ধারাবাহিক নাট্যকাব্য (পর্ব- ৪)
সুখ শিকার
নির্ঝর মুখোপাধ্যায়
নারী—
ব্যর্থ তুমি মেঘকে চেয়ে না পেয়ে
কি সুখ পেলে ভীষণ রেগে গিয়ে ?
পুরুষ—
সুখ চাইনি চেয়েছিলাম জুড়োতে এই জ্বালা
নারী—
পেলে কি ফল ? সাঙ্গ হলো পালা ?
পুরুষ—
ক্রোধ যে বড় উগ্র মারাত্মক
খেলে শুধু ধ্বংসাত্মক খেলা
তার বশেতে করলে কাজ
অকালে শুধু আসবে যে কালবেলা
নারী—
দ্বিতীয় রিপুর বশবর্তী
হয়ে তোমার পরবর্তী
কর্মকাণ্ড কি ?
পুরুষ—
মেঘের সাথে যুদ্ধ আমি
দিলাম করে ঘোষণা
নারী—
এতো সর্বনাশা নিজেকে নিজের
ধ্বংস করার বাসনা
মেঘের সাথে করবে তুমি যুদ্ধ ?
কেমন করে করবে তুমি তা ?
পুরুষ—
রাগে আমার জ্বলেছিল সব
অঙ্গ এবং মন
সেই রাগেরই আগুন দিয়ে
জ্বালিয়ে দিলাম বন
নারী—
জ্বালিয়ে দিলে ?
ভাবলে আমার গায়ে দিচ্ছে কাঁটা
সুবিশাল এই মহিরুহ
পুড়িয়ে ভস্ম করে
এখন হাতে নিয়েছো ঝাঁটা ?
এ যে সর্বনাশের থেকেও
আরো বড় সর্বনাশ
বিনাশ কালে ঘটেছে
তোমার সকল বুদ্ধি নাশ
পুরুষ—
ছিলোনা আর অন্য কিছু
ছিলাম নিরুপায়
গাছেরা সব কাঁধ পেতে নেয়
মেঘের যত দায়
মেঘের সাথে যুদ্ধে যে তাই
গাছের নিলাম প্রাণ
তুমি থাকলেও করতে এটাই
নই সন্দিহান
নারী—
আমি থাকলে করতাম না
জঘন্য এই কাজ
পুরুষ—
হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না
কে বলবে আজ ?
নারী—
হায় রে গাছের কি যে পোড়া কপাল
পুরুষ—
মেঘের কিন্তু এতেও কিছু বদলালোনা হাল
নারী—
কেমন করে বদলাবে হাল ?
মূর্খ তুমি হদ্দ
বনে আগুন দিয়ে যে চাও
মেঘকে করতে জব্দ
পুরুষ—
আকাশ চুম্বি অগ্নিশিখা
থর থর লেলিহান
যেন অপূর্ব এক নৃত্যে মাতেন
রুদ্র মুরতিমান
কত দিন কত রাত জুড়ে ছিল
কত কাল ধরে জ্বলে চলেছিল
আগুনের এই বহ্নি মহোৎসব
স্মৃতি থেকে আজ ধুয়ে মুছে গেছে সব
নারী—
মাথায় আমার করছে আঘাত
বিশুদ্ধ এই পাগল প্রলাপ
আরো কিছুক্ষণ শুনলে বিলাপ
আমিও পাগল হব নির্ঘাত
পুরুষ—
আমি তো চাইনি, তুমিই চেয়েছ জানতে
তোমার মতো কবে থেকে আমি
শুরু করেছি যে কাঁদতে
নারী —
প্রলাপ না বকে সেটাই বলতে পারতে
পুরুষ—
মেঘের সঙ্গে যুদ্ধে যেমন হয়নি আমার জয়
যুদ্ধ তেমনি আজো থামেনি কো চলছে নিরতিশয়
আলিঙ্গনে আজো পাইনি তো তাকে
বাহুর মধ্যে ধরেছি শুন্যতাকে
নারী—
সেটাই তো স্বাভাবিক
এটার মধ্যে কাঁদার কি আছে ?
সবটা বাস্তবিক
পুরুষ—
একটা ব্যাপার খেয়াল করছো না
কান্না তোমার থেমে গেছে কবে
চোখও মুছছো না
আমাকে বলিয়ে ভোলাতে গিয়ে
নিজেই ভুলেছো শোক
সুখের পিছনে তোমার দৌড়
যতই ব্যর্থ হোক
নারী—
হালকা আমার লাগছে সত্যি সত্যি
পুরুষ—
আমারই মতো অশ্রুকে করো স্মৃতি
নারী—
সেটাই হবে আমার অভিপ্রায়
পুরুষ---
এ স্থান থেকে এবার নাও বিদায়
নারী—
নিচ্ছি বিদায় যাচ্ছি সুখের খোঁজে
যে পথে সে গেছে
সে পথে ভাসছে
মিষ্টি সুখের ঘ্রাণ
যদি তুমি চাও
চলো এক সাথে
করি তার সন্ধান
পুরুষ—
এত ছোটাছূটি আমার কর্ম নয়
দুঃখিত নারী, আমি আছি বেশ
ভস্মারণ্যময়
নারী—
তবে পড়ে থাকো এই পোড়া বনে
আমি ছুটে যাই তার সন্ধানে
পুরুষ—
তোমার সুখের সোনার হরিণ
খুঁজে ফেরো তুমি রাত্তির দিন
পিছে করো তার তাড়া
নারী—
আমিই অবনী
দিবস রজনী
শুনি তার কড়া নাড়া
পুরুষ—
আশা করি খুঁজে পাবে একদিন
জানাই শুভেচ্ছা
নারী—
নিচ্ছি বিদায়
ভালো থেকো তুমি
আমারো শুভেচ্ছা
( নারী বেরিয়ে যায় )
পুরুষ—
নিশ্চিত জানি
সে কোনোদিনই
পারবে না তাকে ধরতে
কত পথ ধেয়ে
এখন সে মেয়ে
গেছে কোন দূর অন্তে
( দুর থেকেনারীর চিৎকার ভেসে আসে --
“পেয়েছি পেয়েছি
ওই তো দেখছি” )
তাড়া করো ওকে
যেন কোনো মতে
আসেনা বনের দিকে
(পুরুষ নারীর দিকে লক্ষ্য করে ছুটে বেরিয়ে যায় )
মঞ্চের পিছন থেকে শোনা যায় নারীর চিৎকার—
“দিলে তো পণ্ড করে
অনেক কষ্টে
ওই নদী পাড়ে
দেখতে পেলাম তাকে
কোথায় আবার উধাও হলো
তোমার হাঁকে ও ডাকে
নতুন করে আবার আমায়
খুঁজতে হবে তো তাকে
এই হতচ্ছাড়া পুরুষগুলোর
ঘটে যদি কিছু থাকে “
(পুরুষকে পিছন থেকে ঠেলতে ঠেলেতে নারী মঞ্চে প্রবেশ করে )
এই খান ছেড়ে নড়ো যদি এক্টুও
তোমাকে আবার কাঁদিয়ে ছাড়বো
তুমি ঠিক দেখে নিও
তুমি কি আবার ফিরে যেতে চাও
কান্নার জগতে ?
পুরুষ—
স্বপ্নেও আমি ফিরি না কান্নাতে
নারী—
খুব ভালো কথা
তবে এইখনে চুপটি করেই বসো।
চলবে...
--------------------------------------------------------------------------------------------
অঙ্কুরীশা-র পাতায় প্রকাশিত এই ধারাবাহিক নাট্যকাব্যটি প্রতি বুধবারে ক্লিক করে পড়ুন ও পড়ান।
মতামত জানান।
ankurishapatrika@gmail. com
--------------------------------------------------------------------------------------------

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন