বৃহস্পতিবার, ১৩ মে, ২০২১

ধারাবাহিক উপন্যাস(পর্ব-৩)।। ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে — অনন্যা দাশ।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali poem in literature ।।

 






ধারাবাহিক উপন্যাস (পর্ব-৩)

ছায়া - ছায়া অন্ধকারের আড়ালে

অনন্যা দাশ



বাড়ি ফিরে অনেক কাজ করলাম। কাচা জামাকাপড়গুলো ডাঁই হয়ে পড়েছিল সেগুলোকে গোছালাম। মুসুর ডাল, ভাত আর চিংড়ির মালাইকারি রান্না করলাম। ঐশী আবার মাছ খেতে খুব ভালোবাসে কিন্তু এখানে টাটকা মিষ্টি জলের মাছ তেমন পাওয়া যায় না তাই চিংড়িই ভালো। সব কাজ শেষ করে দেখলাম নটা বাজে। আমাকে খেয়ে নিতে হবে। ঐশী কখন আসবে তার ঠিক নেই। আমাকে আবার কাল খুব ভোরেই ল্যাবে যেতে হবে। খেয়ে দেয়ে টিভিটা চালিয়ে বসেছিলাম। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি তা নিজেই জানতাম না। ঐশী কাজ থেকে ফিরে এসে আমাকে ঘুম থেকে তুলল। তারপর গল্প জুড়ে দিল। চিংড়ি রান্না করেছি বলে খুব খুশি। খেতে খেতে এটা সেটা বলেছিল। ফেসবুকে নাকি ওকে কী একটা ছেলে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল তাকে কী ভাবে জব্দ করা যায় সেই নিয়ে কিছুক্ষণ বকবক করল। আমি আর জেগে থাকতে পারছিলাম না, ওষুধটা খেয়েছিলাম যে! কোন রকমে ওর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজের ঘরে শুতে চলে গেলাম।   



পরদিন সকালে উঠে ল্যাবে যাবার জন্যে তৈরি হতে গিয়ে দেখলাম যে জামাটা পরে যাবো ভাবছিলাম সেটাকে কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না। শেষে দেখলাম নোংরা জামাকাপড়ের ঝুড়িটাতে পরে রয়েছে। আমি একটু আশ্চর্য হলাম, কারণ আমি ওই জামাটাকে তো বেশ কিছুদিন হল পরিইনি। তার মানে ঐশী আমার জামাটা পরেছিল। প্রায়ই অমনটা করে ও। যাক কী আর করা যাবে? এখানে ওর মতন বাঙালি রুমমেট পাওয়া বেশ মুশকিল। আমিও তো আবার সবার সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারি না। এর আগে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আমার ঝামেলা হওয়ায় আমাকে অনেকবার বাড়ি বদল করতে হয়েছে। শেষমেশ ঐশীকে পেয়েছি আমি মাস তিনেক হল। ওর এমনিতে কোন ঝামেলা নেই। ওই রাত করে আসে আর দেরি করে ঘুমোয়। সকালে আমি যখন বেরই তখন ওকে কোনদিন দেখতে পাই না, ওর তখন মধ্যরাত্রি!  



পলাশদার সঙ্গে দেখা হল ক্যাফেটেরিয়াতে। বলল, “কী রে গিয়েছিলি নাকি ডাঃ মিত্রর ওখানে?”আমি বললাম, “হ্যাঁ, বেশ ঝরঝরে লাগছে নিজেকে। ঐশীর ঠিক পছন্দ নয় ব্যাপারটা তাই ওকে বলিনি অবশ্য!”

পলাশদার ভ্রু কুঁচকে গেল, “ঐশী আবার কে?”

“ও আমার রুমমেট, ওহো তোমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়া হয়নি ওর!”

“কোথাকার মেয়ে?”

“আরে কলকাতার মেয়ে আবার কোথাকার!”

“ও তাহলে তো সুনেত্রাদিদের বাড়িতে রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠানে নিয়ে আসতে পারিস! সবার সঙ্গেই আলাপ হয়ে যাবে তাহলে ওর! ওর ফোন নম্বরটা দে আমি মেসেজ করে দেবো নাহয়।” 

“ও হ্যাঁ, ভালো মনে করিয়েছ! নিশ্চয়ই নিয়ে যাবো! ও একটা কোম্পানিতে চাকরি করে তাই একটু ব্যস্ত থাকে। তবে আগে থেকে বলে রাখলে নিশ্চয়ই যেতে পারবে। আমি আজই ওকে বলে দেবো। ওটা কত তারিখ হচ্ছে যেন?” 

“১৯ তারিখ। তুই সুনেত্রাদির ইমেল পাসনি?” 

“পেয়েছি কিন্তু আমার আর খুলে দেখা হয়নি। জানই তো যা কাজের চাপ! আচ্ছা এবার আমি যাই। বস খেপে যাবে!”

ঐশীর নম্বর দিয়ে ল্যাবে ফিরে দেখি বস রেগে অগ্নিশর্মা! কোন একটা কাজ ওর পছন্দ হয়নি তাই নিয়ে অশান্তি! আবার করতে হবে কাজটাকে। সে নাহয় হল, আবার করব কিন্তু ওই রকম ষাঁড়ের মতন চেঁচানোর কী আছে বাপু বুঝি না! ল্যাবের সবাই ভয়ে তঠস্থ হয়ে রয়েছে! যাক আর কী হবে, সাগরে যখন শয্যা পেতেছি তখন আর শিশিরকে ভয় পেলে তো চলবে না, কাজ করতেই হবে। কোমড় বেঁধে কাজে নেমে পড়লাম। অন্তত ডাঃ মিত্রর কল্যাণে রাতের ঘুমটা ভালোই হয়েছে!  




চিফ মার্কাস কোলম্যানের ফোনে কথা বলা শেষ হতেই ডিটেকটিভ রোহন কুমার অনুমতি নিয়ে ঘরে ঢুকে এসে বললেন, “একটা অদ্ভুত কেস এসেছে মার্কাস! ছেলেটা রাত করে বাড়ি ফিরছিল। মোটরবাইক থেকে নেমে বাড়ির দিকে এগচ্ছিল এমন সময় পিছন থেকে হামলা! ক্যারাটের প্যাঁচে ওকে কাবু করে ফেলে দা বা ধারলো ছুরি জাতীয় কিছু একটার কোপ দিয়ে ওর ডান হাতের আঙ্গুলগুলো সব কেটে দিয়েছে কেউ! ছিনতাই না কিছু না! রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে। প্রাণে হয়তো বেঁচে গেছে কিন্তু প্রচন্ড শক পেয়েছে। ওর হাতের আঙ্গুলগুলোও রাস্তাতে ওর পাশেই পড়েছিল! বীভৎস রক্তারক্তি কান্ড!” 

“কী সাংঘাতিক! কাউকে সাস্পেক্ট করা হচ্ছে?”

“ল্যারি ছেলেটা এমনিতে খুব বদ! এক নম্বরের বুলি, মানে সাইবার বুলি আর কী! ফেসবুকে মেয়েদের হাবিজাবি লিখে বিরক্ত করত তাই অনেক মেয়েরাই ওর ওপর খুব চটা। তাদের মধ্যেই কেউ রেগে গিয়ে কাজটা করে থাকতে পারে। ওর অ্যাকাউন্টটা আমরা খতিয়ে দেখছি। বেশির ভাগ মেয়েই ওকে আনফ্রেন্ড করে ব্লক করে দিয়েছে কিন্তু একটা মেয়ে তুমুল লড়ে গেছে আর প্রতিবাদ করে গেছে! যদিও তাতে কিছুই প্রমাণ হয় না তাও মেয়েটার কথাবার্তা আর ওর রাগ দেখে আমার মনে হয়েছে ওই দিকটা আরেকটু ইনভেস্টিগেট করে দেখা যেতে পারে।”

“হ্যাঁ, হ্যাঁ। একদম ঠিক ভেবেছ! মেয়েটা কে? কী নাম? কোথায় তাহকে কিছু পেয়েছ?” 

“হ্যাঁ, নাম ঐশী ঘোষ। এ ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছে না প্রোফাইল থেকে। প্রোফাইলের ছবিটা বলিউডের একজন নামকরা হিরোইনের কিন্তু ল্যারি তো আর সেটা বোঝেনি! মেয়েটাকে উল্টোপাল্টা কথা বলে খুব বিরক্ত করছিল ল্যারি। বেশ কয়েকবার কুপ্রস্তাবও দিয়েছে ওর সঙ্গে শোয়ার টোওয়ার! মেয়েটা তখন প্রচন্ড খেপে যায়! তারপোড় শুরু হয় ঝগড়া! নোংরা কথার ছড়াছড়ি! শেষে মেয়েটা ওকে বলে আমি তোকে দেখে নেবো! সেই জন্যেই ব্যাপারটাকে আরও একটু খতিয়ে দেখতে চাই। আই টি ডিপার্টমেন্টকে লাগিয়েছি যা কিছু জানা যায় তা খুঁজে বার করার জন্যে!”  

মার্কাস কোলম্যান বললেন, “হুঁ! আমার মেয়ে কলেজে পড়ছে তাই আমি বুঝতে পারছি কী চলছে! ওই ল্যারি ছেলেটার প্রতি আমার অন্তত কোন সহানুভূতি নেই! তুমি তদন্ত যা করার করো, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে ও নিজের পায়ে নিজেই কুড়ূল মেরেছে!”

“তা যা বলেছেন! ভিমরুলের চাকে হাত দিয়েছে!”    








আরও পড়ুন👇👇👇



https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/05/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_13.html





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন