আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কবিতা
গণ্ডিতে বন্দিনী আমি,
আমি সীতা;
বন্দিতা, লাঞ্ছিতা এক চিরন্তন নারীসত্তা,
অগ্নি পরীক্ষিতা,
আমার অন্য নাম সহিষ্ণুতা।
আমি চাইনি মিশে যেতে
নিরন্তর কাল প্রবাহে,
কেবল একবারের জন্য
নিজের অধিকার নিয়ে
চাইলাম উঠে দাঁড়াতে;
বেরিয়ে এলাম আমি সীমার বাইরে
দুহাতের অঞ্জলিতে তুলে নিয়ে প্রাণের প্রত্যয়।
আবেগের পীড়নে
পিষ্ট হল ঐতিহ্যের রক্ষণশীলতা;
কালকে উপেক্ষা করে
তুলে নিলাম
একটি ক্ষুদ্র মুহূর্তের বুকের মুকুতা
নীতিকে ভ্রুকুটি করে
অনুভব করলাম কোমল লালন;
সেই একমাত্র ত্রুটি
একটি স্খলন।
আশ্চর্য!
নিমেষের মধ্যে দ্রুতবেগে অনেক দূরে
ছিটকে সরে গেল সমস্ত অতীত;
পলকে ছিড়ে গেল
সংসারের অচ্ছেদ্য বন্ধন;
পাশে রইল না আর কোনো পরিজন।
এত অলীক।
এত ক্ষণিক এই মধুর স্বপ্ন
যে আমার হৃদয়ের ধন!!
এত শিথিল এই সংসার বন্ধন!!!
আমার হাসি, আমার অশ্রু,
ত্রুটি,
চ্যুতি,
অনুভূতি-
এই সমস্ত কিছু নিয়ে
যে আমি,
সে তাকে করে না গ্রহণ;
অথচ তার জন্য
শবরী নৈবেদ্য সাজায়
অর্ধভুক্ত ফল!
শূদ্র তপস্বীর শত্রু,রণ্নীতি-ভঙ্গকারী
বালিবধী রাম,
হৃদয় হরণকারী হৃদয়বিহীন সেই
নবঘনশ্যাম;
আমার জন্য সেই রাম
করে নাই লঙ্কা অভিযান,
তিনি কেবল আর্যপুত্র
রাঘবের রাখল সম্মান।
কর্তব্যপালন যার জীবনের ব্রত
তাঁর হৃদয়ে
প্রেম নেই,ক্ষমা নেই,নেই দুর্বলতা;
তাই আমি অগ্নি সমর্পিতা।
আমার জন্য কেবল জ্বলন্ত চিতা,
আমার জন্য বারবার আছে পরীক্ষার অসম্মান,
হিংস্র শ্বাপদে ভরা বিপদসঙ্কুল অরণ্যে
আকুল অপেক্ষমান
আমার জন্য আছে নির্বাসন।
আমি সীতা,
ধীরে ধীরে জ্বলতে থাকা এক নারী
যুগে যুগে চির পরিচিতা।
কবি পরিচিতি-
তোষপ্রভা কলিতা-
কবি,ঔপন্যাসিক,শিশু সাহিত্যিক এবং অনুবাদক তোষপ্রভা কলিতা ১৯৩৮ সনে অসমের নগাঁও জেলার
পুরোনো গুদামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা কমলাকান্ত বৈরাগী,মা সূর্যপ্রভা বৈরাগী। ১৯৫৮
সনে বিএ পাশ করে পুরোনো গুদামের মেয়েদের হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন।১৯৭৩ সনে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের
পাঠ্যপুথি প্রস্তুত সমন্বয় সমিতিতে সাহিত্য সহায়কের চাকরিতে যোগদান করেন। ২০১৩ সনে
সাহিত্য অকাদেমির শিশু-সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। প্রকাশিত গ্রন্থ পৃথিবী আমার ঘর,শরশয্যা,ইরিকটি
মিরিকটি,জাপানের সাধু,হেলেন কেলার,শিশু সাহিত্য সামগ্রী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন