নববর্ষের কবিতা
সন্দীপন গুহ
১.
ক্ষয়ক্ষতি
যা করেছি, সব জেনেশুনে, অনুশোচনা নেই তাই মনে।
চাকরি, বিবাহ, পড়াশুনা খেলাধুলা, সবেতেই পেয়েছি ছন্দের দোলা।
আমি চলেছি আমার মতো, ধারধারিনা কারুর এতো।
পাওনা আমার নেইকো কোনো, ছুটে বেড়াই স্বতন্ত্র তাই ছটফটানো শিশুর মতো।
চলতে গিয়ে বাঁকা পথে, রঙ্গীন স্বপ্নের আঁকা রথে।
উড়ে বেড়াই বিশ্বজুড়ে, অজানা সেই মানচিত্রে।
জানা অজানার পারাপারে, কৌতুহলী প্রাণটা ওরে।
পঞ্চান্নর বাণপ্রস্থে, জীবনকালের মধ্যস্থে।
উদযাপিত কীর্তি আমার, সম্বর্ধনা পেল সবার।
অহম আমার মিশেছে ধুলায়, মুক্তির টান হাত বুলায়।
অন্তর হতে অন্তরতর, প্রাণ কাঁপে থরথর
ভালোবাসি এই জীবন, আঁকড়ে ধরি প্রাণপণ।
এক নিমেষেই বুঝে যাই, আর বুঝি উপায় নাই, তাই,
যা করেছি সব জেনেশুনে, ক্ষয়ক্ষতি নাই একটুও মনে।
২.
তুমি আমি
আমি তুমি তুমি আমি,
হাতে হাত দিয়ে জানি।
পেয়ে যাবো জীবনের,
সুখের সেই তরীখানি।
আজকাল ঘরে ঘরে,
ভালোবাসা গেছে সরে।
স্বার্থের মই ধরে,
স্নেহ মায়া গেছে উড়ে।
তাই আমি একা হাঁটি,
ভিড় ভার পাশ কাটি।
অভিমানী মনটা নিয়ে,
আমি যে কি ভীষণ ইয়ে।
নিজেকে নিয়ে বেশ আছি,
চিন্তাবিহীন মরিবাঁচি।
নেই কোনো ঝগড়া,
দেয় না কেউ বাগড়া।
এই আমি নির্ঝঞ্ঝাট,
এড়ালে তুমিও কি,
ভীষণ এই বিভ্রাট।
৩.
গোলাপ
আমার বাগানের ফুলগুলিতে,
যদি একটু আগ্রহের সাথে দেখিতে,
তাহলে নিশ্চয় বুঝিতে,
গোলাপেতে কাঁটা আছে তবু লোকে চায়।
বাকি ফুলের থেকে গোলাপ কেন জিতে যায়।
কাঁটা দিয়ে মোড়া গোলাপই, শ্রেষ্ঠ এই সমরায়।
জীবনের সত্য যদি ঠিকমতো বুঝিতে,
তাহলে কাঁটার পরিবর্তে ফুলের মর্মে মজিতে।
কাঁটাই যদি প্রধান হইয়া যায়,
তাহলে কিন্তু ফুল নিরুপায়।
এই কাঁটা যুক্ত গাছের ফুলের উপহার,
জীবনের সব মলিনতা করে অপসার।
----------------------------------------------------------------
আপনিও এই বিভাগে মৌলিক ও অপ্রকাশিত লেখা পাঠান। মতামত জানান।
ankurishapatrika@gmail. com
---------------------------------------------------------------------

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন