রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

ভালোবাসার গল্প ।। মালা ঘোষ (মিত্র)।।Ankurisha ।।E.Magazine।Bengali poem in literature ।।

 





ভালোবাসার  গল্প 

 

মালা ঘোষ (মিত্র)

১.

অপত্য


নীলাব্জ  আর সাথী দুজন দুজনকে ভালোবাসে বিয়ে করে, তারা আজ ভীষণ সুখী। নীলাব্জ ম্যাল্টিন্যাশানল কোম্পানীতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।ঐশ্বর্য  আর প্রাচুর্যে তারা পরিপূর্ণ, ভালোবাসায়, ভালোলাগায় তারা একে অপরের পরিপূরক।দেখতে দেখতে পাঁচ বছর চলে যায় কিন্তু আজও সাথী মাতৃত্বের স্বাদ পায়নি, তবে তাতে তাদের ভালোবাসা একবিন্দুও কমেনি। সাথী নীলাব্জের গলা জড়িয়েআদুরে স্বরে   বলে-- 'এই যে শোন না তুমি না আবার বিয়ে করো, ডাক্তার তো বলেই দিয়েছেন আমি আর সন্তানের জন্ম  দিতে পারবোনা।  'নীলাব্জ রাগত স্বরে বলে ওঠে আবার সেই আজে- বাজে কথা, ছাড়ো ছাড়ো আমায়। আর কোন কথা না।'অফিস থেকে এসে নীলাব্জ  বেজায় খুশি, আনন্দে সাথীর গালে আলতো করে চুমু খেয়ে বলে'  শোন- না আজ আমি ডাঃ নন্দীর সাথে দেখা করেছি, উনি
বলেছেন যে চিন্তার কিছু নেই, ভাড়াটে মায়ের সাহায্যে আমরা সন্তান পাব।কয়েক দিন পর তারা ড: নন্দীর ক্লিনিকে যায়। সব পরীক্ষা করে ডাঃ নন্দী বললেন' ঠিক আছে সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। আপনারা ঠিক সময় খবর পেয়ে যাবেন।' নীলাব্জ একটা দু লাখ টাকার চেক ডাঃ
নন্দীর হাতে তুলে দেয়।তারপর নয় মাস অনন্ত অপেক্ষা, কত জল্পনা-
কল্পনা। অবশেষে ভাড়াটে মায়ের গর্ভে বেড়ে উঠছে ওদের সন্তান, এই আনন্দে ওরা খুশিতে ভেসে চলে।কত কত প্রতিক্ষা, রাতে নীলাব্জের কন্ঠলগ্না হয়ে সাথী  বলে--'এই নাম কি দেবে? আমি কিন্তু 'ছোট্টো নীলাব্জ' র নাম দেবো "ঋক"। ' আচ্ছা '-- বলে নীলাব্জ আরো জোরে বুকে টেনে নেয় সাথীকে এবং সুখে ঘুমে আচ্ছন্ন হয়।ডাক্তারের ফোনে ওরা ছুটল নার্সিংহোমে, ফুটফুটে তুলতুলে ছেলে কোলে নিয়ে সাথী আর আবেগে কথা বলতে পারে না, তার চোখ দুটো বানভাসি
হয়ে যায়, তার জীবন সন্তান স্পর্শে সার্থক হয়ে ওঠে।



২.
ভালোবাসার বাড়ি 

মল্লিকার কলেজের প্রথম দিনেই দেখা হয়ে যায় মানসের সঙ্গে, ফটো আটকানোর জন্য আঠাটা ওর কাছ থেকেই পাওয়া গেল। এরপর ক্রমশ দুজন দুজনকে ভালো লাগতে শুরু করে। সময় পেলেই মানসের গান আর কবিতা মল্লিকাকে চুম্বকের মতন আকর্ষণ করে। ওই কন্ঠ যেন বিশ্বের সবচেয়ে স্বপ্নিল রঙিন আবেশ। সেই আবেশে
মল্লিকার হৃদয়ে ঢেউ ওঠে। সেই ভালোবাসার ঢেউয়ে ওরা দুজনে ভাসতে থাকে। হঠাৎ একদিন মানস বলে 'চল না আমাদের বাড়িতে'
মল্লিকা - 'গিয়ে কি বলবি! 'মানস-'বলব আমার বান্ধবী, দেখ পছন্দ কিনা? 'এই শুনে মল্লিকা আপন মনে হেসে ওঠে।মল্লিকাকে দেখে মানসের মা তো খুব খুশি। বলেন-'তুমি তো দেখছি রূপে লক্ষ্মী গুনে সরস্বতী। 'তোমার জন্য অনেক আর্শীবাদ রইল। সময় পেলে
আমাদের বাড়ি এসো।তারপর ওরা পড়াশোনা শেষ করে, মল্লিকা একটা প্রাইমারী স্কুলে চাকরি পেয়ে যায় কিন্তু মানস কিছুতেই একটা কিছু জোগাড় করতে পারে না তাই গানটাকেই  পেশা হিসাবে গ্রহণ করে। মল্লিকার বাবা এই সম্পর্ক কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না। তাই অগত্যা মল্লিকা নিজের পছন্দের মানসের হাত ধরে বাপের বাড়ি ছাড়ে।

আজ মানস গীতিকার, সুরকার ও গায়ক হিসেবে বেশ পসার করেছে। মল্লিকা- মানসের ঘর আলো করে দুটি ফুটফুটে সন্তান। তারা আজ ভালোবাসার বাড়িতে বেশ সুখেই আছে।




আরও  পড়ুন  👇👇👇


https://wwwankurisha.blogspot.com/2021/02/ankurisha-emagazine-bengali-poem-in_20.html






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন