৷ খাওয়া-দাওয়া, নিজস্ব কেনাকাটা, কোনো y দ্রষ্টব্য স্থানে ঢুকতে গেলে তার Entry fee ইত্যাদি সংক্রান্ত খরচ নিজেদের সামলাতে হবে৷



      ৯ই আগস্ট রাত্রি নটায় আমরা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হলাম৷ ন'টা পাঁচ-সাত নাগাদ City Bus-টা এল৷ ওখান থেকে Hartford Down Town মাত্র মাইল খানেকে রাস্তা৷ এমনি সময়ে খালি হাত-পা থাকলে ওটুকু রাস্তা আমরা হেঁটেই যাতায়াত করি৷ কিন্তু এখন প্রত্যেকের সঙ্গেই লাগেজ আছে৷ Down Town-এর Greyhound বাস টার্মিনাসে পৌঁছাতে দশ মিনিটও লাগল না৷ রাত্রি দশটার গ্রে হাউন্ড বাসে আমাদেরাঅগ্রিম টিকিট কাটা ছিল অন লাইনে৷ নির্দিষ্ট সময়েই বাস ছাড়ল৷ এখানকার Greyound বা Peter Pan বাসের টিকিটের দামে প্রচণ্ড হেরফের হয়৷ একই বাসে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন দিনে ভাড়া দ্বিগুণ, তিনগুণ বা তারও বেশি হয়ে যায়৷ এই যেমন আমাদের টিকিট কাটা হয়েছে যাতায়াতে কুড়ি ডলারে৷ এই ভাড়াই রাত্রি বারোটার বাসে হয়ে যাবে চল্লিশ, পঞ্চাশ কিংবা একশো ডলার৷ চাহিদা অনুযায়ী তারও বেশি হতে পারে বিশেষ বিশেষ দিনে, বিভিন্ন সময়ে৷ দশটার এই বাসটা সরাসরি নিউইয়র্ক যায় না৷ মাঝখানে চার জায়গায় থামে—New Britain, New Havan, Danbury এবং Staford. ফলে এই বাসে অন্য বাসের তুলনায় প্রায় ঘন্টাখানেক বেশি সময় লাগে৷ অবশ্য তার জন্য আমাদের কোনো অসুবিধা নেই বা তাড়াও নেই তাড়াতাড়ি পৌঁছাবার৷ কারণ, আরও কিছু দেরী হলেই ভালো৷ কারণ, তাহলে নিউইয়র্কের Metro Station-এ বাকী রাতটা কাটানোর সময় কাছুটা অন্ততঃ কমবে৷ Tour Party-র সঙ্গে আমাদের যোগ দেবার সময় নির্ধারিতআছে সকাল সাতটায়৷





      এখানকার দূরপাল্লার এই বাসগুলো বা ট্যুরিস্ট বাসগুলো সোজা Inter State Highway দিয়ে চলে৷ যখন কোনো Station-এ(এখানে Bus stopage বা Terminus-কে Station বলে) থামার প্রয়োজন হয় তখন এই বাসগুলো বা সবরকম যানকেই Highway-র পাশের নির্দিষ্ট Exit দিয়ে নেমে সেখানে দাঁড়াতে হয়৷ Highway-র উপরেই যাত্রী ওঠানো নামানোর কোনো ব্যবস্থা নেই৷ সেই বাস স্টেশনে যেসব যাত্রীরা নামবেন তাঁরা নেমে গেলে নতুন যাত্রীরা উঠবেন৷ তারপর নির্দিষ্ট সময় মেনে আবার বাস ছাড়বে৷ Inter State এসব বাসগুলো সারা রাত যাতায়াত করে৷ যাত্রী নামা-ওঠা শেষ হলে বাসটি প্রায় একটা চক্কোর মেরে তার নির্দিষ্ট হাইওয়েতে যেতে পারবে আলাদা একটা Exit বাEntry ধরে৷




      এখানকার হাইওয়েতে কোনো ক্রশিং নেই বা সিগন্যাল নেই৷ বাস বা গাড়ির গতিবেগ রাস্তা বিশেষে নির্দিষ্ট করা থাকে৷ কোনো রাস্তায় পঞ্চাশ মাইল, কোনো রাস্তায় ষাট বা পঁয়ষট্টি৷ আবার কোনো রাস্তায় সর্বোচ্চ পঁচাত্তর মাইল প্রতি ঘন্টা৷ এই গতিবেগ কখনও প্রায় কমে না,বরং বাড়ে৷ চিহ্নিত সর্বোচ্চ গতিবেগ থেকে দশ মাইল বেশি পর্যন্ত পুলিশ(ভ্রাম্যমান, এখানে ট্র্যাফিক পুলিশ নেই) কিছু বলে না৷ কিন্তু অতিরিক্ত বেশি গতিতে গাড়ি চালালে পুলিশ সেই গাড়িকে ধাওয়া ক'রে ধ'রে টিকিট(ফাইনের) ধরিয়ে দেয়৷ বাসগুলো অবশ্য নির্দিষ্ট গতিতেই চলে৷ আমাদের দেশের মতো যখন যেমন খুশি চলে না৷ কারণ, কোনো স্টেশনে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময় তাকে মেনে চলতে হয়৷ এখানকার হাইওয়ে গুলোতে কোনো ক্রশিং থাকে না৷ তাই এক রাস্তা ছেড়ে অন্য রাস্তায় যেতে গেলে Exit দিয়ে নেমে প্রায় একটা চক্কোর কেটে অন্য কোনো হাইওয়ের নিচ দিয়ে বা উপর দিয়ে অন্য রাস্তায় উঠতে হয়৷






আরও পড়ুন 👇👇

https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/06/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in.html





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন