পবিত্র মুখোপাধ্যায়ের দু'টি কবিতা
১.
মুখোশ, মুখোশ শুধু,
আমাকে অস্থির
ক’রে তোলে, নিরুপায় হয়ে তুলি হাত
আকাশে,… খটখটে মেঘ-রোদ্দুরের অনির্বচনীয়
সুন্দর নির্মাণ করে চিরায়ত
আর এক পৃথিবী;
আমি চেয়ে থাকি নির্নিমেষ।
এখন মুখোশ যুদ্ধে কেউই পরে না ছদ্মবেশ,
স্বাভাবিক দেখে ভাবি- আড়ালে
নেকড়ের চোখ জ্বলে;
ধারালো নখের লক্ষ্য ঢেকেছে আস্তিনে।
আমি অক্ষরের যাদুবলে
মুখোশের আড়ালে যে মুখ, তাকে চিনে
নিতে গিয়ে দেখি, তাও
প্লাস্টিক সার্জারী করা, অন্য আগন্তুক।
ছেলেবেলাকার সেই চোখ-নাক-মসৃণ চিবুক
কিশোর, যুবক আজ নেই,
পণ্যভার বহনের ভারে ক্লিষ্ট প্রাণ
মানুষ হয়ে ছদ্মবেশী
যুগের অস্থির অভিনেতা
আজ সকলেই।
মুখ ও মুখোশে আজ ভেদ নেই, কোন ভেদ নেই।
২.
আমি ওই ফুলগুলির কাছে যাবো
একা হলেই রক্তমাখা নিহত ফুলগুলো দুলে ওঠে
অন্ধকার ছিঁড়ে দুলছে ওই আহত নিহত ফুলগুলি
মাটি ঢেকে যাচ্ছে শুকনো ফুলে বীজে
আর দ্যাখো : মুহূর্তেই জ্বলে উঠছে রক্তচাপা শ্মশানচাপা
আর ঘুমুতে পারছি না
ফুলগুলি হাত বাড়িয়ে ধরতে চায় মুক্তি
কাঁটাতার ছিঁড়ে আছড়ে পড়ছে বাতাসে
ছিঁড়ে যাচ্ছে পাপড়ি আর
ঝরে পড়ছে রক্তরাঙা ফুলের রেণু
ওখানে কে? ওই অন্ধকারে কার হিংস্র থাবা?
ওরা শয়তান, নখে ওদের উদ্যত মৃত্যু
ওরা উপহার দেয় মরণ আর বরণ করে ঘৃণা
ওরা উপহার দেয় মুক্তি আর বরণ করে অভিশাপ
আমি ওই ফুলগুলির কাছে যাবো আর সরিয়ে দেবো অন্ধকার
ঘাতকের মুখে ছুঁড়ে দেবো পাপড়ি আর রেণুর দাহ
ঝলসে যাবে ওদের মুখ ওই রক্তপিপাসুদের ঘৃণ্য দৃষ্টি
দুলে উঠবে হাওয়ায় প্রজ্বলন্ত রক্তচাপা ওই শ্মশান চাপা
আমিও ফুল হয়ে দুলতে থাকব ওদের পাশে
আমৃত্যু ওই জ্বলন্ত ফুলেদের পাশে আনন্দে।



যথাযোগ্য শ্রদ্ধাঞ্জলি । প্রণাম জানাই পবিত্রদাকে । তরুণ কবিদের কাছের মানুষ ছিলেন ।
উত্তরমুছুন