লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল
লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল
-----------------------
-----------------------
স্বীকারোক্তি অথবা তিলফুলের মালা
১০
অবকাশহীনের কাছে ফাঁকামাঠ । নীলনকশার সাথে প্রজাতির উড়ানেরা ডেকে আনে রোদ । যদিও দুপাশে আকাশমনির পাহারায় গলে যায় শিৎকারের সুর - বেদনার বেনাবনে বাসা বাঁধে চঞ্চল চড়ুই - কে জানত, শিকড়ের ফাঁকে বাজে বিষন্ন চন্দ্রবোড়ার শিস । ভয় নেই , আঁকাবাঁকা সে নিভৃত বাতাস । এখানেই ঘর ছায় সুঠাম পুরুষ ।
থাকে না বিরতি আর। যাবার পথ ডুবে যায় দখিনা পরশে । বক ভাসে রোদকলায় - ক্ষতের কিনারায় সে নীল - শেখা হলো অবগাহন, চেনা হলো বাতাসের রং । হেঁটে যায় তার বউ - আমি কলঙ্ক তার , বিরতির কথা না ভেবেই দৌড় দেই আবার খরা অথবা বৃষ্টির গানের ছায়ার ভিতর ...
১১.
ধানে ফুল এসেছে । রেণুর গন্ধে মেতে উঠছে কদমতলা। দাদুকে বলতেই তিনি বলেছিলেন ধান গোল হল । আর তখনই একঝাঁক বাতাস ধুইয়ে দিয়েছিল তার গা । গামছা দিয়ে মুছতে মুছতে বুক ভরে নিশ্বাস নিলেন তিনি । যতবার দেখি ততবারই তিনি উজ্জ্বল । তার চোখে আমার আলোক, অন্ধত্ব ঘুঁচিয়ে দেয় পালকের মতো - পৃথিবীময় ।
অথচ আমার হৃদয়—বাজনা তোলে গোল গোল রমনীর চলাফেরায় । যেন ঝাঁক ঝাঁক পাখির আনন্দ ওড়ার সাথে ঠোঁটে নেয় আলোক । তারা একই দেহ। আমার নষ্ট চোখ - এই শীতসমূহ ! কী আছে গাছের কিনারে ? কীর্তনীয়া সকলেই হাঁটতে হাঁটতে গান গায় - এই উত্তরাধিকার ফিরে এসো । আমি ফিরে যাই— পাঁপড়ির মতো কী সুন্দর আভায় -
১২.
সাপটা উঠে এসেছিল মজা খাল থেকে । এক্কেবারে মোরাম রাস্তায় সটান বাতাস খেতে । ওপারে ধানক্ষেত - রাত্রি ভ্রমণে ভুলে গিয়েছিল বিষের কথা - তখন আমি একদল মানুষের সাথে ভীরু । ইউক্যালিপটাসের বাতাস খেতে খেতে সুলিসের জল বেরিয়ে যাবার কথা ভুলে গেছি । যখন—তখন সাবধানতায় ডেকে বেড়াচ্ছি দঙ্গল দঙ্গল উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের ।
বেরিয়ে আসে রমলা । আমি তার শরীরের দিকে তাকিয়েছি । অথচ কয়েকটা বিড়ি টানতে টানতে ছুটে এসেছে তারা । সকলেই বুকের নিচে সুইয়ে রাখে বন্ধু অথবা শত্রু - ভেঙে ফ্যালে সমস্ত মদের গেলাস - টর্চ জ্বেলে অন্ধকার কাটতে কাটতে ভালবেসে ফেলে সাপের সাক্ষাৎ - স্বভাবতই , আমি তাদের দেখেই সাহস সঞ্চয় করি।
১৩.
ঘরটা ভেঙে দিল নিবারণ । আর থাকা যায় না সাপ পিঁপড়ে মাকড়সা আরশোলার সাথে , শুতে গেলে তো কথাই নেই , চামড়া কাটে রক্ত চোষে - তবু দক্ষিণের খোলা মন্দিরার বুকে হাত দিয়ে ভুলে যেতে হয় নিশাচর যাতায়াত । পথের ধুলো ঢুকে , একটা অসুখ হয়ে - দেয়ালের ফাটলের কাছে একদল মানুষের কথা বলছি - অধিক মানুষ । থাকেন মাটির ভিতর -
মশারি দুলছে । খোলা হয়নি এখনও - চারপাশের পঙ্গপাল উড়ে পালাচ্ছে নিজের শবযাত্রায় - বাতসের কোন সঙ্কট নেই - ভিতরে কাঁথা কাপড় আর শরীরের গন্ধ গুলো ঘুরপাক খায় , সূর্যের তাপে গুটিয়ে নিতে থাকে শালুকের পাঁপড়ি । নয়নজুলির আত্মবিক্রয়ে চোখেমুখে নিভন্ত উনুন - রাস্তা মাপার লোকজন ফিতে বের করে মাপতে থাকে পঞ্চাশ ফুট একশ ফুট দেড়শ ফুট -
১৪.
খড় মিলতে দেখছি । পুকুরপাড়ে তখনও ভেজা রোদ । তার ছায়ার কতকগুলি ঢেউ ; মাছ লাফ দিচ্ছে সেই ঢেউয়ের সাথে - সাথে ভেজা শাড়িও - জড়িয়ে যাচ্ছে পায়ে - প্রতি পদক্ষেপে । কোমরে পাক দেওয়া আঁচলের সাথে জড়িয়ে আছে উষ্ণতা । তাপ বাড়ে শরীরে - সেই পথে পড়ে আছে কত না ভাঙা ডালপালা , ছটপট করে বাতাসের ছোঁয়ায় , ঘুরে দাঁড়ায় পড়ে থাকা ঘাসজমি -
বাইরে বেরিয়ে দেখি , শুধু সে ই জল শুকিয়ে বেড়ায় যে নির্জন । দীর্ঘশ্বাস ফেলেও অনুমান করা যাবে না তারা ছড়িয়ে আছে পুকুরের কিনারা পর্যন্ত । তবু টের পাই ছড়ানো ছিটানো খড়কুটোর মধ্যে জড়িয়ে আছে সন্ধ্যা কালিন ঝড় - তার থেকে বেরিয়ে আসা গুঞ্জনের মধ্যে অন্তঃশ্রাবী এক স্যাঁতস্যাঁতে আয়না ভর করে আছে ।
১৫.
কিছু না বলাটাই থাকুক । শেষমেশ পাতা ঝরে পড়ল মাথার উপর । গতকাল কিছু ধুলো ঝেড়েছি - বেরিয়ে যাওয়া বাতাস কে বুকের মাঝে চেপে রেখেছি খালপাড়ের কাছে । সেও আগের রাতের দৈহিক ধকল চেপে জল দিয়েছে এ্যলোভেরায় - আর অগনন স্যাম্পুর ফেনা ভেসে আসে তারই নাগালের ছায়াগাছ থেকে । আসলে নিশ্চিত সব - সে আমার প্রেমিকা নয়।
ছাপ ছাপ রোদ্দুর আর টালি ছাওয়া ঘরগুলোর সাথে দীর্ঘ ছায়া নেমে আসে জলের কাছে । সারাদিন তাদের আশ্রয়ে কাছে বেলফুলের কুঁড়ি দুলে - বাঁশঝাড়ে বাতাসে চলাচল শোনা যায় - আর আমি ভাবছি কলতান - দিগন্ত থেকে উড়ে বকরাশি । বুকের মাঝে ফেরাতে পারব না সুখ ও স্বপ্নে লেখা হেঁটে যাওয়ার উন্মুক্ত উচ্ছ্বাস ।
১৬.
গান বাজছে । আমি তার সুর অবহেলা করতে পারি না। এই মুহূর্তে স্নানে ভেজানো দুপুরের কাছে ছুঁয়ে দেয় লতাপাতা । তাদের সুগন্ধেও সুর বাজে । তারই চাহিদা মতো ধরে রাখছে ঝরা বিকেলের রোদ্দুর ৷ শালিকের একা থাকার সংস্কারে সে চলাচল । সমস্ত চৌকাঠ নিয়ে আমি এখনও বুঝতে পারি না সে কোন সুর পছন্দ করে - কোন সুরে প্রহরের কাছে আলাপ চায় -
একলা হই আমি । তবুও সে স্থির থাকে । আমি দেখি আমাদের আত্মার মাঝে উড়ে যায় কাক । ঠোঁটের উপর বাজে ঝরাপাতা । নিঃশব্দের দুটি ডানা দুদিকে উড়ে গেলে আকাশের সীমানা ফুঁড়ে ফাঁকা ধুলো পথে ক্ষরণের দাগ রয়ে যায় । সেই বিস্তৃত দিগন্তে তাকে আমি অন্তরা বলেই জানতাম ।
১৭.
ফুলের পাপড়িতে আঙুল ছোঁয়াচ্ছে মানিক । আমি তার সকালগুলোর নীল কুয়াশার সাথে পরিচিত হতে আলপথ ভেঙে নিটোল পাতা খুঁজেছিলাম। দানাদানা জলের সাথে ভিজে গিয়েছিল দুই হাত । কত বাৎসরিক মেঘ উড়ে গিয়েছে বিকেলের মাঠ থেকে - থামেনি তেষ্টার আগ্রহ । এত প্রকট গোড়ালি ফাটায় বেড়ে গিয়েছে হননের শরীর - জ্বর বাড়ে কোমলতায় -
ধরা যাক বছর শেষ । তার মানে আকাশের পরিধি বেড়ে যায় - কালী মণ্ডপ খালের সিক্ত বাসভূমি থেকে পলি চলে যায় ছায়াহীন স্থির দৃশ্যে - গামছা কাঁধে কালো শরীরে নিঝুম নয়ানজুলি ভাবতে গিয়ে শালুকপানায় জড়িয়ে যায় সাপ , জড়িয়ে থাকতে চায় অপ্রকাশিত স্যাঁতস্যাঁতে খাদ - এই উষ্ণতাটুকু ছড়িয়ে যেতে চায় দিগন্ত ।
১৮.
গোবিন্দ দাদু হাঁটছেন । তার নিশ্বাসের শব্দের সাথে লাঠি ঠুকবার শব্দ মিশে যাচ্ছে বাতাসে । কোনো বিপরীত কাজ নেই - সাদা ফতুয়ার সাথে সাদা ধুতির খুঁট গায়ে একে একে ছায়ার নিচে এগিয়ে যাচ্ছে আরও দীর্ঘদিন - পাশাপাশি দুই অবিবেচক ও অবিশ্বাসী অপত্যের ভিটেগড়ার উৎসব দেখছে আকাশ । কাশগুচ্ছের থেকে দূরত্ব বাড়ছে অনেক -
খবর শোনা যায় । আস্ত পুটলির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে শাড়ির লাল পাড় । রেডিও থেকে ছুটে আসা গানে সম্ভ্রান্ত গায়কের তীব্রতাগুলি খুব কাছেই শীতার্ত - কাঁটাবাঁশের গায়ে জড়িয়ে থাকা চিতিসাপের গায়ে মরা পাখির পালক , ভিন্নতা শেখানো রাজনীতি ছাড়িয়েও কিভাবে টিকে আছে সেই বাড়ি - জবাপাতার আড়ালে তার শত শত রেখা ।
১৯.
ভরদুপুরে পা ছড়িয়ে বসে আছে মেয়েটি । তার কথার দিকে তাকতেই দূরত্বটা বেড়ে গেল হঠাৎ । ফাঁকা ডালের রিপুতে একচল্লিশ ডিগ্রি তাপ , আমি কচুপাতার নিচে কিছু বিষ পোকার আলাপ দেখছি । বেঁচে আছে তারা আমার নিরীহ চোখের ফাটল নিয়ে - দরজার দিকে সে তীব্র আলো - ভেদ করে রাধা কোম্পানির শাড়ি , এগিয়ে যায় সুতোর গন্ধ - নতুন পুরান দেশজ মূল্যবানে ।
আমার টান অনেক দিনের । সঠিক বলতে পারব না কবে বীজ কুড়িয়ে ছিলাম । এ ধরায় সবই তো কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দ আনা , অথচ তা নিয়েই যত আমিত্ব ফলানো । বাতাস অবশ্যই নাড়াতে পারবে গর্ভাশয় । যতই গরম পড়ুক যতই শ্রীকৃষ্ণ বস্ত্রালয় চৈত্র সেল দিক আমি ঝোপের দিকে তাকিয়ে থাকব - আর পাখিরা ঝটপট করবে ।
২০.
তুলো উড়ছে । রাশি রাশি শিমুল । আজ সায়ন্তিকা বলেছিল তার ঘরে একটা তুলোগাছ আছে - তার তুলো দিয়ে তার মা বালিশ বানায় - কাল রাতেই কিছু ফল কুড়িয়েছে - যেগুলো কুড়োতে পারেনি উড়ছে সেগুলোই - শীত লাগা সকালে সূর্যের গায়ে এঁকে দিচ্ছে মেঘ , চশমায় বিঁধছে, বোতামে বিঁধছে - ছাড়াতে ছাড়াতে মনে হচ্ছে আজ আবার কালবৈশাখী হোক ।
এভাবেও হয় । যেতে আসতে শিমুলের সারির দিকে তাকিয়ে আনমনা হতে হয় - তখন কিছু পতাকা ওড়ে - তখন কিছু মিছিলও যায় - যদিও তার কোন বক্তব্য থাকে না , বালিসে তুলো ভরার মতো দলভারি করতে হয় - তার নিচে এই বৈশাখেও হাফ হাঁটু জল , ঘোলা কাদা আর বস্তা ভরা প্রতিশ্রুতি ভাসিয়ে রাখতে চায় - এখন সূর্যালোক ভাসবে কিনা জানে না কেউ।
২১.
বাঁকটা ঘুরলাম । খোকনের দু-নম্বর বউটা সাইকেলের পেছনে উঠল । হাতে দা আর ঘামগন্ধের শাড়ি - তাও শাড়িটা কোমরে পেঁচানো , ধান কাটতে গেলে যেরকম পরতে হয় আর কি । টায় টায় দুপুর - চোখ গেল পাখির তৃষ্ণা বেড়েই চলছে । ইট বের করা রাস্তায় শুধু ধাক্কা , হাত পা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বুকে - থৈ থৈ কাঁপনে সাঁতার কাটতে কাটতে মিলন ডুব দেয় - পারে না , চিৎসাঁতারে ভাসতে থাকে ।
ধানের গন্ধ আসে । যদিও দুজনেরই শরীরে সেই আবেশ । দেরি হয়নি কিছুই ; উনুন জ্বলবে ভাত ফুটবে বরদা মধ্যপাড়ায় । কিছু ডালপালায় তখনো দ্বৈরথ , তখনো বিছানা ভাগাভাগির খড়কুটো - ছায়ায় ছায়ায় তেরছা চোখের শাসানির অন্ধকার প্রতীক্ষা । তারমাঝেই ধান কেটে নিতে হবে - গুছিয়ে নিতে হবে মাঠের মাঝে জড়ো করা দুপুরের রোদ।
২২.
ঝড়ের কাছে বসেছি কয়েক ঘন্টা । শুধু ধুলো মাখছি , ঝুড়ি ঝুড়ি ঝরা পাতা আমার উপর দিয়ে উড়ে যায় । মেঘের দিকে তাকচ্ছি । স্তরে স্তরে মেঘ গুড়ি ছাড়ছে - জমিয়ে বসছে । ধান ঝাড়তে ঝাড়তে কমলের গামছা ওড়ে যাচ্ছে - শাড়ির আঁচল গায়ে লাগছে । পুকুরের জলের উপর পড়ছে শুকনো শিরীস ফুল । সারাদিনের ঘাম জুড়িয়ে ফুলে উঠছে সারা শরীরের চুলের গোড়া ।
কারও একটা পটচালা দরকার । এবার মাথা না গুঁজলে ভিজতে হবে পুরোপুরি । মেঘের ওড়াওড়ি দেখে এতক্ষণ জোর দিয়ে বলছিলাম বৃষ্টি হবে না । কিন্ত আমাকে মিথ্যা প্রমান করাই সকলের লক্ষ্য হলে আমার কিছুই করার থাকে না । এত বরফ মেশানো ফোঁটা যে জুবুথুবু হয়ে বসতেই হল বিকেলের দোকানে - ডাকলাম দু -তিনজনকে । সেও এল ভিজতে ভিজতে পূর্বদিক থেকে - কেন যে আমরা পঞ্চমীতে উড়ে গিয়েছিলাম -
২৩.
ছায়া কাঁপছে । মানুষটি এঁকেবেঁকে আসছেন তার পেছনে আলোর রেখা । কতকগুলো গাছের ছায়া কতকগুলো দোকানের ছায়া পেরিয়ে তিনি এগোচ্ছেন অন্ধকার ছাড়িয়ে । তারপর ধুলো ওড়ে । যে মশা ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে তার দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছে মসৃণ হুল তার পথে ঢেউ খেলানো আলাপ । তার পথে মনি ঝোপে ঝাড়ে শুতে শুতে মেয়ের সংসারের কথা ভাবে । ভাবে তার ভাত ফোটানোর দুঃখ - পাতা পোড়ানোর বুকটা হা করে খোলা থাকে -
বাতাস কেন উড়ে বেড়াচ্ছ । পাগলের মতো ডালে বসে স্বপ্ন । কিছুই তো দেওয়া হলো না । ফুলগুলো ঝরে পড়ছে মাটির কঠিনে । কোন গাছের নিচে সাপ । বিষাদ বুনছে নিশ্বাস । এক টুকরো জামগাছের নিচে ঝিমঝিম ছায়া । দুলছে হাওয়ার দুঃখগুলো । এছাড়া এলেখায় কীইবা দেওয়ার আছে আমার -
২৪.
বাঁশি তুমি দুলছ । অথচ সে তো একটি উষর প্রাণ । আর হাড়ের ভেতরে বিষ নেচে উঠছে। তাদের কথা আমি বলতে পারি না ভয়ে । জানি এমন নয় জীবন । চন্দন দাদুরা স্থির । একমাত্র সাইকেল আর বিশ্বাসের স্বাধীনতার দলটি গিলে খাচ্ছে সততার দেয়াল লিখন। তারা বেদম পোড়াচ্ছে আমাকে। কারও ইচ্ছে হলেই আলপথে তরঙ্গ দিয়ে যায় গরলের ।
ধমনি ছিঁড়ে যাচ্ছে খুব । সত্যি কথাটা হলো - বড় অবিশ্বাস গ্রাস করছে সুরে - কাছে কাছেই একলা একলা ছায়া । ঘোলাজলের দিঘিতে সাপ খেকো মাছের নাচন । বড় সাবধানে নামতে হয় - বসন ভাসছে ভাসুক - আমার কোন শিকার নেই - তোমার ইচ্ছে হলে যেতে পারো - সে এক গভীর খাদক ।
২৫.
তুমি তো সাপ নাচাও । অথচ কেউ তোমাকে বেদেনী বলেনি কখনও - তোমার ঝাঁপিতে অনেক শিকার । বিশ্বাস করো হে সুর - তোমার ভোরে ভাসে বেলফুল । দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসা সঙ্গমের গন্ধটা কেমন জ্যৈষ্ঠের খাল হয়ে যায় । তারপর শুকনো বোলমুখ - কপাট খোলা থাকে দখিনা বাতাসের অপেক্ষায় , তখন হাঁস ভেসে আসে ।
ঘুঙুর বাজে না আর । ঝাঁপিতে শুকনো খড় । খটখটে হাড়ের সাথে ঘাট অবদি জলের দাগ - চলে গেছে কেউ । সেখানে তুমি স্থির । পাড়ায় পাড়ায় তোমার গর্ভপাত বটিকা - তোমার গোপন আয়ের মাঝরাত । ঘন অন্ধকারে শোনে ঢেউ পেরনো চিৎকার । পালাতে পালাতে তুমি ভুলে গেছ সব - নাম ; তোমার বদ্বীপ, তোমার আঁচল ।
১০
অবকাশহীনের কাছে ফাঁকামাঠ । নীলনকশার সাথে প্রজাতির উড়ানেরা ডেকে আনে রোদ । যদিও দুপাশে আকাশমনির পাহারায় গলে যায় শিৎকারের সুর - বেদনার বেনাবনে বাসা বাঁধে চঞ্চল চড়ুই - কে জানত, শিকড়ের ফাঁকে বাজে বিষন্ন চন্দ্রবোড়ার শিস । ভয় নেই , আঁকাবাঁকা সে নিভৃত বাতাস । এখানেই ঘর ছায় সুঠাম পুরুষ ।
থাকে না বিরতি আর। যাবার পথ ডুবে যায় দখিনা পরশে । বক ভাসে রোদকলায় - ক্ষতের কিনারায় সে নীল - শেখা হলো অবগাহন, চেনা হলো বাতাসের রং । হেঁটে যায় তার বউ - আমি কলঙ্ক তার , বিরতির কথা না ভেবেই দৌড় দেই আবার খরা অথবা বৃষ্টির গানের ছায়ার ভিতর ...
১১.
ধানে ফুল এসেছে । রেণুর গন্ধে মেতে উঠছে কদমতলা। দাদুকে বলতেই তিনি বলেছিলেন ধান গোল হল । আর তখনই একঝাঁক বাতাস ধুইয়ে দিয়েছিল তার গা । গামছা দিয়ে মুছতে মুছতে বুক ভরে নিশ্বাস নিলেন তিনি । যতবার দেখি ততবারই তিনি উজ্জ্বল । তার চোখে আমার আলোক, অন্ধত্ব ঘুঁচিয়ে দেয় পালকের মতো - পৃথিবীময় ।
অথচ আমার হৃদয়—বাজনা তোলে গোল গোল রমনীর চলাফেরায় । যেন ঝাঁক ঝাঁক পাখির আনন্দ ওড়ার সাথে ঠোঁটে নেয় আলোক । তারা একই দেহ। আমার নষ্ট চোখ - এই শীতসমূহ ! কী আছে গাছের কিনারে ? কীর্তনীয়া সকলেই হাঁটতে হাঁটতে গান গায় - এই উত্তরাধিকার ফিরে এসো । আমি ফিরে যাই— পাঁপড়ির মতো কী সুন্দর আভায় -
১২.
সাপটা উঠে এসেছিল মজা খাল থেকে । এক্কেবারে মোরাম রাস্তায় সটান বাতাস খেতে । ওপারে ধানক্ষেত - রাত্রি ভ্রমণে ভুলে গিয়েছিল বিষের কথা - তখন আমি একদল মানুষের সাথে ভীরু । ইউক্যালিপটাসের বাতাস খেতে খেতে সুলিসের জল বেরিয়ে যাবার কথা ভুলে গেছি । যখন—তখন সাবধানতায় ডেকে বেড়াচ্ছি দঙ্গল দঙ্গল উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের ।
বেরিয়ে আসে রমলা । আমি তার শরীরের দিকে তাকিয়েছি । অথচ কয়েকটা বিড়ি টানতে টানতে ছুটে এসেছে তারা । সকলেই বুকের নিচে সুইয়ে রাখে বন্ধু অথবা শত্রু - ভেঙে ফ্যালে সমস্ত মদের গেলাস - টর্চ জ্বেলে অন্ধকার কাটতে কাটতে ভালবেসে ফেলে সাপের সাক্ষাৎ - স্বভাবতই , আমি তাদের দেখেই সাহস সঞ্চয় করি।
১৩.
ঘরটা ভেঙে দিল নিবারণ । আর থাকা যায় না সাপ পিঁপড়ে মাকড়সা আরশোলার সাথে , শুতে গেলে তো কথাই নেই , চামড়া কাটে রক্ত চোষে - তবু দক্ষিণের খোলা মন্দিরার বুকে হাত দিয়ে ভুলে যেতে হয় নিশাচর যাতায়াত । পথের ধুলো ঢুকে , একটা অসুখ হয়ে - দেয়ালের ফাটলের কাছে একদল মানুষের কথা বলছি - অধিক মানুষ । থাকেন মাটির ভিতর -
মশারি দুলছে । খোলা হয়নি এখনও - চারপাশের পঙ্গপাল উড়ে পালাচ্ছে নিজের শবযাত্রায় - বাতসের কোন সঙ্কট নেই - ভিতরে কাঁথা কাপড় আর শরীরের গন্ধ গুলো ঘুরপাক খায় , সূর্যের তাপে গুটিয়ে নিতে থাকে শালুকের পাঁপড়ি । নয়নজুলির আত্মবিক্রয়ে চোখেমুখে নিভন্ত উনুন - রাস্তা মাপার লোকজন ফিতে বের করে মাপতে থাকে পঞ্চাশ ফুট একশ ফুট দেড়শ ফুট -
১৪.
খড় মিলতে দেখছি । পুকুরপাড়ে তখনও ভেজা রোদ । তার ছায়ার কতকগুলি ঢেউ ; মাছ লাফ দিচ্ছে সেই ঢেউয়ের সাথে - সাথে ভেজা শাড়িও - জড়িয়ে যাচ্ছে পায়ে - প্রতি পদক্ষেপে । কোমরে পাক দেওয়া আঁচলের সাথে জড়িয়ে আছে উষ্ণতা । তাপ বাড়ে শরীরে - সেই পথে পড়ে আছে কত না ভাঙা ডালপালা , ছটপট করে বাতাসের ছোঁয়ায় , ঘুরে দাঁড়ায় পড়ে থাকা ঘাসজমি -
বাইরে বেরিয়ে দেখি , শুধু সে ই জল শুকিয়ে বেড়ায় যে নির্জন । দীর্ঘশ্বাস ফেলেও অনুমান করা যাবে না তারা ছড়িয়ে আছে পুকুরের কিনারা পর্যন্ত । তবু টের পাই ছড়ানো ছিটানো খড়কুটোর মধ্যে জড়িয়ে আছে সন্ধ্যা কালিন ঝড় - তার থেকে বেরিয়ে আসা গুঞ্জনের মধ্যে অন্তঃশ্রাবী এক স্যাঁতস্যাঁতে আয়না ভর করে আছে ।
১৫.
কিছু না বলাটাই থাকুক । শেষমেশ পাতা ঝরে পড়ল মাথার উপর । গতকাল কিছু ধুলো ঝেড়েছি - বেরিয়ে যাওয়া বাতাস কে বুকের মাঝে চেপে রেখেছি খালপাড়ের কাছে । সেও আগের রাতের দৈহিক ধকল চেপে জল দিয়েছে এ্যলোভেরায় - আর অগনন স্যাম্পুর ফেনা ভেসে আসে তারই নাগালের ছায়াগাছ থেকে । আসলে নিশ্চিত সব - সে আমার প্রেমিকা নয়।
ছাপ ছাপ রোদ্দুর আর টালি ছাওয়া ঘরগুলোর সাথে দীর্ঘ ছায়া নেমে আসে জলের কাছে । সারাদিন তাদের আশ্রয়ে কাছে বেলফুলের কুঁড়ি দুলে - বাঁশঝাড়ে বাতাসে চলাচল শোনা যায় - আর আমি ভাবছি কলতান - দিগন্ত থেকে উড়ে বকরাশি । বুকের মাঝে ফেরাতে পারব না সুখ ও স্বপ্নে লেখা হেঁটে যাওয়ার উন্মুক্ত উচ্ছ্বাস ।
১৬.
গান বাজছে । আমি তার সুর অবহেলা করতে পারি না। এই মুহূর্তে স্নানে ভেজানো দুপুরের কাছে ছুঁয়ে দেয় লতাপাতা । তাদের সুগন্ধেও সুর বাজে । তারই চাহিদা মতো ধরে রাখছে ঝরা বিকেলের রোদ্দুর ৷ শালিকের একা থাকার সংস্কারে সে চলাচল । সমস্ত চৌকাঠ নিয়ে আমি এখনও বুঝতে পারি না সে কোন সুর পছন্দ করে - কোন সুরে প্রহরের কাছে আলাপ চায় -
একলা হই আমি । তবুও সে স্থির থাকে । আমি দেখি আমাদের আত্মার মাঝে উড়ে যায় কাক । ঠোঁটের উপর বাজে ঝরাপাতা । নিঃশব্দের দুটি ডানা দুদিকে উড়ে গেলে আকাশের সীমানা ফুঁড়ে ফাঁকা ধুলো পথে ক্ষরণের দাগ রয়ে যায় । সেই বিস্তৃত দিগন্তে তাকে আমি অন্তরা বলেই জানতাম ।
১৭.
ফুলের পাপড়িতে আঙুল ছোঁয়াচ্ছে মানিক । আমি তার সকালগুলোর নীল কুয়াশার সাথে পরিচিত হতে আলপথ ভেঙে নিটোল পাতা খুঁজেছিলাম। দানাদানা জলের সাথে ভিজে গিয়েছিল দুই হাত । কত বাৎসরিক মেঘ উড়ে গিয়েছে বিকেলের মাঠ থেকে - থামেনি তেষ্টার আগ্রহ । এত প্রকট গোড়ালি ফাটায় বেড়ে গিয়েছে হননের শরীর - জ্বর বাড়ে কোমলতায় -
ধরা যাক বছর শেষ । তার মানে আকাশের পরিধি বেড়ে যায় - কালী মণ্ডপ খালের সিক্ত বাসভূমি থেকে পলি চলে যায় ছায়াহীন স্থির দৃশ্যে - গামছা কাঁধে কালো শরীরে নিঝুম নয়ানজুলি ভাবতে গিয়ে শালুকপানায় জড়িয়ে যায় সাপ , জড়িয়ে থাকতে চায় অপ্রকাশিত স্যাঁতস্যাঁতে খাদ - এই উষ্ণতাটুকু ছড়িয়ে যেতে চায় দিগন্ত ।
১৮.
গোবিন্দ দাদু হাঁটছেন । তার নিশ্বাসের শব্দের সাথে লাঠি ঠুকবার শব্দ মিশে যাচ্ছে বাতাসে । কোনো বিপরীত কাজ নেই - সাদা ফতুয়ার সাথে সাদা ধুতির খুঁট গায়ে একে একে ছায়ার নিচে এগিয়ে যাচ্ছে আরও দীর্ঘদিন - পাশাপাশি দুই অবিবেচক ও অবিশ্বাসী অপত্যের ভিটেগড়ার উৎসব দেখছে আকাশ । কাশগুচ্ছের থেকে দূরত্ব বাড়ছে অনেক -
খবর শোনা যায় । আস্ত পুটলির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে শাড়ির লাল পাড় । রেডিও থেকে ছুটে আসা গানে সম্ভ্রান্ত গায়কের তীব্রতাগুলি খুব কাছেই শীতার্ত - কাঁটাবাঁশের গায়ে জড়িয়ে থাকা চিতিসাপের গায়ে মরা পাখির পালক , ভিন্নতা শেখানো রাজনীতি ছাড়িয়েও কিভাবে টিকে আছে সেই বাড়ি - জবাপাতার আড়ালে তার শত শত রেখা ।
১৯.
ভরদুপুরে পা ছড়িয়ে বসে আছে মেয়েটি । তার কথার দিকে তাকতেই দূরত্বটা বেড়ে গেল হঠাৎ । ফাঁকা ডালের রিপুতে একচল্লিশ ডিগ্রি তাপ , আমি কচুপাতার নিচে কিছু বিষ পোকার আলাপ দেখছি । বেঁচে আছে তারা আমার নিরীহ চোখের ফাটল নিয়ে - দরজার দিকে সে তীব্র আলো - ভেদ করে রাধা কোম্পানির শাড়ি , এগিয়ে যায় সুতোর গন্ধ - নতুন পুরান দেশজ মূল্যবানে ।
আমার টান অনেক দিনের । সঠিক বলতে পারব না কবে বীজ কুড়িয়ে ছিলাম । এ ধরায় সবই তো কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দ আনা , অথচ তা নিয়েই যত আমিত্ব ফলানো । বাতাস অবশ্যই নাড়াতে পারবে গর্ভাশয় । যতই গরম পড়ুক যতই শ্রীকৃষ্ণ বস্ত্রালয় চৈত্র সেল দিক আমি ঝোপের দিকে তাকিয়ে থাকব - আর পাখিরা ঝটপট করবে ।
২০.
তুলো উড়ছে । রাশি রাশি শিমুল । আজ সায়ন্তিকা বলেছিল তার ঘরে একটা তুলোগাছ আছে - তার তুলো দিয়ে তার মা বালিশ বানায় - কাল রাতেই কিছু ফল কুড়িয়েছে - যেগুলো কুড়োতে পারেনি উড়ছে সেগুলোই - শীত লাগা সকালে সূর্যের গায়ে এঁকে দিচ্ছে মেঘ , চশমায় বিঁধছে, বোতামে বিঁধছে - ছাড়াতে ছাড়াতে মনে হচ্ছে আজ আবার কালবৈশাখী হোক ।
এভাবেও হয় । যেতে আসতে শিমুলের সারির দিকে তাকিয়ে আনমনা হতে হয় - তখন কিছু পতাকা ওড়ে - তখন কিছু মিছিলও যায় - যদিও তার কোন বক্তব্য থাকে না , বালিসে তুলো ভরার মতো দলভারি করতে হয় - তার নিচে এই বৈশাখেও হাফ হাঁটু জল , ঘোলা কাদা আর বস্তা ভরা প্রতিশ্রুতি ভাসিয়ে রাখতে চায় - এখন সূর্যালোক ভাসবে কিনা জানে না কেউ।
২১.
বাঁকটা ঘুরলাম । খোকনের দু-নম্বর বউটা সাইকেলের পেছনে উঠল । হাতে দা আর ঘামগন্ধের শাড়ি - তাও শাড়িটা কোমরে পেঁচানো , ধান কাটতে গেলে যেরকম পরতে হয় আর কি । টায় টায় দুপুর - চোখ গেল পাখির তৃষ্ণা বেড়েই চলছে । ইট বের করা রাস্তায় শুধু ধাক্কা , হাত পা থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বুকে - থৈ থৈ কাঁপনে সাঁতার কাটতে কাটতে মিলন ডুব দেয় - পারে না , চিৎসাঁতারে ভাসতে থাকে ।
ধানের গন্ধ আসে । যদিও দুজনেরই শরীরে সেই আবেশ । দেরি হয়নি কিছুই ; উনুন জ্বলবে ভাত ফুটবে বরদা মধ্যপাড়ায় । কিছু ডালপালায় তখনো দ্বৈরথ , তখনো বিছানা ভাগাভাগির খড়কুটো - ছায়ায় ছায়ায় তেরছা চোখের শাসানির অন্ধকার প্রতীক্ষা । তারমাঝেই ধান কেটে নিতে হবে - গুছিয়ে নিতে হবে মাঠের মাঝে জড়ো করা দুপুরের রোদ।
২২.
ঝড়ের কাছে বসেছি কয়েক ঘন্টা । শুধু ধুলো মাখছি , ঝুড়ি ঝুড়ি ঝরা পাতা আমার উপর দিয়ে উড়ে যায় । মেঘের দিকে তাকচ্ছি । স্তরে স্তরে মেঘ গুড়ি ছাড়ছে - জমিয়ে বসছে । ধান ঝাড়তে ঝাড়তে কমলের গামছা ওড়ে যাচ্ছে - শাড়ির আঁচল গায়ে লাগছে । পুকুরের জলের উপর পড়ছে শুকনো শিরীস ফুল । সারাদিনের ঘাম জুড়িয়ে ফুলে উঠছে সারা শরীরের চুলের গোড়া ।
কারও একটা পটচালা দরকার । এবার মাথা না গুঁজলে ভিজতে হবে পুরোপুরি । মেঘের ওড়াওড়ি দেখে এতক্ষণ জোর দিয়ে বলছিলাম বৃষ্টি হবে না । কিন্ত আমাকে মিথ্যা প্রমান করাই সকলের লক্ষ্য হলে আমার কিছুই করার থাকে না । এত বরফ মেশানো ফোঁটা যে জুবুথুবু হয়ে বসতেই হল বিকেলের দোকানে - ডাকলাম দু -তিনজনকে । সেও এল ভিজতে ভিজতে পূর্বদিক থেকে - কেন যে আমরা পঞ্চমীতে উড়ে গিয়েছিলাম -
২৩.
ছায়া কাঁপছে । মানুষটি এঁকেবেঁকে আসছেন তার পেছনে আলোর রেখা । কতকগুলো গাছের ছায়া কতকগুলো দোকানের ছায়া পেরিয়ে তিনি এগোচ্ছেন অন্ধকার ছাড়িয়ে । তারপর ধুলো ওড়ে । যে মশা ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে তার দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছে মসৃণ হুল তার পথে ঢেউ খেলানো আলাপ । তার পথে মনি ঝোপে ঝাড়ে শুতে শুতে মেয়ের সংসারের কথা ভাবে । ভাবে তার ভাত ফোটানোর দুঃখ - পাতা পোড়ানোর বুকটা হা করে খোলা থাকে -
বাতাস কেন উড়ে বেড়াচ্ছ । পাগলের মতো ডালে বসে স্বপ্ন । কিছুই তো দেওয়া হলো না । ফুলগুলো ঝরে পড়ছে মাটির কঠিনে । কোন গাছের নিচে সাপ । বিষাদ বুনছে নিশ্বাস । এক টুকরো জামগাছের নিচে ঝিমঝিম ছায়া । দুলছে হাওয়ার দুঃখগুলো । এছাড়া এলেখায় কীইবা দেওয়ার আছে আমার -
২৪.
বাঁশি তুমি দুলছ । অথচ সে তো একটি উষর প্রাণ । আর হাড়ের ভেতরে বিষ নেচে উঠছে। তাদের কথা আমি বলতে পারি না ভয়ে । জানি এমন নয় জীবন । চন্দন দাদুরা স্থির । একমাত্র সাইকেল আর বিশ্বাসের স্বাধীনতার দলটি গিলে খাচ্ছে সততার দেয়াল লিখন। তারা বেদম পোড়াচ্ছে আমাকে। কারও ইচ্ছে হলেই আলপথে তরঙ্গ দিয়ে যায় গরলের ।
ধমনি ছিঁড়ে যাচ্ছে খুব । সত্যি কথাটা হলো - বড় অবিশ্বাস গ্রাস করছে সুরে - কাছে কাছেই একলা একলা ছায়া । ঘোলাজলের দিঘিতে সাপ খেকো মাছের নাচন । বড় সাবধানে নামতে হয় - বসন ভাসছে ভাসুক - আমার কোন শিকার নেই - তোমার ইচ্ছে হলে যেতে পারো - সে এক গভীর খাদক ।
২৫.
তুমি তো সাপ নাচাও । অথচ কেউ তোমাকে বেদেনী বলেনি কখনও - তোমার ঝাঁপিতে অনেক শিকার । বিশ্বাস করো হে সুর - তোমার ভোরে ভাসে বেলফুল । দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসা সঙ্গমের গন্ধটা কেমন জ্যৈষ্ঠের খাল হয়ে যায় । তারপর শুকনো বোলমুখ - কপাট খোলা থাকে দখিনা বাতাসের অপেক্ষায় , তখন হাঁস ভেসে আসে ।
ঘুঙুর বাজে না আর । ঝাঁপিতে শুকনো খড় । খটখটে হাড়ের সাথে ঘাট অবদি জলের দাগ - চলে গেছে কেউ । সেখানে তুমি স্থির । পাড়ায় পাড়ায় তোমার গর্ভপাত বটিকা - তোমার গোপন আয়ের মাঝরাত । ঘন অন্ধকারে শোনে ঢেউ পেরনো চিৎকার । পালাতে পালাতে তুমি ভুলে গেছ সব - নাম ; তোমার বদ্বীপ, তোমার আঁচল ।

স্তবকে স্তবকে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ ! ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা ! আনন্দ ! সুখ ! পাঠ ! অনুভব ! ডুব ডুব ডুব ! অতল ! অরূপ রতন ! 👏 (মধুসূদন দরিপা । বাঁকুড়া )
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। সুস্থ থাকুন।। সুন্দর থাকুন।
মুছুনঅনবদ্য লেখনী
উত্তরমুছুনসুন্দর থাকুন
মুছুনপ্রতিটি কবিতাই বেশ অনুভবী, বার্তাবহ। বেশ ভালো লাগলো। প্রিয় কবিবরকে আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও অনেক শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন সতত..., শুভ বিকেল।
উত্তরমুছুন🙏 🙏 🙏
উত্তরমুছুন