বইমেলা সংখ্যার গল্প
আমার মৃত্যু
জ্যোতির্ময় দাশ
অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে শোবার ঘরে ঢুকেছিলাম বিশ্রাম করতে। দেখলাম সমস্ত খাট জুড়ে আমার মৃতদেহটি সযত্নে শোয়ানো রয়েছে। কোথাও কোনও ত্রুটি বা বিশৃঙ্খলা নেই। পরিচ্ছন্ন সাদা চাদরে শবদেহটি ঢাকা, ধূপ জ্বলছে মাথার কাছে। কিছু ফুলের স্তবকও বুকের উপর পরিপাটি করে রাখা ছিল...
আমার এই আপাত অকালমৃত্যুর কারণ খুঁজতে, অপরাধের সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে ভাবতে বসি আমি। দেখলাম,আজ সারাদিন আমি কোনও মিথ্যাচার করিনি। সকালে ভিড় বাসে পাশে গা- ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা সহযাত্রিনীকে মনে মনে নগ্ন করিনি, অফিসে জরুরি ফাইলের আড়ালে হলুদ যৌন -পত্রিকা পড়িনি আজ; নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত সরকারি তথ্য বিরোধীদের হাতে গোপনে তুলে দেবার জন্য আজ টাকা নিইনি ;এমনকি অফিসের নোট প্যাডে লেখা কবিতায় আজ কোনও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার না করা সত্ত্বেও, আজ মারা যেতে হল বিনা অপরাধে আমাকে...
অসাবধানে ঘটে যাওয়া কোনও অনিচ্ছাকৃত পাপাচারের সন্ধানে আমি নিত্য কর্মের ঝুলিটা
হাতড়াতে থাকি এবার। দেখলাম সকালে গায়েত্রী মন্ত্র পাঠ করছি সঠিক উচ্চারণে; খেতে বসবার আগে যথাবিহিত ধূপধুনো জল - বাতাসা দিয়েছিলাম গৃহদেবতাকে;বাসস্ট্যান্ডে যাবার পথে ফুটপাতের ধারে তেরোটি অস্থায়ী দেবালয়ের বিগ্রহকে নিয়মমাফিক প্রণাম করছি; ব্লাউজের ছেঁড়া অংশের দিকে না তাকিয়ে অফিস পাড়ার অন্ধ যুবতী ভিখারিনিকে পয়সা দিয়ে ছিলাম আজ,এমনকি আজ এক অথর্ব বৃদ্ধাকে রাস্তায় পার করিয়েছি হাত ধরে। এতগুলো আপাত ধর্ম -আচরণেরর পরও আজই মারা যেত হল আমাকে...
আমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণটি খুঁজে না পেয়ে আমি যখন যথেষ্ট দিশাহারা এবং বিপন্ন,আমার মৃত দেহটি করুণা করার বিভঙ্গে আমাকে জানালো যে, আমার অমার্জনীয় অপরাধটি ছিল — সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর নির্বাচনী ভাষণের খসড়াটি রচনা করেছিলাম আমি আজ...
কৃতার্থ আমি এরপর আমার মৃতদেহটি করজোড়ে প্রণাম করলাম।
----------------------------------------------------------------
আপনিও আপনার মৌলিক অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। মতামত জানান। ভালো থাকুন।
ankurishapatrika@gmail. com
----------------------------------------------------------------

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন