বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১

প্রকাশিত হলো অঙ্কুরীশা-র নববর্ষ সংখ্যা ১৪২৮।। Ankurisha ।।E.Magazine ।।Bengali Poem in literature

 


নববর্ষ সংখ্যা ১৪২৮


সূচিপাতা



১.
কবিতা 


বীথি চট্টোপাধ্যায় 
তৈমুর খান 
গৌতম হাজরা 
রবীন বসু
ফটিক চৌধুরী 
সুধাংশুরঞ্জন সাহা
অমিত কাশ্যপ 
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় 
গৌতম বাড়ই 
মহাদেব চক্রবর্তী 
ভক্ত গোপাল ভট্টাচার্য 
বাবলু গিরি 
সেণ্টু রঞ্জন চক্রবর্তী 
অশোক রায় 
জগদীশ মণ্ডল 
শিশির সাহা
জয়দেব মাইতি
বহ্নি শিখা
অজয় দেবনাথ 
দীপা কর্মকার 
ত্রিপর্ণা  ঘোষ 
দীপক বেরা 
বিমল মণ্ডল 
বিচিত্র  কুমার 



২.
বিশেষ গদ্য 

সুবীর ঘোষ
তপনজ্যোতি মাজি






কবিতা



পদ্মিনী-আলাউদ্দিন 
 বীথি চট্টোপাধ্যায়

 
মৃদু মেঘে ঢেকে দিল জ্যোৎস্না 
ঘন ঘুমে ডুবে আছে দুর্গ ;
রাতভোর হয়ে যায় অপরূপ
রাণি পদ্মিনী ছাদে দাঁড়ালে 
#
এসে দিল্লি ছাড়িয়ে কিছুদূর
তাঁবু ফেলেছেন আলাউদ্দিন।
চোখে ভারতের মানচিত্র
কত কাজ পড়ে সামনে...
#
রোগা চিতোরের দ্বার রক্ষী
ভারি পাগড়িতে রোদ ঝলমল
ঘরে বউ বাচ্চার সঙ্গে
বলো কতদিন দেখা হয়নি?
#
ছিল ঘোড়া হয়ে গেল বিদ্যুৎ
ঋজু শওয়ার স্বয়ং সুলতান 
নিচে ভারতের মানচিত্র
ধুলো উড়ছে অপ্রতিরোধ্য।
#
পোষা টিঁয়াপাখিদের খাওয়াতে;
কত বেলা হয়ে গেল ছাদে আজ
কাল রাত থেকে রাজা রয়েছেন
দূরে অন্য রাণির কক্ষে।
#
যেন পুড়ে যায় হৃৎপদ্ম
তবে একেই কি লোকে বলে প্রেম?
চোখে বালি উড়ে এসে পড়ল
কাল প্রাসাদে বসবে মেহফিল।
#
ঠিক মাথার ওপর সূর্য
আলো ঝলসে দিচ্ছে চারপাশ
ঘোড়া ছটফট করে তেষ্টায়
যেন চিন্তিত আলাউদ্দিন।
#
আলো মুছে দিয়ে নামে সন্ধে
তারা ঝকঝকে রণকৌশল
সেনা ছাউনি বানিয়ে ফেলল
ঠিক চিতোর গড়ের সামনেই।
#
খোলা ভারতের মানচিত্র
পাশে লন্ঠন রাগ রক্তিম
হাতে রসদ ফুরিয়ে অাসছে;
চোখে ধুলো দিতে হবে শত্রুর
#
রাতে জ্যোৎস্নাচিহ্ন অায়নায়
চাঁদ পুড়ে যাবে এত উত্তাপ
কাকে দেখে কেঁপে ওঠে কার বুক
কেউ জানবেনা সেই গল্প। 
#
কাকে ভাল লেগেছিল কবে কার
সেটা ভুলে যেতে হবে যুদ্ধে।
মাথা ঢেকে নিল ঘন ওড়নায়
এতে দমবেনা আলাউদ্দিন?
#
তবু যুদ্ধে তো কেউ জিতবেই
রাতভোর হয়ে যায় অপরূপ
ক্রমে এগিয়ে আসছে সুলতান
মৃদু মেঘে ঢেকে দিল দুর্গ।








নববর্ষের চিঠি 

তৈমুর খান 


 


মালতীকে চিঠি লিখিব 


আমরা কেমন নববর্ষ আনিতেছি 


এমন আর কখনও আসে নাই 



মাটির কলস কিনিয়া আমরা জল ভরিব 


রবি ঠাকুরকে মালা পরাইয়া পথে নামাইব 


নতুন কাপড় পরিয়া শঙ্খ বাজাইব 



তুমি দূর হইতে জলহরিণীর মতো চাহিয়া রহিবে 


তোমার উৎসুক মুহূর্তগুলি পাপড়ি মেলিবে 



এবার আমরা সত্যিকারের বাঙালি হইব 


তুমি বাঙালার মাটিকে প্রণাম করিবার জন্য ব্যাকুল হইয়া উঠিবে।







আজ
গৌতম হাজরা

আজ আলোর অক্ষরে লিখছি খাতার পাতায়
লিখছি, এক বর্ণময় নতুন পথের লেখা
ঘাসে ঘাসে, পাতায় পাতায়, মাঠে মাঠে, প্রান্তরে প্রান্তরে
বাতাসের মতো জলের মতো ছলছল উচ্ছল
                                            স্রোতের ভাষা। 

আজ চারিদিকে কতশত রঙ, কত না মুখের মিছিল
মনে হয় কতশত যেন কথা বলা
নতুন সময়ের দিকে, নতুন ইস্তাহারে
                       নতুন দিনের দিকে চলা! 





বৈশাখ আসে

রবীন বসু


ওই দেখ, কৃষকের আলে শুয়েছে নতুন বৈশাখ

চিকন পরিপাটি। পুরনো খোলস ছেড়ে

নতুন শরীর নিয়ে জেগেছে বছর;


আতপ্ত আশ্লেষ দিন, প্রত্যাশার ঝুলি নিয়ে

মাধুকরী দাঁড়িয়েছে দ্বারে;

যত চিঠি পড়া হল, পুরনো খামের গন্ধ

বধূটির বুকে ভরে থাকে

যে স্মৃতি হারিয়ে গেল তার মায়া চৈত্র গায়ে রাখে

মায়াস্বপ্ন জেগে ওঠে আমাদের প্রাত্যহিক


তবু বৈশাখ আসে,তবুও নতুনদিন আল্পনা আঁকে!




নির্বাচিত  কলাম

রবিন বণিক 


যা  কিছু  জোনাকি  তা  আমার  আন্তরিক  হরমোন

যা  কিছু  চকচকে  তা  তোমার  পরিকল্পিত  হঠাৎ

 

ভীষণ  পেয়েছে  ব’লে  ভেবো  না  জোনাকির  ভেতর

আমাদের  ভাঙা  আত্মকথন

 

মুহূর্ত  হয়ে  উঠতে  পারে  আমাদের  সফল  মধুচন্দ্রিমা

ধরে  রেখো,  ভেঙে  পড়ে  যেতে  পারে  তোমার  নির্বাচিত  কলাম




বছর শেষে সাঁওতাল পরগণা
ফটিক চৌধুরী


নতুন বছর আসুক না নিজের মত করে

শেষ-চৈত্র ছড়িয়ে দিচ্ছে মহুয়া ফুলের গন্ধ
কচিপাতার নরম আমাকে ছুঁয়ে গেলে
সারাবছরের বিষাদ-বরফ গলে জল।

সহজ ছিল না সাঁওতাল পরগণার পথঘাট
কর্দমাক্ত রাস্তা এখন সাঁওতাল রমণীর ত্বক
চলে গেছে শাল মহুয়ার বুক চিরে জামতাড়া
মহুয়া ফুলের গন্ধ নেশা ধরিয়ে দেয় চৈত্রমাস।

স্মৃতিরা হারিয়ে যায় একবুক শ্বাস নিতে নিতে
এখনও দেখা যায় অনেক মলিন মুখ, তবুও
ফুসফুসে জেগে ওঠে বছর আঠারোর শ্বাস
এখন বাঁধন ছাড়া আমায় আর কে পায় !

বছর শেষে ঘুরে আসি সাঁওতাল পরগণা

শৈশব-স্মৃতি নস্টালজিক, কিছুটা উন্মনা।




নতুন লিপি
সুধাংশুরঞ্জন সাহা


গাছে গাছে কচি পাতায় নতুন লিপি।
ঘাসে ঘাসে লেগে আছে বৈশাখের উচ্চারণ।
উৎসবের আলোয় মাতোয়ারা উদাসীন বৈশাখ।
ফের একটি বছরের দুরু দুরু পরিক্রমা সূচিত।
একটি ভয়াবহ বছর শেষ করে
আবার নতুন কোন ভয়ের দিকে এগোচ্ছে না তো দিন !
সময়ই জানান দেবে সবটা একে একে ।




বৈশাখী আহ্বান
বিমল মণ্ডল 


এতো মৃত্যুর দাগ শরীরে মুছে ফেলেছি
তবুও লাল অক্ষরে লিখে যাই আমৃত্যুর ইতিহাস 
নতুন  আলোর অক্ষরে অক্ষরে  চারদিকে বর্ণময় দিশা
লিখে যাই, শুধু লিখে যাই বৈশাখী আহ্বান। 

বসন্ত পেরিয়ে চৈত্রের খাঁ খাঁ  রোদ ঢেলে  দেয় 
কত না উদভ্রান্ত সকাল 
যা আজ সবুজ  ঘেরা  মাঠের প্রান্তরে প্রান্তরে
মিলিয়ে যায়  স্বপ্নিল স্রোতের ভাষা

আমার চিরন্তন আবেগের বৈশাখী মৃত্যু যন্ত্রণা 
ইস্তাহার  মেখে
এগিয়ে যায় নতুন দিনের দিকে।






পয়লা বৈশাখ 
অমিত কাশ‍্যপ


আমার সবদিনই আহ্লাদী, সকাল মানে ভোর
ভোর মানে কর্মদিবস খুলে যাওয়া 
দুধ আনা, কাগজ আনা, বাজার আনা
আনার পর হই হই সংসার ফুটে ওঠে 

গিন্নিমা, বউমারা, ছেলেরা বৈশাখী রোদের ভেতর 
কলকল করে, আজ যেন উৎসব উৎসব 
ঠাকুর ঘরে পুজো ভেতর কামনাটুকু
সারা বছর সাজিয়ে উঠতে যেটুকু সময় 

সময় বলতে হই হেঁটে হেঁটে প্রতিদিন 
সময় বলতে হু হু দূরপাল্লার কোনো ট্রেন
স্টেশনের নীরবতা ম্লান করে চলে যাওয়া 
আমি নব আনন্দে পয়লা বৈশাখ মাখি





আমার না হয় নাই হলো
দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়


ডেকেছি তোমাকে অনেকবার
সূর্যের হাসিতে অথবা বেদনার ফলায়
তোমার প্রসারিত সুগন্ধ ছোঁয়নি আমাকে
বুঝেছিলাম ,তার আমার নয়
ঐ যে উজ্জ্বল দাঁতের ঝিলিক
অথবা বিভাজিকার আবেশী আবেদন
সেখানে তো কখনো আমি ছিলাম না
অনেকের রক্তিম স্পর্শ ছিল অহঙ্কারে
তাই সেখানে ভাস্কো-দা-গামা নি
অতিরিক্তের রিক্ততায় তুমি ঢেকে গেলে
তোমার শুভয় জ্বালাই সান্ধ্য প্রদীপ হৃদয় মেলে।





আদিম নারীর মতন বনজোছনায়
গৌতম বাড়ই




হাওয়ার মতন কখন যেন দমকা মেরে যাওয়া
লোহাগড়ের জঙ্গল পশ্চিমা বাতাসে
মুখ ফিরিয়ে কথা বলছিল
মেচি নদীর ওপারে ভিন্ন একটা দেশ
এপারে তরাইয়ের বনবাদাড়
অনন্ত একটা নদী ঝোরার মতন নেমে এসে
এই শীতকাল জল নেই রুখাসুখা বালি নুড়ি
পৃথিবীর একটা আদিম প্রান্তে বসে
দূর্গ ছিল টারজান ছিল অরণ্যদেব ছিল
পিরানহা মাছেদের নিষ্ঠুর শৈশব
এখন পড়ে আছে নদীর চরে
পোড়া রাত্রিতে চাঁদ আলো জ্বালে
নিশির মতন চুল খুলে দাঁড়িয়ে আছে কদমাগাছ
মেঘেরবস্তা পিঠে কালো রুকস্যাক নিয়ে
দামাল হাতির দল বালাসন পেরিয়েছে
মৃত্যুর গভীরতা লোহাগড় ছাড়া কেউ বোঝেনা
পাহাড়ি চিতার মুখেও বনমোরগের লাশ
চাপাতার মিঠে গন্ধটা থেকে থেকে
বজ্জাতের মতন নাকে লেগে আছে আজও
যেখানে প্রতিমুহূর্তে কান্নার শব্দ-ই পাই

ঢেউ উঠে অনন্ত যৌবন হা করে চায়
বৃষ্টি পড়ে ওপারের দুধিয়ায়
ভেজা বাতাসের সঙ্গে কিছু পাহাড়ী সংগীত
কলকল বয়ে যায় বালাসন ধারায়

আমি আমৃত্যু সুঠাম বনজোছনার
হাত ধরে নাস্তানাবুদ থাকব
গভীর প্রত্যাশায়

সমুদ্রের অতলতায়
আর পাহাড়ের সু- উচ্চে
গভীর এক রাতের রহস্য থাকে





চোদ্দশো আঠাশ 
 মহাদেব চক্রবর্তী 


ভিক্ষায় সব সমস্যা সমাধান 
প্রয়োজন নেই কোন কাজের।
পুষ্পক রথ আছে যখন, 
কি দরকার রাফাল বিমান?
হনুমান ভরসায় মুশকিল আসান ,
বলো জয় শ্রীরাম, বলো জয় শ্রীরাম।

স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় 
হোক, গির্জা মসজিদ মন্দির।
আকাশ বাতাস মুখরিত হোক ,
ঈশ্বর আল্লা তোমার নাম
সকলের সুমতি দাও ভগবান।
ধুততোর,আজকাল গাঁজাতেও ভেজাল। 




         পয়লা   বৈশাখ 
  ভক্ত   গোপাল  ভট্টাচার্য 


  প্রতিটি   বাঙালির   লাল  রক্তে  
   মেখে   আছে   নতুন   বছরের   গন্ধ 
  প্রতিবাদ   বাঁচার..., উঁকি   মারে 
        নববর্ষের     উৎসব   ।
সবদিকে    কান্নার   পাহাড়, খোঁজে  মানবতা 
অপব্যবহার   করেও   ওরা  লজ্জিত  নয় 
 নগ্ন    চেতনায়  আজ  সভ্যতার   সমাধি
কেন   এতো   নির্মম  ক্ষমতার  গন্ধ 
তাজা   মানুষের   রক্তে  স্নান, আর  কত   গণতন্ত্র  ?
লক্ষ   লক্ষ  হাত   উত্থিত,  চায়  পুনর্বাসন 
বিনাশময়  পৃথিবীর  দিকে  এগিয়ে 
ফিরিয়ে  দাও  আমাদের ভালোবাসার  জন্মভুমি 
 বৈশাখের   হাত   ধরে   যেন  শুনি
     মর্মরে    মর্মরে   শান্তির  গান ...।





ষড়জের সুর
বাবলু  গিরি 

                                                  
সারা শরীর জুড়ে যখন রাত্রি নামলো-
প্রস্ততি নিচ্ছে বায়াংসি দূর যাত্রায় পাড়ি দিতে, 
পাহাড়ি গ্রামে তখন পেঁজা তুলোর মতো বরফ, 
মনেস্ট্রিতে প্রার্থনা, এখানেই পড়ে আছে 
অহল‍্যার মতো পাথর সব, জিবনানন্দ ও তার ধানসিঁড়ি নদী তীরে বাঁশি বেজেছিলো পরকীয়া অন্ধকারে পৃথিবীর গন্ধমাখা শরীরে, 
ফসিলেরা খুঁজে নিচ্ছিলো 
নতুন পৃথিবীর জন্ম। 
সারা শরীর জুড়ে জন্ম জন্ম গন্ধ ।
জন্ম হচ্ছে নতুন বছরের, নববর্ষের আগমনে।
মৃত‍্যু তখন খুঁচিয়ে দিচ্ছিলেন 
গনগনে ভোরের আগুন ।
শরীর জুড়ে পৃথিবীর তমসা মাথা ভোর । 
আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে তখনো ছুটছে- 
লম্বা জিরাফের মতো মাথা নিয়ে নতুন 
সূর্যের দিকে। 
ব্রহ্মান্ডের তানপুরায় ষড়জের সুরে-
সেই মহা সঙ্গীতকার, নিরন্তর বেজে চলে 
ভাঙ্গা গড়ার,নব নব মূর্ছনায় ।






আজি এ প্রভাতে
সেন্টু রঞ্জন চক্রবর্তী


অন্তর তুমি পূর্ন করোহে
অনন্ত অসীম দানে,
জীর্ণ পুরাতন ভুলিয়ে দাও আমায়
নতুনের আহবানে। 

আজি এ প্রভাতে দুয়ারে আমার
পাঠালে যে সূর্যের আলো,
তাই দিয়ে তুমি মুছে দাও আমার 
অন্তর হতে সকল কলঙ্ক আঁধার কালো। 







শুভ নববর্ষ – আলো অন্ধকার

অশোক রায় 


নববর্ষ সে তো একটি দিনের ফুলবাহার রঙিন জীবন   

তবু কিছু পয়লা বৈশাখ ফুটে থাকে স্মৃতি-অঙ্গনে অম্লান  

ছোটবেলা নতুন-জামা বাবা-মা ভাই-বোন বন্ধুদের খেলা

পোলাও কালিয়া মাছ-মাংস দই মিষ্টি আরো কত কি মেলা

সুধামাসির ছেলেও খেলত সাথে পরনে আমার বাতিল পরিধান     

যত্নহীন মুখে লেগে থাকা স্মিত হাসিটি তার অন্তরের বিজ্ঞাপন  

জন্ম-জন্মান্তর তৃপ্তির ঝিলে যেন ফোটা-পদ্মের আলিঙ্গন।

 

ওদের কথা কেউ বোঝে না কেউ ভাবে না চেয়েও দেখে না

একটা কাপড় নতুন বছরে তাও দিতে পারি না

নতুন কবেই ওদের জীবনে পুরোনো হয়ে গেছে বরাবরের মত

আগাছার মত অবহেলায় জীবন-গাড়ির অসম দোলায় নত

শতচ্ছিদ্র আবরণ জোড়া-তালির ধুসর প্রেক্ষাপটে

অথচ ওরাই আমাদের জীবনটাকে ঝেড়ে মুছে সুন্দর করে রাখে।

 

তার বদলে কি পেয়েছে তারা ভেবে দেখেছ কি হায়

দেনা-জর্জর চিন্তায় উধাও ঘুম রক্তাক্ত সে হৃদয়  

দিবসান্তে বাউল রাত একতারায় কাঁদে অসহায়  

 

রবীন্দ্রসঙ্গীত কাব্য নাটক নিখিল ভূবন উৎসবের প্রেম

ফ্যাশন-পাখায় ভর করে চায়না টাউন সিক্স বালিগঞ্জ প্লেস

চতুর্দিকে হুল্লোড় টাকার গরমে ভুলে যাই মনুষ্যত্ব মানুষ   

মধ্যরাতে জন্ম-মাতাল নিয়ে ফেরে নতুন বছরের ফানুস ।।






নববর্ষ এলো 
জগদীশ মন্ডল


রোদের ডানায় মেঘ জমেছে 
বিদ্যুৎ চমকালো,
গাছে গাছে নতুন পাতা
 নববর্ষ এলো।

দোকানগুলো উঠলো সেজে 
মিষ্টি সুরে ঢাক,
হালখাতার পুজোর গন্ধে 
এলো যে বৈশাখ।

নতুন সাজে মিষ্টি বিলোয় 
পাড়ার কচিকাঁচা,
ছোট্ট মুখের সবুজ হাসি 
নতুন করে বাঁচা।

বছর বছর ঘুরে ঘুরে 
বোশেখ যদি আসে,
অনেক বাধা দূর হয়ে যায় 
আনন্দ উল্লাসে।


আলো  ১৪২৮  
 শিশির সাহা


ঠিক চলে যায়, যার যেখানে যাবার কথা
ভুল হয়না দিকদর্শনে, ঘূর্ণিঝড় এলেও বা।
আবার সে যখন আসে, মেঘ গায়ে মাখে
সে যখন ফিরে যায়, মেঘের গায়ে লেপ্টে থাকে
সে আসার আগেই কিংবা যাবার অনেক পরেও
একনিষ্ঠ আমার জন্য।
যদি কখনো আমি দেরি করি
উড়ে যাওয়া পাখির ডানায় এসে বসে,
আরো যদি দেরি হয়, উঁকি দেয় গাছের মগডালের পাতায়।
চুপিচুপি বলি, তারপরেও আমার দেরি হয়
একটুকুও রাগ না করে সে জানালা দিয়ে এসে - লুটোপুটি খেলে বিছানায়।
ঠিক এইরকম করেই যাবার বেলায়,
আমি বারান্দায় এসে বিদায় না জানালেও
ঘরে - পর্দায় দেওয়ালে দোল খায়। একটু পরে -
সে তার সহোদর অন্ধকারকে দিয়ে যায় ;
আমি সানন্দে মাতৃগর্ভে ঘুমোই
যেখানে আলো ইশারায় ডাক দিয়ে যায়।



প্রত্যাশার দিনে 
জয়দেব মাইতি 

অন্তরাল ছাড়িয়ে সামনে আসে মুখ 

উঠোন বারান্দা চৌকাঠ ডিঙিয়ে 
খিড়কি পর্যন্ত চলে সমান অভি চলন। স্পর্শে গন্ধে
মোহিত হয় অন্তরাত্মা
আগল খুলে যায় সর্বত্র।

যে চেনা সুর গুলো ফিরিয়েছে তোমার গান-
যে চেনা মুখগুলো প্রত্যাঘাত করেছিল তোমার ভালোবাসা-
তারাও আজ ভীষণ ভীড় করে। 

ভীড় এড়াই -
পলাশ শিমুলের মতো কৃষ্ণচূড়া রাঙতে দেখে 
আমিও ভরসা পাই।সাহস জোগাই

বুঝে নিই- আর নয়! বিদায় আসন্ন প্রবীনের

নববর্ষ খুব কাছে। 




ভালোবাসি
বহ্নি শিখা 

বৈশাখ এলো ঝলমলিয়ে 
বুকে নতুন আশা 
মেঘের ডাক গড়গড়িয়ে 
বাতাস ভাঙে বাসা। 

বৈশাখ এলো ধূলো ছড়িয়ে 
মেঘের বাড়ি হয়ে 
বৃষ্টি নামে ঝমঝমিয়ে 
শিলা বৃষ্টি লয়ে। 

কঠিন ঝড়ে নষ্ট সবি
বিলাপ করে চাষি 
তবুও আমরা নববর্ষের 
বৈশাখ ভালোবাসি।



নববর্ষ

অজয় দেবনাথ

 

সুখে থেকো, ভালো থেকো

তোমাকেই তুমি ভালো রেখো

ভয়, ভক্তি, হুজুগের দিনে

এভাবেই আজ টিকে থাকা।

 

ঐতিহ্য ধুলোয় ঢেকে

পরশ্রীকাতর দুশো বছরের দাস

রুটির লড়াই…

কখনও-বা নেহাত অবহেলায়

বর্ণমালা ধূলায় লুটায়…

 

ব্যতিক্রমী নির্মোহ সাধক

গরিব মায়ের কোলে ইতিউতি বাড়ে…

পঞ্জিকায় দিন বদলায়…





নববর্ষ
দীপা কর্মকার 

জীর্ণ পুরাতন,ভাঙ্গা এই মন
যাও নিয়ে যাও ওগো চৈতালী
নববর্ষের নবারুণ রঙে
এসো বৈশাখ সাজিয়ে ডালি।

চৈত্র রঙে বাসনার আশ
দারুন দহনে হোক লয় তার
এসো বৈশাখ এসো এসো ত্বরা
খোলা আছে আজি রুদ্ধ দ্বার।

মালা আছে গাঁথা বরণের লাগি
বেল, যুথিকার প্রেমের পরশে
নিশি অবসান আসন্ন প্রায়
বৈশাখী ভোর গগনে হরষে।

মধু-মাধবের মিলন খেলা
নববর্ষের আগমন বাণী
মগ্ন প্রকৃতি নব আহ্বানে
বাতাসের কানে করে কানাকানি।



নববর্ষের সওগাত
ত্রিপর্ণা ঘোষ

আগুন রোদে জড়ানো বৈশাখী দুপুর।
শাল,মহুলের সবুজ মাঝে গেছে যে পথ,
সেই পথেই দূর হতে দেখেছিলাম তারে।
হাঁটুর ওপর নেতানো কাপড়,
কলসী কাঁখে যাচ্ছিল সে কুয়াপাড়ের দিকে।

আদিবাসী রমণীর জিজ্ঞাসু চোখের মায়ায়,
কিছুটা অপ্রস্তুত সত্বেও কৌতূহলী মন
ব্যস্ত ঠিক হয়েই পড়ল আলাপচারিতায়।
আলাপ শেষে নতুন সখীর হাত ধরেই,
লাল মাটির পথ পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম 
টালির বাড়িতে সাজানো পাহাড় ঘেঁষা গ্রামে।

গ্রামের সরলতা আর আদিবাসী মেয়ের মায়ায়,প্রখর রোদের দাবদাহও হয়েছে মলিন।
কঠোর জীবনযুদ্ধ শেষেও বেঁচে থাকে নির্মল ভালোবাসা।গ্রীষ্মদিনের নবচিত্র এঁকেছিল ভিন্ন এ মানবসভ্যতা।



বিষাদপুরাণ
দীপক বেরা

কৃষ্ণচূড়ার সাথে জীবনের কত বসন্ত আসে
অনন্ত তৃষ্ণা জাগে, কামনার আগুন জ্বলে প্রাণে
সময় ভাঙছে, ভেঙে চলেছে প্রতিনিয়ত.. 
ভাঙছে নদীপাড়, ভাঙছে সংসার, সম্পর্ক
বাসনার ক্ষণিক ঘ্রাণ মিলিয়ে যায় অন্ধকারে
মুহূর্তের এই সৃজন, মনে হয় এক ভ্রান্তিময় মায়া
আজন্মকাল জীবনের শূন্যতার ভিতর 
গুঢ় সৃষ্টির স্তব্ধতা বা নীরবতা মিলেমিশে যায়!

শরীরী ক্যানভাসে ছড়ানো ছিটানো 
হতোদ্যম ম্লান সূর্যের ফ্যাকাসে হলুদ চিত্রকল্প
মৃত্যুগন্ধা বুকের ভিতর স্মৃতির কফিন জুড়ে 
নিথর শুয়ে থাকে আমার নিঃসঙ্গ বিষাদপুরাণ! 








নতুন ভোরে
বিচিত্র কুমার

নতুন ভোরে নতুন সুরে সুখ পাখিটা গায়
স্মৃতির পাতা ফেলে দিয়ে উড়াল দিতে চাই,
রঙিন এই পৃথিবীটা ঘুরে ঘুরে 
আমিও দু-নয়ন মেলে দেখতে চাই।

নতুন রঙে নতুন করে আবার যেন
এ জীবন শুধু করতে চাই,
যেখানে সুখ ছাড়া দুঃখ কোন নাই
এমন একটা জীবন চাই।










২.
বিশেষ  গদ্য


আমার নববর্ষ

  সুবীর ঘোষ

 

 

 

নববর্ষ বাঙালির নিজস্ব অনুষ্ঠান । এটি মূলত একটি সামাজিক অনুষ্ঠান । যদিও বাড়িতে বা দোকানে সমৃদ্ধি কামনায় সিদ্ধিদাতা গণেশ ও লক্ষ্মীর পুজো হয়ে থাকে । যখন ছোটো ছিলাম নববর্ষের সন্ধেতে চেনা দোকানে দোকানে ঘুরে আসতাম বড়দের সঙ্গে । বড়রা হালখাতা সংক্রান্ত ব্যাপারগুলি সারতেন , আমাদের আগ্রহ থাকত ঠান্ডা সরবতের গ্লাসে বা লাড্ডু মিঠাই ভরা প্লেটের দিকে । চৈত্র সেলে কাপড়জামা কেনা বাঙালির খুব পুরোনো অভ্যেস । আমরা চৈত্র সেলে কেনা জামা পরে নববর্ষের সন্ধেতে ঘুরতে যেতাম । ওই সময়টা জুড়ে আমাদের আমোদ আহ্লাদের সীমা ছিল না । চড়ক গাজনের মেলা সবই তো গায়ে গায়ে । বাংলা ক্যালেন্ডারের দিকেও আমাদের নজর থাকত । পাতা জোড়া দেব দেবীর ছবি আর তার নীচে তারিখের জায়গাগুলো থেকে আমরা প্রথমেই খুঁজে বের করতাম সে বছর দুর্গাপুজো কবে বা ভাইফোঁটা কখন পড়েছে ।

 

যখন একটু বড় হলাম আর লেখালেখি করতাম তখন  হালখাতার মিষ্টি খেতে যেতে লজ্জা করত । তখন নজর ঘুরে গেল নববর্ষে প্রকাশিত পত্র পত্রিকার দিকে । বহুল প্রচারিত দেশ পত্রিকায় এ সময় সাহিত্য- সংখ্যা বেরোত এবং তার রচনাগুলি হত অত্যন্ত সমৃদ্ধ । কলেজজীবনে সাহিত্যসংখ্যার লেখাগুলি আমাদের সাহিত্যপ্রেমী বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে খুব আলোচিত হত । নববর্ষ উপলক্ষ্যে আমরা কলেজ স্ট্রিট থেকে ছাড়ে বই কিনতাম ।

 

আমি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম । প্রতি বছর আমাদের গ্রীষ্মের ছুটি নির্দিষ্ট সময়ে হত --- ১ মে থেকে ৩০ জুন , ঠিক দু’মাস । রবীন্দ্রজয়ন্তী এই ছুটির ভিতর পড়ে যেত বলে আমরা রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করতাম নববর্ষের দিনেই।

 

যখন পেশাগত জীবনে প্রবেশ করলাম তখন আমাদের সংস্থার আবাসনগুলিতে দেখতাম নববর্ষ মানেই জমিয়ে খাওয়াদাওয়া । কারোর বাড়িতে পোলাও মাংস তো কারোর বাড়িতে গলদা চিংড়ি চিতল পাবদা ইত্যাদি ২-৩ রকমের মাছের পদ।  কাঁচা আমের চাটনি তো আছেই।

 

একটা সময় একটি স্থানীয় খবরের কাগজ আমাকে বিশেষ অনুষ্ঠানের ওপর লিখতে বলত । যেমন নববর্ষ বা দুর্গাপুজো বা দীপাবলি । একবার আমি “নববর্ষের নিজস্বতা”  নাম দিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেছিলাম । আমার মনে হয় পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা  নববর্ষের অনুষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব অনুষ্ঠানে পরিণত করতে পারেননি , যেমন পেরেছেন বাংলাদেশের বাঙালিরা । প্রতিটি জাতি বা প্রদেশের মানুষদের তাদের এক একটি নিজস্ব উৎসব থাকা প্রয়োজন।

 

নববর্ষের নতুন সূর্য ওঠার  আগের সন্ধেবেলায় একবার একটি কবিতা লিখেছিলাম তার কয়েকটা লাইন এখানে উদ্ধৃত করে এ লেখা শেষ করি—

বছরের শেষ সূর্য

চলে যাচ্ছে কালের গভীরে।

ভিড়ের ভিতর থেকে

কাল আবার খুঁজে নেব

তোমার নিঃশ্বাস।

 












১৪২৮ এবং …


তপনজ্যোতি মাজি



১৪২৮। আর একটি বৎসরের শুরু। ১৪২৭র সমাপ্তি ১৪২৮র যাত্রাপথের শুরু। যেন দাঁড়িয়ে আছি 'নো ম্যান'স ল্যান্ড 'এ। প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার মধ্যবর্তী ভূখণ্ডে।

 

সত্যিই কি প্রত্যাশা প্রাপ্তিতে পৌঁছতে পারে ? আংশিক হলেও পূর্ণ অর্থে বিরল। তবুও  প্রত্যাশা। তবুও  স্বপ্ন দেখার  অভ্যাস। ১৪২৭ করোনা আক্রান্ত বছর। অপ্রত্যাশিত সংকটে কেটেছে প্রায় একটি বছর। মৃত্যুর গ্রাফ দেখতে দেখতে, শঙ্কিত ব্যক্তি মানুষ ঘুম থেকে উঠে ভেবেছে সে বেঁচে আছেতো! অন্য প্রদেশে কাজ করতে যাওয়া 

মানুষের ঘরে ফেরার দৃশ্য মন থেকে মুছে ফেলা সহজ নয়। মানবতার এমন অবমাননা কি ভোলা যায়!


১৪২৮ কে অভ্যর্থনা করার আগে মনে সহস্র বুদবুদ । এলোমেলো হয়ে গেছে কতকিছু। কত মানুষ কর্মহীন হয়ে গেছে। হারিয়েছে প্রিয়জন , প্রতিবেশীকে। এসব কি ভোলা যায়! ভারতবর্ষের মতো দেশে (যে কোনও

দেশেই ) প্রশাসনিক দুর্বলতা থাকেই , সঙ্গে যদি যুক্ত হয় প্রাকৃতিক  অথবা মহামারী জাতীয় সংকট মানুষের জীবন হয়ে ওঠে যন্ত্রনাবিদ্ধ ও দুর্বিসহ।    রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ,অবশ্য , বলাই বাহুল্য।


সময় থেমে থাকেনা। স্মৃতির মতো বিস্মৃতিও সক্রিয় থাকে বলে মন থেকে ধীরে ধীরে সরে যায় মন খারাপের দিন। জীবন খুঁজে নেয় পরিবর্তিত ছন্দ।

দুঃখী , স্বজন হারানো মানুষও বোঝে জীবন এক বাস্তব বাধ্যতা। তাই চলতে হয়, এগিয়ে যেতে হয়। গ্রহণ করতে হয় রঙ, বর্ণ ও আনন্দকে।


নববর্ষ , ১৪২৮ কিংবা  সাড়ে চার মাস আগের ২০২১ এর নববর্ষ  সব থেকেও যেন ছন্দহীন। কেমন পরম্পরাহীন। বাংলা নববর্ষ পারিবারিক এবং সামাজিক

পরম্পরা। লোকায়ত আচার অনুষ্ঠানের পরতে পরতে বাংলা নববর্ষে আবেগ প্রকাশ পায়। এই আবেগ ঘরোয়া হয়েও সর্বজনীন। বহিরঙ্গের আড়ম্বর না থাকলেও অন্তরঙ্গ নিষ্ঠায় আন্তরিক। বাংলা নববর্ষের হৃদয় অনুভব করতে হলে জীবনানন্দের কবিতা পড়ার মতো মনস্ক হতে হয়। অনুভব করতে হয় শতাব্দী প্রাচীন হৃদস্পন্দনকে। বাংলা নববর্ষের আবহ মাঙ্গলিক। প্রিয়জনের মঙ্গলকামনার মধ্য দিয়েই নববর্ষের আবেগ ধ্বনিত হয়।


বাঙালী শ্রমবিমুখ। বাণিজ্য বিমুখ ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ সর্বজনীন স্বীকৃতি লাভ করেছে। পাড়ায় পাড়ায় , গঞ্জে গঞ্জে, জনপদে জনপদে   ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনের বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলি কিন্তু সে কথা বলেনা। এগুলির উদ্যোগপতি

কিন্তু বাঙালী। স্ববিরোধিতা বোধকরি ঔপনিবেশিক অনেক দূর্বলতার মধ্যে একটি। এটি অন্য প্রসঙ্গ । অন্য পরিসরে আলোচনা করা যেতে পারে। ফিরে আসি নববর্ষ প্রসঙ্গে।


বাঙালী বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে নববর্ষ যার ব্যবসায়িক নাম হালখাতা  উদযাপন হয় ক্রেতা আপ্যায়নের মধ্যে দিয়ে। আর্থিক সম্পর্ক রূপান্তরিত হয় হার্দিক সম্পর্কে। এই পরম্পরা বঙ্গ কৃষ্টির অঙ্গ। পঞ্জিকা, ক্যালেন্ডার

এবং মিষ্টির প্যাকেট নববর্ষের উৎসবে অন্য মাত্রা সংযোজন করে।


নববর্ষ আর রবীন্দ্র প্রসঙ্গ আসবেনা, হয়না, হতে নেই। তিনিই তো আমাদের সাংস্কৃতিক দেবতা। দেবতা শব্দটি ভিন্ন ব্যঞ্জনায় ব্যবহৃত হলো। কি আশ্চর্য সমাপতন ,  তাঁর জন্মমাসটিও বৈশাখ। এমনিতেই বৈশাখকে বলা হয় গান

কবিতার মাস। 'এসো হে বৈশাখ … ' গানটি অন্য মাত্রা, অন্য আবহ তৈরি করে। তাঁর গান ও কবিতা তপ্ত বৈশাখের দিনগুলিতে সুর এবং কথা সঞ্চার করে। বাংলা নববর্ষের এই সাংস্কৃতিক পরিসর নিঃসন্দেহে তুলনাহীন এবং

এক অর্থে মৌলিক।


বঙ্গজীবনে উৎসবের অনুসঙ্গ বহুমাত্রিক। নববর্ষ উদযাপনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় উৎসবময় একটি বছরের। সমৃদ্ধির কামনা থাকে অন্তরে। ঠিক তাই। শুধ সম্পদ ও অর্থে নয়, প্রত্যেকে সমৃদ্ধ হোক অন্তরে, ঔদার্যে , ভিন্ন মত সহিষ্ণুতায় , ভিন্ন ধর্ম সহিষ্ণুতায় , সম্প্রীতি ও সংস্কৃতিতে।









---------------- ---------------- ---------------- ---------------- --------------

অঙ্কুরীশা পত্রিকার  পক্ষ থেকে সমত কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং সমস্ত পাঠাককে শুভ নববর্ষ ১৪২৮ এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন  জানাই। সবাই  ভালো থাকুন। সাবধানে থাকুন। 

---------------- ---------------- ---------------- ---------------- 





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন