
আজ ২৫শে বৈশাখ।। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০-তম জন্মবার্ষিকী। এই জন্মবার্ষিকীতে জানাই কবিতায় অঙ্কুরীশা- র কবি প্রণাম।
সম্পাদকীয় ✍️✍️
''আমার প্রার্থনা শোনো পঁচিশে বৈশাখ
আর একবার তুমি জন্ম দাও রবীন্দ্রনাথের।''
(সুকান্ত ভট্টাচার্য)
কবির এই প্রার্থনা যেন বর্তমান সমগ্র ভারতবাসীর। বিশ্বব্যাপী যখন কোভিড-১৯ এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত,ঠিক তখনই গ্রাম,শহর জুড়ে হিংসা, রক্ত বিসর্জন, হানাহানির তীব্রতা- ঠিক আজ এমনই দিনে যেন মনে হয় রবীন্দ্রনাথের মতো সর্বগামী প্রতিভার একান্ত আবশ্যক; যিনি তাঁর মানবপ্রেম, আদর্শ, কর্মপ্রেরণার মধ্য দিয়ে বিশ্বমানবকে মানবধর্মের দীক্ষা দেবেন। বিশ্বমানবাত্মার মূর্ত প্রতীক বিশ্ব কবি যথার্থ অর্থে ভারতাত্মার মুক্তিদাতা, যাঁর সামগ্রিক চিন্তাধারা যথার্থ বিস্ময়ের — সেই বিশ্ব কবির আজ ১৬০-তম জন্মবার্ষিকীতে অঙ্কুরীশা-র কবিতাজ্ঞলি। আজও তাঁর অনুষঙ্গে আমাদের জীবন -মৃত্যু সব কিছু বাঁধা পড়ে আছে। তিনি আমাদের অশেষ করে চলেছেন আজও। আমরা জীবনভর ঋণী হয়ে আছি তাঁর কাছে।তাই আমরা কবিতার মধ্য দিয়ে কবিকে জানাই কবি প্রণাম।
কবি প্রণাম।। শ্রদ্ধাজ্ঞলি নিবেদনে—
জ্যোতির্ময় দাশ
অজিত বাইরী
দীপ মুখোপাধ্যায়
বীথি চট্টোপাধ্যায়
আরণ্যক বসু
শাহীন রেজা
রবীন বসু
তৈমুর খান
সাতকর্ণী ঘোষ
অশোককুমার লাটুয়া
তপন জ্যোতি মাজি
অনিন্দিতা শাসমল
ভবানীপ্রসাদ দাশগুপ্ত
পার্থ সারথি চক্রবর্তী
আলোখরেখা চক্রবর্তী
দুরন্ত বিজলী
জুলি লাহিড়ী
তপন তরফদার
নিমাই জানা
দীপক বেরা
বহ্নিশিখা
মালা মিত্র ঘোষ
নন্দিনী মান্না
কুমকুম বৈদ্য
জয়শ্রী সরকার
তীর্থঙ্কর সুমিত
সুমন রঞ্জন সেন
বিমল মণ্ডল
দীনেশ সরকার
সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী
শঙ্কর তালুকদার
আমার ঈশ্বর
জ্যোতির্ময় দাশ
একটি জীবনমুখী কবিতার জন্য সম্প্রতি আমি খুঁজে ছিলাম ঈশ্বরের বসত বাড়ির ঠিকানা
মনীষীরা আমাদের বলেছিলেন— কেবল মন্দিরে নয়
তিনি থাকেন প্রতিটি জীবের ধর্মে এবং হৃদয়ে
এই আবিশ্বর চরাচরে প্রতিটি কর্মের মধ্যেই আছে তাঁর অনিবার্য প্রচ্ছন্ন উপস্থিতি —
তিনি কি তাহলে ছিলেন আম্ফানের বিধ্বংসী বন্যায়
তিনি কি আছেন তবে প্রতিটি ধর্ষিতা নারীর অব্যক্ত কান্নায়
এর উত্তর সকলের জানা নেই—উত্তর যে দেবেন
মধ্য মেধার এই অরণ্যে তেমন মনীষীও কেউ নেই আজ
একদিন অথচ তিনি ছিলেন গীতাঞ্জলির গানে
অপমানিত সবহারাদের সঙ্গে ভুবন ডাঙার মাঠে...
এখানে আকাশ
অজিত বাইরী
এখানে আদিগন্ত বিস্তৃত আকাশ;
আকাশে অপলক চোখ রেখে
দিনমান পাঠ নিই আকাশগ্রন্থের।
কখনও-সখনও একটি দুটি পাখি
আসা-যাওয়া করে জানলার ওপারে,
গরাদের ভেতর থেকে দৃষ্টি অনুসরণ করে
অনন্তের মাঝখানে উড্ডীন পাখির।
সন্ধ্যা নামে, এসে বসি বারান্দায়;
তারাদের সঙ্গে কথা হয়,
যতক্ষণ ঘুম না আসে।
এত তারা-ভরা আকাশ দেখিনি আগে।
ওই তারাদের ভিড়ে তুমিও কী
আছো কোথাও, প্রাণের রবীন্দ্রনাথ?
প্রতিপ্রাতের তর্পণ তোমারই জন্য;
তোমাকেই নিবেদিত প্রতিসন্ধ্যার আরতি।
ভানুসিংহের চিঠি
বীথি চট্টোপাধ্যায়
বোটের ওপর চুপচাপ বসে আছি
মাঝি চলে যায় ঘরছাড়া গান গেয়ে,
আমি তো হেলায় বড় হয়ে যাওয়া ছেলে
আমায় চায়নি কোনওদিন কোনও মেয়ে...
রাতে পদ্মায় দুর্যোগ চলছিল
সকালে পল্লি দাঁড়িয়েছে ছায়া মেখে,
দুঃখ পেতেই জন্মেছিলাম তবু
চোখ ভরে যায় দূরে গ্রামখানি দেখে।
এবার পুজোয় জোড়াসাঁকোতেই আছি
কূল পাচ্ছিনে বেলার অসুখ নিয়ে;
মেয়ের বাবাকে এখনও দেশের লোক
বিচার করবে শুধু টাকাকড়ি দিয়ে।
বেলা নেই ; আজ সকালেই মারা গেল
আমার হাতেই বড়ো হয়েছিল সে,
মৃত্যু তো এই জীবনেরই এক রূপ
এত রূপ আঁকে সে চিত্রকর কে?
কে আঁকছে তার খেয়ালে এমন করে?
কোন ছবিঘরে রাখা থাকে এত ছবি?
ভুবনডাঙার অাকাশে রৌদ্র-ছায়া
সাজাদপুরের সকালের ভৈরবী।
বেলা, রাণি, শমী, নিতু, ছুটি, বৌঠান
আর কি কখনও দেখা হবে কোনও দেশে?
কোন সে বিদেশ? কোন সমুদ্রপারে?
চাঁপাফুল হয়ে কারা ফুটে আছে হেসে?
রাতে যথেষ্ট দুর্যোগ হয়ে গেল।
পরদিন সব ফুলে ফুলে ঢেকে দিয়ে,
মিলিয়ে যাচ্ছে দূরের সিন্ধুপারে
শহর দাঁড়িয়ে শ্রাবণের ছায়া নিয়ে...
পঁচিশে বৈশাখে
দীপ মুখোপাধ্যায়
তুমি আছ আজ স্মৃতি-ছবি হয়ে হৈ হৈ উৎসবে
গানের ভেলায় ভাসতে ভাসতে কবিতার কলরবে
তোমাকে খুঁজেছি নব নব রূপে আলোকিত আশ্বাসে
(মেঘের পরে মেঘ জমেছে আঁধার করে আসে।)
ভিজে গেছি তাই কান্নার জলে রয়েছি আকুল হয়ে
অশুভ সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে নেমে পড়ি বিদ্রোহে
তোমার লেখনী ছড়িয়ে রয়েছে সকল ভুবন মাঝে
(জগৎ জুড়ে উদার সুরে আনন্দ গান বাজে।)
তোমার রেখায় গন্ধসুধা দুঃখ কাটায় আজ
মনের কোণে লুকিয়ে রেখেছি ছন্দের কারুকাজ
বলছি এখন হটাও আঘাত উধাও করো ভয়
(ছিন্ন করো ছিন্ন করো আর বিলম্ব নয়।)
রবীন্দ্রনাথ জন্ম নেবেন প্রত্যেক বৈশাখে
আমবাঙালি সেই জন্যেই আগ্রহী হয়ে থাকে
আবার আসুন,হৃদয় জুড়ে,কন্ঠে থাকুক গান-
(আনন্দেরই সাগর থেকে এসেছে আজ বান।)
যখন দাহ উঠবে বেড়ে শিরায় উপশিরায়
শুনবো তোমার চরণধ্বনি মধুর কাব্যক্রীড়ায়
চারদিকে এই প্রাণের স্পর্শ যা যা গিয়েছিলে রেখে
(তোমার চন্দ্র সূর্য তোমায় রাখবে কোথায় ঢেকে।)
জন্মদিনে খুঁজছি এখন ছিন্ন মেঘের ফাঁকে
কোন সুরে আজ উঠবে গেয়ে পঁচিশে বৈশাখে
রূপসাগরের আলোছায়ায় ভাসিয়ে দিলাম ভেলা
(আজ ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা।)
মরণজয়ী রবীন্দ্রনাথের কাছে
আরণ্যক বসু
( ওঠো ওঠো রে -- বিফলে প্রভাত বয়ে যায় যে। মেলো আঁখি, জাগো জাগো থেকো না রে অচেতন।।
গীতবিতান //পূজা //২৮৯)
এবার ফিরাও মোরে, ঝড়ের খেয়া, পৃথিবী -- লেখার পরে ,জীবনের অন্তিম জন্মদিনের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে , সভ্যতার সংকট শেষ করে, আপনি দীর্ঘ জীবনপথের বেলাশেষে, সারা আকাশে আকাশে ২২ শে শ্রাবণ হয়ে গেলেন।
দেখে গেলেন না -- ৪২ 'এর গণজোয়ার , দেশভাগ , দাঙ্গা, স্বাধীনতা , তে-ভাগা আন্দোলন আর , এদেশের মাটিতে সাম্যবাদের কুঁড়িগুলোর ক্রমবিকাশ, ফুটে ফুটে ওঠা।
তবু তো, হে মরণজয়ী কবি -- কলাবৃত্ত, দলবৃত্ত থেকে মিশ্রকলাবৃত্ত পর্যন্ত ,
গল্পগুচ্ছ থেকে গোরা পর্যন্ত ,
ছন্দের খাঁচা থেকে ছন্দের মুক্তি পর্যন্ত ,
কাদম্বরী থেকে ওকাম্পো হয়ে দক্ষিণের বারান্দা আর মংপু পর্যন্ত -- যে সর্বজনীন সম্মোহনে আপনার আমোদিত বিস্তার ...
সেখানে আমি, এক নির্জন মানুষ , লাখ লাখ জনতার লাল সমাবেশ থেকে,
আমার বাংলার হঠাৎ ধূ-ধূ ফাঁকা কোনো স্টেশন রোডের , গা শিরশির নির্জনতায় একা দাঁড়িয়ে।
একা ।
কালাহারি মরুভূমির মতো একলা দাঁড়িয়ে, আত্মধিক্কারে, কৈশোর থেকে গেঁথে চলা বুকের অগ্নিকুসুমের মালার শুকিয়ে কাঠ পাপড়িগুলো ঝরাচ্ছি , একটা একটা করে ঝরিয়ে ঝরিয়ে ,
ক্রমশ দু'পা এগিয়ে তিন'পা পিছিয়ে যাচ্ছি ।
হে মরণজয়ী , আপনার কাছে আমার সরাসরি জিজ্ঞাসা সাম্যবাদের পুনরুত্থান নিয়ে--
হে বিশ্বপথিক কবি-- উপলব্ধির গহন থেকে, সভ্যতার সংকট'এ... মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ--এই লিখন ছুঁয়ে , ১৪ই শ্রাবণ ১৩৪৮, সকাল সাড়ে ন'টায়, শেষ লেখা--
তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে
হে ছলনাময়ী !
তারপর প্রতীক্ষা , হে মহামরণের প্রতীক্ষা ।ডাকঘরের অমলের যেমন রাজার চিঠির জন্য খোলা জানলার বাইরে ,পাঁচমুড়ো পাহাড় আর শ্যামলী নদীর দিকে নির্নিমেষ চেয়ে থাকা....
তারপর , ২২ শে শ্রাবণের ভোরেরও আগে, বাংলার সঘন মেঘদিগন্তের আবছা প্রথম আলোয় , আচ্ছন্ন আপনার মহাজীবনের শেষ মুহূর্তের আগে , আর কিছুই কি বলার ছিলো না ?
কী ছিলো সেই --- আমার যাবার বেলায় পিছু ডাকে , ভোরের আলো মেঘের ফাঁকে ফাঁকে , পিছু ডাকে .... পিছু ডাকে...
কী ছিলো কবি ?
এই নির্জন স্টেশন রোডের টিমটিম চায়ের দোকানের নড়বড়ে বেঞ্চে , ক্রমশ ঠান্ডা চায়ের ভাঁড় হাতে , কোন অলীক আশায় ,কার উদ্দেশ্যে ,শূন্যে আঙুল চালিয়ে প্রিয় মিশ্রকলাবৃত্ত ছন্দে লিখে রাখছি -- আগামী দুনিয়া যেন মনে রাখে ,
আমাদের মিছিলের আদি-অন্ত ঘিরে ,
রক্ত পতাকায় ছিলো -- জাগো,জাগো,জাগো সর্বহারা।
জোড়াসাঁকোতে , না শান্তিনিকেতনে ? নাকি এই দুর্বিষহ অস্তিত্বহীনতার খাঁ-খাঁ দিগন্তে -- কোথায় , কোথায় আপনাকে পাবো বিশ্বকবি ?
দেখা হলে , কবিতার প্রলাপলিখন , আর ঘুরে দাঁড়াবার বিশ্বাসটুকু আপনার পায়ের কাছে নামিয়ে , একক ও সমবেত গেয়ে উঠতাম --
আলোকের এই ঝর্নাধায়ায় ধুইয়ে দাও...
আপনাকে এই লুকিয়ে- রাখা ধুলার ঢাকা ধুইয়ে দাও....
রবীন্দ্রনাথ
শাহীন রেজা
ফুল ফোঁটার আগেই বসন্ত এসে গেল,অথচ দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটা মানুষগুলো
কিছুতেই না ছুঁলো আকাশ না ছুঁলো মাটি–
ওদের রবীন্দ্রনাথ কী তবে শেষের কবিতা হয়ে ওঠেনি এখনও?
ব্রাহ্মপুত্রের জল গতকালও লিখেছিল উর্মিলিপি,
আজ সেখানে নেই জ্যোৎস্না-কোলাহল
শুধু সুনসান নীরবতা, বাতাসের মৌনব্রত–
বুকের ত্রিকোণ ছুঁয়ে একটি রাত পার হলো,
একটি মেঘের চাতাল ছুঁয়ে ভেসে গেল অন্যমেঘ।
তিনি ছিলেন তাই আমাদের জানালায় মুনিয়ার ঝাঁক, তিনি আছেন বলেই কবিতার যৌবনে এত জৌলুস।
রবীন্দ্রনাথ আমাদের ফুলের আগেই যেন বসন্ত বাহার, শব্দ সুরুয়ায় ডোবা চাঁদ মনিহার।
তোমার স্পর্শে বাঁচি
রবীন বসু
দারুণ এ গ্রীষ্ম আজ, বৈশাখের তপ্ত দিন
বাতাসে বারুদ ভাসে, মৃত্যুর ঘন মিছিল,
সবদিকে প্রতিশ্রুতি, কানে তুলো গুঁজে নিন
মিথ্যার বহর দেখি, মানবতা সে পিচ্ছিল।
হিংসা নিয়ে ছোটে হিংসা, লোভ গৃহে অন্তরিন
নন্দিনীর ডাক বৃথা, উদ্যান পক্ষীবিহীন।
রঞ্জন কোথাও আছে, ভাঙতে চায় রুদ্ধ দ্বার
অস্থির সময় ঘিরে ডাক ফেরে বারংবার।
তবুও কোথাও আছো তুমি রবীন্দ্র ঠাকুর
তোমার স্পর্শে বাঁচছি, জানি জীবন আতুর।
কাগজের জাহাজ
তৈমুর খান
এক একটা কাগজের জাহাজ তৈরি করে উড়িয়ে দিচ্ছি
সবগুলোই শান্তির জাহাজ
সারা পৃথিবীময় বোমা ফেলছে যুদ্ধের সৈনিকেরা
তাদের সামনে গিয়ে আমার শান্তিসেনারা দাঁড়াক
ভেজা বালিতে শুধু রক্ত
কতদিন শিশির পড়া দেখিনি
আনন্দসংবাদের পাখি ভোর ভোর ডাকেনি
জুঁই ফুল ফুটে উঠে বলেনি ‘সাবাস সূর্য!’
আমলকী বন কেঁপে ওঠেনি আর…
রবীন্দ্রনাথের স্ট্যাচুর কাছে দাঁড়িয়ে
শান্তিসেনারা আজ ঘোষণা করুক :
আমরা সবাই জীবিত!
শান্তিনিকেতনের রাতে(কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মরণে)
গৌতম হাজরা
কোপাইয়ের জল আর তোমাকে ছোঁয়া না
রাঙামাটি থেকে আজ তোমার অবসর,
এখন ছাতিম ফুল ফোটে কি জ্যোৎস্নায়?
এখনও কি শোনো তুমি পাখির কলরব?
তোমার কথা কি আজ ভুলতে বসেছি?
কাল থেকে মন বড় বিষন্ন হয়েছে,
মুক্ত বাতাসে নেই একতারার সুর
ভুবনডাঙ্গা আজও অপেক্ষায় রয়েছে।
তোমাকে ঘিরেই এই জন্ম যাতায়াত
নরম অপেক্ষা ঘিরে রোজ সন্ধ্যা নামে,
আলো বাতাসের সাথে সাঙ্গ হয় কথা
ছায়াকাল পেরিয়ে কেউ এখানে কি থামে?
এবার বর্ষাশেষে দূর ওই মেঘেদের পাশে
দেখা হবে ঠিক পুনর্বার,
উথালপাথাল হবো শান্তিনিকেতনের রাতে
তোমার গানের সুরে ভাসবো আবার!
ছবি
সাতকর্ণী ঘোষ
চোখ খুললেই মৃত্যু - মিছিল
চোখ বুজলেই কবি
মাথার পাশে গীতাঞ্জলি
হৃদয়জুড়ে রবি।
বৈশাখ যখন আসে
অশোককুমার লাটুয়া
ভাবনা পঁচিশে
বৈশাখ যখন আসে
আপাদমস্তক আয়নায় দাঁড়িয়ে বুঝি
আছে তৃষ্ণার জল তবু যেন অনন্ত পিপাসা।
দু-একটা নক্ষত্র হলেই চলবে
গোটা আকাশ অসমাপ্তির কথাই বলবে।
আলো কুড়োনোর পথে আশ্চর্য আশ্রয় আমাদের হিমালয়
রবীন্দ্রনাথকে মুখস্থ করতে পারলেই পৃথিবীটা মানুষের উঠোনে সব ফুল হয়ে ফুটবেই।
রবীন্দ্রক্ষুধায় এখনও বৈশাখ স্বাদেশিক সভায় ' ভদ্রদস্তুর মতো আধমরা ' যাপনে ইচ্ছাখুশীর অবাধ পাখির গল্প।
তুমুল ভাইরাস -- বেদম নাভিশ্বাস মৃত্যুর প্রহরে আজ তোমার কাছে উচ্চারণ --
' দাও ফিরে সে অরণ্য' অকপট সবুজ হাওয়ার কলরব।
হৃদয়ে রাখি
তপনজ্যোতি মাজি
বহুদিন আগে এরকম নিদাঘ প্রহরে কার কণ্ঠে
শুনেছি ' বাঁশিওয়ালা'?
চোখ বন্ধ করে প্রার্থনার মতো কার উচ্চারণ
শুনি, ' অন্তর মম বিকশিত কর…'
পশ্চিমের ঘরে কে গায় ' তোমার অসীমে প্রাণ মন লয়ে
যত দূরে আমি ধাই …।'
বিস্ময় ও মুগ্ধতা ঘিরে জীবনের নিত্য আবর্তন।
তুমি আছো বলে সমস্ত রুক্ষতায়
অনুভবে স্নান করে এ আমির অন্তর জন।
এই কি কথা ছিল
অনিন্দিতা শাসমল
জীবন আজ মৃত্যুর কাছে পরাজিত ;
আতঙ্কের প্রহর গুণছে তোমার জন্মমাস।
এই কি কথা ছিল কবি?
ফুল আর মালা হাতে কত উজ্জ্বল হাসিমুখ,
স্কুলপ্রাঙ্গণে তোমার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ,
সত্যিকারের ঠাকুরপুজো করবে বলে একবছরেরও বেশি অপেক্ষায় !
"আলোকের এই ঝর্ণাধায়ায় ধুইয়ে দাও..."
সুর তুলবে বলে ,নড়বড়ে হারমোনিয়ামটা অপেক্ষায় ছিল..
তার বদলে আবিশ্বে, একটাই সুর ধ্বনিত হয়ে চলেছে..
" না বাঁচাবে আমায় যদি মারবে কেন তবে ?
কিসের তরে এই আয়োজন এমন কলরবে ?
অগ্নিবাণে তূণ যে ভরা,চরণভরে কাঁপে ধরা,
জীবনদাতা মেতেছে যে মরণ - মহোৎসবে ।।"
এই কি কথা ছিল কবি ?
তোমার জন্মমাসে !
কবিগুরু রবি বন্দনা
ভবানী প্রসাদ দাশগুপ্ত
আজি হতে সার্ধশতাধিক বছর আগে,
নববর্ষের রুদ্ররাগে পঁচিশে বৈশাখে,
এলেন দেবেন্দ্রের দেবালয়ে পরম সুখে
সুরের যাদুকর রূপে এ ধরার বুকে।
স্বাগত হে কবি প্রকৃতির সুন্দর আলয়ে
সুশিক্ষা সাদরে লভিলে অন্তর-বলয়ে,
ডুবিলে জ্ঞানসমুদ্রে সৃজিলে ছন্দ লয়ে
সুরে অমৃতধারা ছড়ালে তাপিত হৃদয়ে।
তব চিন্তাচেতনায় অধরা প্রকৃতি খেলে
অদম্য জ্ঞানপিপাসা সারাবিশ্ব ভ্রমিলে,
জ্ঞানামৃত সুধাপানে তপ্ত হৃদয় জুড়ালে
স্বীয় আত্মা পরমাত্মায় মিলন ঘটালে।
হে কবি-শিরোমণি প্রেমের খনি কবিন্দ্র
তুমি সুরের মায়ায় সুর-স্রষ্টা সুরেন্দ্র,
বাণীবন্দনায় ভাবের মূর্চ্ছনায় জিতেন্দ্র
ভুবনে বিশ্বকবি নামে নাথ হলে রবীন্দ্র।
বাংলা সাহিত্যে প্রতিক্ষেত্রে তব বিচরণ
কবিতা উপন্যাস নাট্যে অবাধ সন্তরণ,
আবেগের অন্তঃস্থলে জাগালে শিহরণ
আনন্দে বিমোহিত পাঠক ভক্তগণ।
বাংলার কবি ধন্য রবি বিশ্ব-সংসারে,
মানুষ পরম শ্রদ্ধাভরে পুজিছে অন্তরে।
আজি এপ্রভাতে শুভ জন্মদিনস্মরণে,
প্রণাম জানাই কবিতীর্থে নত কায়মনে।
আশ্রয়
পার্থ সারথি চক্রবর্তী
সেদিন ভোরে স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙে-
চোখ মেলি, দেখি আকাশের রঙসজ্জা
মন উড়ে যায় নীলাকাশে
গুনগুনিয়ে ওঠে মন-
সব চিন্তা ঝেড়ে ফে'লে।
একমাত্র আশ্রয়, আশ্রয় আমার-
তোমার সৃজন, তোমার মনন
"আমার পরাণ যাহা চায়, তুমি তাই"-
সত্যিই তো তুমি তাই!
তুমি আছো দুঃখে, প্রেমে, বিরহে, আনন্দে।
আমার মনজুড়ে-
জীবনে আলোর দিশা হয়ে।
প্রিয় কবির প্রতিআলোকরেখা চক্রবর্তী
শৈশবে আমার, তুমি
'শিশু ভোলানাথ' হয়ে দিয়েছিলে ধরা।
কৈশোরে!বড়ো প্রিয় 'অমলের দইওয়ালা'।
তারপর জীবনের চরমতম দুঃখের মুহূর্তে
যখন মনে পড়ল তোমার কথা,
মনে পড়ল সেই শাশ্বত বাণী-
না ভেঙে নতুন কিছু যায় না গড়া।
বুঝলাম আজ তুমি
আমার মনের প্রতিটি কোনায়-
একেবারে মূলাধার থেকে ব্রহ্মদেশ পর্যন্ত।
তাই হৃদয় পদ্মে দিয়ে স্থান,
গেয়ে উঠি গান-হে চির নতুন!
আমাকে আরও আরও দাও প্রাণ।
জীবনের রঙ
দুরন্ত বিজলী
মেয়েটিকে কাছে এগিয়ে আসতে দেখে সতর্ক হলাম।
মুচকি হেসে সে বলল -- কেমন আছেন ? অন্তরঙ্গতার সুর শুনে মুখ তুলে দেখে তার সুন্দর ঠোঁটের সুন্দর অভিব্যক্তি ভালোবাসার রং ছড়িয়ে দিল।
স্বল্প হাসিমাখা মুখে বললাম -- ভালো। আপনি? সে মাথা নেড়ে উচ্ছল হাসিময় মুখে বলল - ভালো।
সুন্দরী ও কোমল পেলব মৃত্তিকাময় নারীরা আমাকে টানে।
মনে মনে ভালোবাসি। কিন্তু বলতে পারি না। এই যে লিখে দিলাম দু'ছত্র, সেসবই পোড়ারমুখির জন্য, যাকে আমি যতই ভুলে থাকব বলি, সে থাকতে দেয় না। খোঁচা দিয়ে বলে - আমাকে ভুলে গেলে? লেখো, ভালোবাসাই তো জীবনের বেঁচে ওঠার রঙ। ভালোবেসেই লেখো।
একতারা
জুলি লাহিড়ী
রঙিন জোব্বাজামা গায়ে
ঘুঙুর বাঁধা খালি পায়ে
হাতে একতারাটি নিয়ে
বাউল যায় হেঁটে পথ দিয়ে
রাঙা মাটির এই গ্রাম
তার পলাশডাঙ্গা নাম
সারাদিন রৌদ্র ছায়ায় ঘুরে
বাউল নানান রকম সুরে
গলায় রবিঠাকুরের গান
সবার শুনলে জুড়ায় প্রাণ
অ-শান্তিনিকেতন
তপন তরফদার
শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ প্রর্দশক কবিগুরু আজ
ফিউশনের জারকে তুমি জর্জরিত। এখন
শুধু পটে আঁকা ছবি নও, বিকিয়ে গেছ ডলারে।
তোমার ব্রহ্মচর্য্যের ছাতিমতলার উপাসনার মাটি
অবহেলিত, পলাশের পাপড়ি পায়ে পায়ে পদদলিত
কথায় কথায় তোমার কথা বলি - আদর্শ মানিনা।
শরীরের শিরা উপশিরায় অনুভবের আবেশে
দ্যুতিগন্ধ ভরা নিঃসাড় চেনা-অচেনার
ঝরাপাতার শব্দ - শুধুই আমির আমি।
প্রাণেতে প্রতিষ্ঠা করার এই তো মাহেন্দ্রক্ষণ
চোখ ধাঁধানো আলোর অন্ধকার নয়
চাই, উজ্জ্বল রবির কিরণ - আনো সর্বত্রই।।
কাঁচের জ্বর ও বৈরাগ্য
নিমাই জানা
নীলাভ আবাদের জন্য সাম্রাজ্যের সূচনা করছেন তিনি
মৃত্যুর সাথে লাউয়ের বীজ পুঁতে দিলে তরতর হেঁটে যাচ্ছে অকালবোধনের গ্ৰামে
নিমগাছ তেতো বলেই ঈশ্বর রাত্রিকে ছুঁয়ে থাকে আপাদমস্তক গভীর রাত্রিতে ও
গায়ের সকল নিঃস্বার্থ কঙ্কাল-খুলে ফেলে বিনিদ্র রক্তচাপের কাছে , ধোঁয়া কে কখনও পরম বন্ধু বলে মনে হয়
উদ্বায়ী কে ? বরফের জোনাকি না সোনালী ধানের পরকীয়া
সাদা সাদা বরফের স্তুপ খুলে রেখে বৈরাগ্যের পোশাক ধরতে কয়েকটি মুহূর্ত সময় লেগেছিল
তাকে অনাবৃত দেশলাই কাঠি বলি
যার অন্তঃস্থ অক্ষরকে ভরে রাখি নিরাময় জলের মতো
অক্ষরের ভেতর হেঁটে যাচ্ছেন সাম্রাজ্যের ঘর্মাক্ত পুরোহিত
পোড়া চুল্লীর জ্বর মাপছে কালবৈশাখী ও কাঁচের সেলসিয়াস স্কেল।
যদি এমন হত
দীপক বেরা
এমনই খরবৈশাখের আকাশে একফালি মেঘ থেকে
কবে যেন বৃষ্টির ঝরনা ঝরেছিল আমার উঠোনে
মনে পড়ে আবছা আবছা
মাটির সোঁদা গন্ধ উঠেছিল, নেচেছিলাম আনন্দে
"মোর ভাবনারে কি হাওয়ায় মাতালো..."
হালকা হাওয়া দোলা দিয়েছিল, ঠিক কবে যেন মনে পড়ে না
শুধু মনে পড়ে, সেদিন গুমরেছিল আকাশটা
মনে মনে ডেকেছিল আমাকে, শুধুই আমাকে
এই বৈশাখের দাবদাহে তিনিই তো লিখেছিলেন
"দারুণ অগ্নিবাণেরে..", কিংবা "আমি বৃষ্টিবিহীন, বৈশাখী দিন.."
কিন্তু, আমরা এমন সুন্দর করে লিখতে পারি না কেন?
আচ্ছা, যদি এমন হত?
'রবীন্দ্র জন্ম জয়ন্তী'-তে আমরা সম্মিলিত রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইছি
"এসো হে এসো সজল ঘন বাদল বরিষণে
বিপুল তব শ্যামল স্নেহে এসো হে জীবনে"..
আর তখনই একমুখ সাদা লম্বা দাড়ি নিয়ে লাঠি হাতে
রবিঠাকুর এসে দাঁড়িয়েছেন আমাদের মঞ্চের পেছনে
কিছুটা অলৌকিক ভাবেই যেন রবিপুজোয় আমরা পেতাম তাঁকে
আর, বৃষ্টির আশীর্বাদ রবি কথামালায় সম্পৃক্ত হয়ে ঝরে পড়ত সেদিন!
পঁচিশে বৈশাখ
বহ্নি শিখা
জীবনের সব কথা বলে গেছো,
সুখ-দুঃখ,প্রেম বিরহ বেদনা,
আনন্দ উল্লাস কিছুই বাকি রাখোনি
আমার কতটুকু বা জানা?
এতো প্রেম ভালোবাসা এতো দ্বন্দ বিষাদের রব,
বিশাল কর্মযজ্ঞ, এতো ভক্তি শ্রদ্ধা এতো ভাব-অনুভব!
এক জীবনে তোমায় জানা সে যে দুষ্কর আমার ,
অবলীলায় বলে গেছো সর্ব কালের
মনের কথাটি সবার,
জীবনের পরতে পরতে এমন করে আমারই ছবি এঁকে গেলে!
শৈশব,যৌবন প্রৌড়ত্বে এসে
তোমাকেই পড়ি নিরালে!
যতোই পড়ে যাই ততোই যে নতুন লাগে,
ভাবের অনুভাবে বিস্ময় অন্তরে শুধু বিস্ময় জাগে।
সেই তুমি এই ধরাতে এসেছো তপ্ত রবির গ্রীষ্মের বৈশাখে,
নতুন পাতায়,ফল-ফুলে ভরা সবুজ পৃথিবীর বৈভব মেখে।
আজ সেই পঁচিশে বৈশাখ প্রিয় কবিগুরু তোমার জন্মদিন,
প্রণাম লহো গুণী, বাণী হীন হৃদয়ে আমার থেকো হে চির অমলিন।
পরশ
মালা ঘোষ মিত্র
নতুন ধানের গন্ধ
মিটমিট করে আকাশের নক্ষত্রেরা
ভোরের বাতাস
কি এক মিঠেল রোদ
তবুও বদলে যাচ্ছে ধরিত্রী
দারুন এক দুঃসময়
রবিঠাকুর একবার এসো
উর্বর পলিমাটি দাও ভূমির উপর
যাতে উন্নত শিরে দাঁড়াতে পারি
বৈশাখ বৃষ্টিশেষে মাধবীলতার সৌরভে
নতমস্তক ; কচিপাতায় ভরে যায়
হৃদয় পরব্রহ্মের পরশ পায়।
আত্মার কবিগুরু
নন্দিনী মান্না
প্রভাতের প্রথম সূর্যের আলো,
কবিতায় প্রকাশে আনন্দ পেলো।
দিন-রাতের চারপাশে,
লেখনি ঝরে কোন আবেশে।।
জনগনমন অধিনায়ক সংগীত,
মর্যাদার আসনে জাতীয় সংগীত।
দার্শনিক প্রজ্ঞার কতো যুক্তি,
আধ্যাত্মিকতায় মেশানো সংস্কৃতি।।
গল্প রূপের ঘটলো চলচ্চিত্রায়ন,
বাঙালির সম্মান -দ্বারের উন্মোচন।
ঝড়ের বিপর্যয়ে ছন্দ প্রকাশমান,
শান্তির বার্তায় ছন্দ হিমায়ন।।
মননে -চিন্তনে আবেশ জড়ানো,
উপলব্ধির সচেতনতায় পরশ মাখানো।
ভালো-মন্দের ভাবনা মেশানো,
সুখ-দুঃখের আবেগ ভেজানো।।
সমীপেষু রবীন্দ্রনাথ
কুমকুম বৈদ্য
রবীন্দ্রনাথ আপনার জন্ম দিন এসে গেল আবারো
ধূপ ধুনা মালা দিয়ে আপনার পূজো হবে আবারো
যদিও আজকাল আমাদের দেশের শিক্ষাবিদ রা, যারা ই স্কুলের সিলেবাস তৈরি করেন
সহজ পাঠের কোনো ভূমিকা খুঁজে পান না প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
তবে আপনার গান কিশোর কুমারের গলায় আরো একশ বছর মার কাটারি ডিমান্ড পাবে পূজোর প্যান্ডেলে
কারন নতুন কিছু করার মেধা চর্চা বাঙালী আর করতে চায় না, টুকে বুকে সে দিব্বি চালিয়ে নেবে
চারদিকে ভীষণ মহামারী, আপনার হোমিওপ্যাথি বাক্স উধাও
টিকা ফিকার ব্যাপক স্কারসিটি , আসলে এক শ্রেনির মানুষের কাছে সব কিছুই অপ্রতুল
চাল ডাল নুন স্বাস্থ্য -এ আর নতুন কি বিষয় সবই আপনি জানেন
আবার ক দিন ধরে বেশ কিছু লোক নেচেকুঁদে গেয়ে আবৃত্তি করে নিজের রুচি আর এক্সট্রা ক্যারিকুলার একটিভিটিস চর্চা করবে
তা ডাল ভাতের জোগান থাকলে এইসব খুটখাট পূজা পার্বণ মন্দ লাগবে না বটে
রামচন্দ্র আবার জীবিত হবেন অচিরে ই
আপনি ও ভাবুন মহাভারত টা কভার করেছিলেন কর্নকুন্তী সংবাদ দিয়ে
রামায়নটা নিয়ে যদি কিছু পারেন করতে
না হয় এখানে এসে সব দেখে শুনে ক্ষেপে গিয়ে-
নোবেল টা ও যে ত্যাগ করবেন তার ও তো উপায় রাখে নি রেপ্লিকা
না হয় সীতা মাতার সাথে সহ পাতাল ই প্রবেশ করবেন খন...
তবু ২৫শে বৈশাখ ফুল দুব্বো দিচ্ছি পায়, ভেবে দেখবেন অনেক দিন হল
যদি আর একবার ফিরে আসা যায়।
চরৈবেতি
জয়শ্রী সরকার
নদীকে প্রশ্ন করেছি -----
তুই এত অবিশ্বাসী কেন ?
শিলাইদহের ঘননীল জলের মতো
নদী মুচকি হেসেছে , বলেছে -----
" এ দৈন্য মাঝারে কবি
একবার নিয়ে এসো স্বর্গ হতে বিশ্বাসের ছবি ! "
আবার প্রশ্ন ছুঁড়েছি ----
তুই এত রক্ত ঝরাস কেন ?
ছলাৎ ছলাৎ শব্দে আছড়ে পড়েছে নদী
শিলাইদহের তটে ;
নিরুচ্চারে গেয়েছে --
" তৃষ্ণার শান্তি , সুন্দর কান্তি .... ! "
অগ্নিগর্ভ হয়ে প্রশ্নে বিদ্ধ করেছি নদীকে ----
কোথাও বন্যা , কোথাও খরা ,
কেন এত বিমাতৃসুলভ তুই ?
নিস্তরঙ্গ শিলাইদহের মতোই
নদী তখনও নিরুত্তাপে বলেছে ---
" আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়েছিলে দেখতে আমি পাইনে ... ! "
এপারে দাঁঁড়িয়ে বলেছি ---
আমায় যে যেতে হবে ওপার ,
শিলাইদহে তখনও আছড়ে পড়েছে ঢেউ ।
নত হয়ে বুক পেতে দিয়েছে নদী ,
বুঝিয়ে দিয়েছে ---বহমানতাই তার ধর্ম ; বলেছে ,
"ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে ?"
আমিও নদী-পথ ছেড়ে --অন্য পথে
জনারণ্যের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছি
জীবনদেবতার সন্ধানে ...
অনন্তের পথে --- সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ !
গভীর মগ্নতায় গেয়েছি ---
" চরণ ধ'রিতে দিও গো আমারে ...! "
কিছু কথা
তীর্থঙ্কর সুমিত
এক দৃষ্টে আমি তাকিয়ে ...
উড্ডীনতায় গান গায় পাখি
উড়ে উড়ে আরো দূরে
স্মরলিপির গান ঠোঁটে
মেঘ ভাসা শহরে পাখির কথা
ব্যর্থতায় জমা হয় ইতিহাস
আলাদীনর অন্তহীনতা গায়ে মেখে
হেঁটে চলি পাখির সাহসিকতাকে ছোঁবো বলে
তাইতো এ পথে এখনও ধুলো ওড়ে।
রবি ঠাকুর
সুমন রঞ্জন সেন
রবি ঠাকুর প্রণাম জানাই
জন্মদিনে কেবল যে নয়,
তোমার কর্মে ধরায় যেন
কাব্য জগত অপার এ জয়।
তোমার দীপ্তি শিখা দিয়ে
নব সাজে সেজে আছে,
জ্বলে উঠে হৃদয় বীণা
কেমন করে চিত্ত নাচে।
কর্ম মাঝে আজও অমর
জগত মাঝে বিশ্ব কবি,
হৃদয় জুড়ে রাখব সদা
কর্মে শ্রেষ্ঠ মোদের রবি।
জীবন্ত ঈশ্বর
বিমল মণ্ডল
আমার শৈশব আর মায়ের ঘরে
খোলা বারান্দায় যখন রাত্রি নামে
তোমাকেই দেখি আমি,উইধরা ছবির থেকে
ছিটকে আসে হাজার আলো
বিস্ময় চোখে মা গুনগুনিয়ে গায় গান।
সময় আমাকে নিয়ে যায় ঈশ্বরের পাতায়
আমার চিনতে চিনতে রাত ভোর হয়ে যায়
দিনের আলোয় বদলে যায় দেশ,কাল, মাটি আর এই সভ্য মানুষজন
বিচার, বিবেক, নৈতিকতার সাথে সাথে ভুলেছে তোমাকেও
তবুও তুমি দীর্ঘ ক্ষেত্র, বিশ্ববাসীর জীবন্ত ঈশ্বরও...
মননে তিনি
দীনেশ সরকার
রাঙামাটির পথে পথে
হেঁটেছি যে একা
শাল-পিয়াল আর পলাশ বনেও
পাই নি যে তাঁর দেখা ।
ভুবনডাঙার মাঠে মাঠেও
খুঁজেছি যে তাঁকে
আবার তাঁকে খুঁজেছি যে
খোয়াই নদীর বাঁকে ।
তিনি আমার প্রাণের ঠাকুর
তাই তো তাঁকে খুঁজি
ক্লান্ত হয়ে ছাতিমতলায়
চক্ষুদুটি বুঁজি ।
পেলাম যেন পরশ কারও
রাখলো কেউ মাথায় হাত
চক্ষু খুলি, সামনে দেখি
স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ।
তোমার অভয়বানী
সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী
এখানে
নিঃশব্দে নিথর হয়ে
পাথরের বুকে শুয়ে আছে
শতাব্দীর জঞ্জাল,
চিত্রকরের তুলিতে রংহীন সময়ের
বিবর্ণ ছবি আর হয়নাকো আঁকা
সবি ফাঁকা
নীরবে দাঁড়িয়ে দেখে মহাকাল।
তোমার অভয়বানী
আজো আমরা পূঁজি করে ধরে আছি
আগলে রেখেছি আজো অনেক ত্যাগে,
আজো অপেক্ষায় চেয়ে আছি
হয়তো আবার খুঁজে পাবো
তোমার কোনো গান কিংবা কবিতায়
কোনো এক পরন্ত বেলায় রাগ অনুরাগে।
কালের ঘোড়া ছুটিয়াছে লাগামহীন
অচেনা কোনো এক আস্তাবলের দিকে
দিবসের রোদ ফিকে হয়ে ডাকিছে অন্ধকার,
পাহাড়ের উঁচু চূড়ায় তারি শেষ রেখা
টানিয়াছে মোহনীয় দৃশ্যপট,
পেছনে ধূলির ঢেউ দেখে ভাবি
সোয়ারি হয়তোবা ভীষণ উদ্ভট।
পৃথিবীর এ দুঃসময়ে
তোমার অমৃত মৃত্যুঞ্জয়ী কথা
গান ও কবিতা
যতো কিছুই দিয়ে গেছো আমাদের
অকৃপণ হাতে,
আজ আর দেবতা নয়
নেই কোনো আরাধ্যা কিছুই
বেঁচে থাকার বন্দনা গাহি তোমারই
ওহে গুরু প্রতিটি প্রভাতে।
মুখর দিনের সে ভাষা
শঙ্কর তালুকদার
জোনাকির সে আলোয় স্বপ্ন ছিল শুধু তোমাতে,
অসীম দীপ্ত প্রাণে তাই মেনেছিলে তারে মণিকা,
প্রত্যক্ষ সে আঁধার মাঝারে স্তব্ধ ছিল সে নিশীথে
চলনে তাহার আলোর বিন্দু উড়ছে সে কণিকা॥
আজ ও প্রাসঙ্গীক তব লিখন যেন সে পথধারে
যেন ফুটে আছে তাই অনন্ত ক্ষণিকের সে ফুলে,
আজ ও জীবনের চলার পথে দেখে যারা তারে
সকলেই দেখি স্মৃতির চলনে রয় সে পথের ভুলে
বর্ষা গোনে না প্রজাপতি সেতো রূপান্তরের ছাঁচে
সব প্রাণ এ পথিবী জুড়িয়া- নিমেষ গণিয়া বাঁচে,
হিসেব ছাড়া কত কি আছে এই জীবনের মাঝে
মায়ার এ জগতে সময় তাহার যথেষ্ট তাই আছে!
সকল ছন্দে ঘুমের আঁধারে কোটরের তলে ঠাসা চলার
পথের রকমারী আবেগে স্বপ্নপাখির বাসা,
আজো খুঁজি তা তোমার কলমে যা ছন্দের ভাষা
কুড়িয়ে আনে মুখর দিনে খসে-পড়া সেই ভাষা।।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন