বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

ধারাবাহিক কাব্যনাট্য (পর্ব-৩) ।। সুখ শিকার — নির্ঝর মুখোপাধ্যায়

 


ধারাবাহিক কাব্যনাট্য (পর্ব-৩)   

সুখ শিকার

নির্ঝর মুখোপাধ্যায়   




পুরুষ


এই ভস্মারণ্যে প্রকৃতি আর 
                        ফিরবে না কোনোদিনও 
জেনে গেছে শপথ আমার
                                   বৃক্ষ এবং তৃণ।

                                      
নারী

দুঃখিত আমি বলেছি তোমায়
             এই একটু আগে 
উন্মাদ ছাড়া থাকতে এখানে
        কারই বা ভালো লাগে ?
আমারো অনেক কাজ রয়েছে
             যেতেও হবে আমায়
এখানে তূমি করছটা  কি
             কেই বা মাথা ঘামায় ? 

                                             
পুরুষ

বুঝতে পারছি শুধুই তুমি
                  চোট পাওনি অঙ্গে
ব্যাথা  তোমার আছে কিছু
                         অন্য অনুষঙ্গে
বলো আমি ঠিক বলেছি কি না ?

                                    
  নারী
সে কথাটা স্বীকার আমি
                  না করে পারছি না। 

                                     
পুরুষ

তাহলে বলো কিসের দুঃখ, কিসের এ যন্ত্রণা
 
                                       

নারী

ঐ যে মেয়ে
যার পিছনে
   আসছিলাম যে ধেয়ে—

                                      
পুরুষ

হ্যাঁ , হ্যাঁ বলো
                কি হয়েছে আমার দিকে চেয়ে 

                                 
 নারী
সে তো অনেক পুরোনো দিনের কথা
মনের কোণে ছিলনা কোন ব্যাথা
ছিলাম আমি দিব্যি আমায় নিয়ে
সময়গুলো  হাঁটতো  খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে 
একদিন এক রেস্তোরাঁতে বসে
কফির কাপে উঠছে তখন ধোঁয়া
দেখলাম সেই মেয়ে 
এত ছোটাছুটির পরেও 
যায়নি যাকে ছোঁয়া
বুকের মাঝে  “সুখ”  নামটি লেখা। 
মিষ্টি হাসি হেসেছিলো
যেই না হোল দেখা। 
হাঁটছিল সে অপূর্ব এক ছন্দ
হাওয়ায় ছিলো মিষ্টি  মধুর গন্ধ
যেই দেখছে সেই তো তাকে
                                    করছিলো কুর্ণিশ
একটু তাকে ছোঁয়ার জন্য
                                    করছিল নিশপিশ। 
হাসিতে তার ছিল সংক্রমণ
সম্মোহিত হলো আমার মন
উর্ধশ্বাসে গেলাম তাকে ছুঁতে 
ভেবেছিলাম ধরব হাতে নাতে
ভুললাম পথ, ভুললাম মত
হারালাম মান হুঁশ
ছুটে চললাম রাত্তির দিন 
উড়তি হাওয়ার ফানুস 
সে কি মেয়ে ? না কি স্বর্ণ হরিণ ?
কেউ  কি পায় দেখা ?
হতবুদ্ধি ছুটছি আমি
হোক সে মরিচিকা।
কত দিন যে ছুটছি আমি
কিছুই মনে নেই
একটু হলেই পেয়েছিলাম
হাতের মুঠোতেই
পথের মাঝে কোথা থেকে 
দমকা হাওয়ার মতো
উড়ে এসে বসলে জুড়ে
হলাম ভুপতিত 
এখন আমি রিক্ত হলাম
খোয়া গিয়েছে সব
পারছো এবার আমার
ব্যাথা করতে অনুভব ? 
ফাঁকা আমার সব  অন্তঃকরণ
হলেই বাঁচি এখন আমার মরণ
এবার নিচ্ছি বিদায় তবে 
হলো না সুখ হরণ । 

                                                    
 পুরুষ

ওহো নারী এবার আমি বুঝছি সব কথা
আমারও ছিল তোমার মতো
                           এমনি বুকে ব্যাথা।
                                             

 নারী—
 
আশ্চর্য তোমারও ছিল
বুকফাটা এই কান্না ?

                                      

  পুরুষ
সত্যি বলছি সেসব কথা 
              মনে করতে চাই না।

                                       
নারী

আমায় যদি বলতে 
হয়তো একটু  হালকা হতে। 

                                  
 পুরুষ

এখানে ছিলো গভীর ঘন বন
আমি তখন নেহাতই নাবালক
বনের শোভায় মুগ্ধ অপলক
বিভোর ছিলাম সমস্ত দিনক্ষণ 
এই বনের মাঝেই হারিয়ে যেতাম আমি
আরো কত ছিলো যে পাগলামি
বাড়ি ছিলো এই বনেরই ধারে
ওই যে দেখছো ছোট্ট নদী
ওই নদীরই পারে 
বনের মধ্যে খেলা  করতাম কত
খেলার সাথী ছিলো আমার যত
সবার চেয়ে ছিলো প্রিয় মেঘ
এই অরণ্যে চরত গাভীর মতো
মেঘের সাথে খেলতে খেলতে কখন
শরীর মনে লাগলো যে যৌবন
একদিন কোন নিভৃত অনুক্ষণে
প্রেমে পড়লাম মেঘবালিকার সনে
ইচ্ছে হল মেঘের বাড়ি যাই
তার সঙ্গে বাঁধবো আমি ঠাঁই
মেঘ বললোঁ হেসে
কৃষ্ণকলি বেশে—
“ ওই নীল আকাশের মধ্যে আমার বাসা
আমার সঙ্গে ঘর করবে ত্যাগ করো সে আশা”
“ তাহলে চলো আমার ছোট্ট ঘরে”
বললাম তাকে জড়িয়ে বুকে ধরে
কতক্ষণ যে ছিলাম নেশার ঘোরে
হুঁশ ফিরলে দেখি  বনের ধারে
কখন সে যে চলে গেছে বুকটি খালি করে 
পরের দিনও ঘটল একই ব্যাপার
চেষ্টা যতই করি হাজার বার
মেঘের মেয়ে যায় না তাকে ধরা
ধরা দিয়েই থাকতে চায় সে চির অধরা 

                               
 নারী
তখন থেকেই কাঁদছ তুমি নাকি ?

                                 
 পুরুষ

কান্না আমার আসেনি প্রথমবার
তার বদলে ক্রোধে হলাম জ্বলন্ত অঙ্গার



চলবে... 


----------------------------------------------------------------
 অঙ্কুরীশা-র পাতায় প্রকাশিত এই কাব্যনাট্যটি প্রতি বুধবারে ক্লিক করে পড়ুন ও পড়ান। 
মতামত জানান। 
ankurishapatrika@gmail. com

 ----------------------------------------------------------------                    

1 টি মন্তব্য: