অঙ্কুরিশা
৮ই মে ২০২০।। বৈশাখ ১৪২৭
অলংকরণ- বিমল মণ্ডল
সম্পাদক- বিমল মণ্ডল
সম্পাদকীয়-
"বিশ্ব, যখন নিদ্রামগ্ন, গগন অন্ধকার
কে দেয় আমার বীণার তারে এমন ঝঙ্কার
নয়নে ঘুম নিল কেড়ে.
উঠে বসি শয়ন ছেড়ে
মেলে আঁখি চেয়ে থাকি, পাইনে দেখা তার। "
( রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের ১৬০- তম জন্মদিবস। পিতা দেবেন্দ্রনাথের অষ্টমপুত্র রবীন্দ্রনাথ সর্বকালের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। তাঁকে আমাদের বিনয়নম্র নমস্কার জানাই। আমরা এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন। ''পৃথিবীর গভীর অসুখ ''- কথাটির ভিন্ন গভীরার্থ থাকলেও বলতে হয় , পৃথিবীর মানুষ একবিংশের মহামারিতে সত্যিই বিপন্ন। অসুখী এবং আতঙ্কিত। তবুও এমন দিনে বিশ্ব কবির কথায় বিশ্বাসময় নির্ভরতা রেখে বলতে হবে -'সৎচিন্তা আর সু-আচরিত জীবন মানুষের দুঃখ জয়ের পথ প্রশস্ত করবে,চূর্ণ করবে শর্তসীমা, অর্জন করবে 'দেবতার অমর মহিমা'।"
বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁর জন্মদিনে নিবেদিত হলো এই কবি প্রণাম সংখ্যা।
এই সংখ্যার যাঁরা কবিকে প্রণাম জানিয়েছেনঃঃ-
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
বিকাশ চন্দ
রঞ্জন ভট্টাচার্য
দেবপ্রসাদ জানা
অশোক কুমার লাটুয়া
ভুতুম
অমলেন্দু বিকাশ জানা
সুমিত্র দত্ত রায়
মিতালী গায়েন
কবিতা ভট্টাচার্য
রবীন বসু
অসীম দাস
লক্ষীকান্ত দাস
স্বাতী ভট্টাচার্য
মনোজ চট্টোপাধ্যায়
সন্দীপ সাহু
স্বরূপ কুমার মাইতি
ভবানীপ্রসাদ দাশগুপ্ত
অঞ্জন ভট্টাচার্য
ভক্ত গোপাল ভট্টাচার্য
মঞ্জুলা বর
মনোজ ভৌমিক
বিমল মণ্ডল।
রবীন্দ্রনাথেই আছি মগ্ন
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
কালো জোব্বায় ঢাকা সারাদেহ সাদাচুল দাড়ি গোঁফ
সৌম্য চেহারা কে ওই বৃদ্ধ, উজ্জ্বল দুটি চোখ
হাত নেড়ে যেন কাকে ডাকছেন,তাঁর কাছে যেই গেছি
মনের ভেতর পবিত্রতা আর ভালো-লাগা মেশামিশি।
অতিকৈশোরে সেই মানুষটি দিয়েছেন হাত তুলে
মোটাসোটা এক মহাগ্রন্থ, তার প্রতি পাতা খুলে
ছিলাম মগ্ন কত-কত মাস, কত রাত হল ভোর যে
আমার জীবন উপচে পড়েছে কোটি কোটি ঐশ্বর্যে।
সেই বই নিয়ে ঘুরি সারাদিন, ঘুমোতেও রাখি পাশে
মুখস্থ করেছি কত যে কবিতা, আবৃত্তির উচ্ছ্বাসে
সেই বই ছিল বাঁচার রসদ, সেই বই ছিলো গীতা
আজও কাছে আছে সেই ছেঁড়া বই, আমার সঞ্চয়িতা।
সেই থেকে তাঁর বসত আমার নিবাসে প্রবাসে
কখনও গনেশ, কখনও নাটকে, কখনও উপন্যাসে
কখনও আমাকে শিহরিত করে 'ছিন্নপত্র ' ছবি
কখনও পড়ছি ' চার অধ্যায় ' বা ' রক্ত করবী '।
তবে নিশ্চয় সবার উপরে হাজার দুয়েক গান
রবীন্দ্রগীতি যতবার শুনি রক্তে তুফান বান
রয়েছে আনন্দে রয়েছে দুঃখে বা প্রতীক্ষায় কারও
তাঁর লেখা কোনও পঙক্তিকে ছুঁয়ে একাত্ম হই আরও।
দেশ বিদেশের কত বই পড়ি, কত গানগুলি রোজ
ঘুরে ফিরে সেই রবীন্দ্রনাথেই পাই জীবনের খোঁজ
আরও একবার আকাশে বাতাসে তিনি দিয়েছেন ডাক
ভোর -ভোর উঠে দেখি এসে গেছে পঁচিশ বৈশাখ।
কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে
তুমি ধরায় আস....
বিকাশ চন্দ
অন্ততঃ এই বছর পুরো একটা শতাব্দী পেরিয়ে যে মুহূর্তে আমরা দাঁড়িয়ে, আমাদের অনুভূতি মালার প্রতিটি বেদনার ফুল বিশ্বময় এক অনাহুত বার্তা বয়ে আনছে যা এখনো অনতিক্রম্য, আর সেখানে
কবিগুরুর গানে কথায় পরশমণির ছোঁয়ায় আমরা খুঁজে বেড়াই প্রাণের মহিমা।
আমরা কেউই চাইনি এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতি আসুক, তবুও প্রার্থনা ----
" ওই মহামানব আসে
দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে মর্ত ধূলির ঘাসে ঘাসে। "
বহুতর সমস্যাদীর্ণ সময়ে মহা মানবের অভ্যুত্থান ঘটে বলেই তিনিই তার শাশ্বত বানীতে তুলে ধরেন "জয় জয়রে মানব অভ্যুদয়।"
কবে যে আমরা প্রাণ মাতিয়ে বলবো -
" আমরা সবাই রাজা, আমাদের এই
রাজার রাজত্বে। "
এমন একটা সময়ে আমরা দাঁড়িয়ে কবিগুরুর প্রাণের কথারই
উচ্চারণ এখন---
"শেষ নাহি যে শেষ কথা কে বলবে?
আঘাত হয়ে দেখা দিল, আগুন হয়ে জ্বলবে।
তাই বোধহয় এখন পৃথিবীময় বিষাদ ঘন পর্যায়ে অনুরণন -
" জীবনে ফুল ফোটা হলে মরণে ফল ফলবে। "
আঁধার সময়ে যখন নিরাশার কোলাহলে আমাদের বিমর্ষতা, যখন সকলের প্রাণের বিশ্বাসে সচকিত সেখানেও উচ্চারণ ---
"রাঙিয়ে দিয়ে যাও...
..........................
কাঁদন বাঁধন ভাগিয়ে দিয়ে
রাঙিয়ে দিয়ে যাও।
বেলা শেষের বেলায় যখন বর্ষ বিদায় এ বছরের করোনা বিভীষিকায়
সবার অন্তরে একবার হলেও গেয়ে উঠেছে---
" এসো,এসো, এসো হে বৈশাখ " কিংবা এ সময়েই মন্দ্রিত সুর "বাদল মেঘে মাদল বাজে" আমাদের চিত্তকে দোলায়িত করে। তবুও এ সময়ের
অন্তর্ভেদী কলরোলের মাঝেও তারা যেন-
"তোরা যে যা বলিস ভাই---
আমার সোনার হরিণ চাই " ভাবনায় বিমোহিত।
তবুও তো কবির মর্মবানী শাশ্বত কালের পরিধি ছাড়িয়ে যখন উচ্চারণ
করেন---
" আরো কিছুক্ষন না হয় বসিও পাশে,
আরো যদি কিছু কথা থাকে তাই বলো।
............................. ............................
রক্ত আগুনে প্রাণে মোর জ্বলো জ্বলো। "
এই ভাবনার বিনম্র পরশ আমরা পেয়েও তা আগলে রাখতে পারিনি।
এ আমাদের পারস্পরিক বোঝা পড়ার অভাব, সারা বিশ্বের মানুষ যখন দেখছে প্রতি দিনের মৃত্যু মিছিল, সকল মন্দির, মসজিদ, গীর্জা
শুনশান। কবিগুরু তো মহান দার্শনিক, তাই বোধ হয় "ধর্মমোহ" কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে---
"যে পূজা বেদী রক্তে গিয়েছে ভেসে
ভাঙ্গো ভাঙ্গো আজি ভাঙ্গো তারে নিঃশেষে
ধর্ম কারার প্রাচীরে বজ্র হানো---
এ অভগা দেশের জ্ঞানের আলোক আনো"
সামগ্রিক অসহায়তার মুখে দাঁড়িয়ে তাঁরই লেখায় বিনম্র উচ্চারণ ---
"কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে
তুমি ধরায় আস---
সাধক ওগো, প্রেমিক ওগো
পাগল ওগো, ধরায় আস। "
কড়ি ও কোমল
রঞ্জন ভট্টাচার্য
করি ও কোমল তুমি কোমল গান্ধার
এনেছে নারীমুক্তির পথ কত ক্ষয়িত অঙ্গার।
বিশ্বকে দেখালে তুমি সোনার তরী চড়ে
বিদায় নিলে আবার অভিশপ্ত ভোরে।
চিত্রাকে চিত্রিত করে ফাগুনে আগুন
কল্পনায় ভাসিয়েছ কি বিচিত্র তার গুণ।
চৈত্রের চৈতালি হাওয়া যেন বহিছে ঝড়
রোগশয্যায় উজ্জ্বল রবি রয়েছে অশীতিপর।
কাহিনীতে হাত রেখেছ তুমি অশনি সঙ্কেত
নৈবেদ্য দিয়েছো তবু না করে বিভেদ।
শিশু মনে খেয়া পাড় তোমার হাতে
স্মরণে রাখি যেন প্রতিটি প্রভাতে।
গীতাঞ্জলি গীতিমালা গেথেছ গীতালি
পূরবী সুরেতে তুমি বেঁধেছ মিতালী।
বনবাণী তুমি সাজিয়েছ মহুয়ার মন বনে
মহুয়াতে রেখেছো মধু বোধন কাঞ্চনে।
বিচিত্র রূপে পরিশেষে তুমি পুনশ্চ শ্রাবণ শেষে
বলাকাকে তুমি বেঁধেছো শ্রাবণ আকাশে।
প্রান্তিকে তুমি গঠন করেছো গীতবিতান এর মর্ম লেখনি তোমার বিশ্ব ছাড়িয়ে সেটাই হয়েছে ধর্ম।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ
দেবপ্রসাদ জানা
সাহিত্যের মহাকাশে তুমি সূর্য
কিংবা তারও চেয়ে অনেক বেশী।
তোমারে হৃদয়ে রাখি করি কূর্নিশ
তুমি গান,তুমি মান,তুমি রাতের শশী।
যত পড়ি তত অবাক হয়ে যাই
তুমি পদ্ম তুমি গোলাপ তুমি ভোরের শিশির।
তুমি সূর্য কিরণ তুমি শুকতারা।
গোধুলির রঙে ভরা মুক্ত আকাশ তুমি।
তুমি সঙ্গীত, তুমি সুর, তুমিই জন্মভূমি।
তুমি কবিগুরু তুমি রবীন্দ্রনাথ।
তুমি নাচের ছন্দে ময়ূর ময়ূরী।
তুমি রাতের আকাশে নীরব প্রহরী।
তুমি কবি গুরু তুমি রবীন্দ্রনাথ
তুমিই সহজপাঠ।
তুমিই গঞ্জের হাট।
তুমি নদ তুমি নদী তুমি মহাসাগর।
শত বিশেষনেও হয় না পূরণ।
তুমি হাজার ফুলের অমৃত কানন।
সাহিত্যে তুমিই শুরু তুমিই শেষ।
তুমিতো রবীন্দ্রনাথ, পুরো একটা দেশ।
প্রতিদিন জন্মদিন মৃত্যুহীন
অশোককুমার লাটুয়া
প্রতিদিন জন্মদিন পঁচিশে বৈশাখের
প্রতিদিন মৃত্যুহীন বাইশে শ্রাবণের
থৈ থৈ রোদ্দুরে বৃষ্টিতে অঝোরে
যারা তাঁকে পেয়েছি গীতাঞ্জলি আর গীতবিতানে
তারা তাঁকে ভুলিনি তো কোনোদিন।
তিনি মানেই রক্তকরবীর বিশু পাগল আর নন্দিনীর গান।
তিনি মানেই খোয়াইয়ের পথ ধ'রে কোপাইয়ের জলে স্নান।
শেষের কবিতার প্রেম
কাবুলিওয়ালার হৃদয়
লেখা নিয়ে কাটাকুটি খেলায়
এঁকে ফেলা ছবি
সাধারণ মেয়েটির স্বপ্ন
আর সাঁওতাল মেয়েটির
খোঁপায় গোঁজা ক্যামিলিয়া ফুল
হঠাৎ দেখা রেলগাড়ীর কামরায়
পাওয়া আর না পাওয়ার
দিনের আলোর গভীরতা
সব যেন ঝিলমের হংসবলাকা
তুমি কি কেবলি ছবি
আজো তো ভুলিতে পারিনি।
সকল রসের ধারা
পথভোলা যে পথিকের অন্তরে হয়েছে হারা
নিভৃত যতনে তাঁর যত ভালোবাসা
মল্লিকাবনের প্রথম কলিটির মতো
বঁধুর চোখে লাগায় যে আলো
তিনিই তো শান্তিনিকেতনের ছাতিমের ছায়া
আমাদের কাছে রাত্রিদিন।
সহজ নয় তাঁকে ভুলে যাওয়া
বরং কঠিন।
প্রতিদিন জন্মদিন তাঁর
প্রতিদিন মৃত্যুহীন রবীন্দ্রনাথ।
আমরা তো নই স্মৃতিহীন
তাই ভুলিনিকো আজো সেইদিন আর এইদিন।
রবীন্দ্রনাথ ও বৌঠান
ভুতুম
রবীন্দ্রনাথ আর বৌঠানের প্রেম সবারই তো জানা
কেউ বলেছে বিশুদ্ধ প্রেম কেউ বলেছে না না ,
রবির তখন পড়ছে ছটা বৌঠান তার ঘরে
বউ ভুলিয়ে রবীন্দ্রনাথ বৌঠানে তেই মরে ।
বিদ্দে ছিল আটের ঘরে জ্ঞান টা ছিলো ভারী
নানান লেখায় ছাপ ফেলতে জুড়ি ছিলোনা তারই
সব লেখনেই প্রেরণা তার বৌঠানের ওই মুখ
আড়ে তাড়ে বলতো সবে রবির পরকীয়ায় সুখ ।
মস্ত দালান মস্ত বাড়ি অবস্থা বেশ পন্ন
রবীন্দ্রনাথ লিখেই চলে দেশ ভুঁয়েতে ধন্য ,
বৌঠানে প্রেম ঝর্ণা ঝরায় যা লেখে তাই সৃষ্টি
সঞ্চয়ী-তা-র লক্ষ্য পূরণ বৌঠানের ই সৃষ্টি ।
নো-বেল তার হয়েই গেল রুখবে সাধ্যি কার
ঘুরলো অনেক যথা তথা জুটলো কত হার ,
বিদেশ বিভুঁই ঘুরলো শেষে লিখলো কত কাব্য
তবুও রবির অপত্ত প্রেম বলে বৌঠান কেই ভাববো।
মৃত্যু মিছিল দেখলো জীবন সইলো কত আরও
শুদ্ধ প্রেম আর অশুদ্ধ প্রেম লড়াই ছিল তারও ,
সব পাওয়াই তার পূর্ণ ছিল অপূর্ণ তার সবই
সত্যি করেই বলছি সবে আসল কে এই রবি ।
পাশের বাড়ির শ্যামলী দিদি-বৌঠান তারেই কয়
রবীন্দ্রনাথ পুরকায়স্ত পাশের পাড়ায় রয়।
রবীন্দ্র-বনস্পতি
অমলেন্দু বিকাশ জানা
কাব্যারণ্যে ছায়া মেলে আছে বনস্পতি,
শোভা তার
এমন মসৃণ, যার পর নাই আর
পদপ্রান্তে সবিনয়ে নত হয়
ছায়ালুব্ধ যুগের প্রণতি।
কত কাল যাবে বয়ে
শীর্ষ তার দীর্ঘ হবে আরো
আমরা দাঁড়াবো নীচে
বিস্মিত-সম্ভ্রমে থরোথরো।
পাশ দিয়ে শনশন
বয়ে যাবে বাতাসের স্বন্
বেদোক্ত বাণী-পৃক্ত উপনিষদ-নিক্কন
বাল্মীকি-কালিদাস-ভবভূতি
পুরাণ কাব্যের মর্মলুব্ধ নির্মল আকূতি
সব--সব--প্রাণময়বাণী।
হে মহাবনস্পতি!
হে অপরিমেয় আধারিত খনি---
সদৃশ তুমি রবীন্দ্রনাথ,
আজ এই শতোর্ধ-ষষ্ঠীতম জন্মদিনে
জানাই আমার প্রণিপাত।
কবি প্রণাম
সুমিত্র দত্ত রায়
সেও এক মহামারিই ছিলো,
কলকাতা ছেড়ে প্লেগে মানুষ দূরে,
পেনেটির বাগান বাড়ীতে প্রথম রবির উদয়।
ধন্য হয়েছিল আজকের গোবিন্দ হোম,
এখন যা অবৈতনিক মহিলা ছাত্রীবাস,
গঙ্গার তীরের পানিহাটি গ্রামে।
বেশ কিছু বছর ধরে কবির প্রণামে,
রমরম করতো পঁচিশে বৈশাখ,
"আয় তবে সহচরী হাতে হাতে ধরি ধরি..."
বিশাল প্রাঙ্গণ জুড়ে কাতারে কাতারে লোক...
দরদুরান্ত হতে মিলতো এক মিলনসায়রে-
যতসব রবীন্দ্র মনস্ক ব্যক্তিত্বেরা।
উদ্দেশ্য একটাই 'কবি প্রণাম'!
এও এক মহামারির উপত্যকায় আমরা,
এখানে নেই হাতে হাত ধরা,
নেই মিলনোৎসবের কোনই সাড়া,
বহু বছর বাদে এই প্রথম,
কবি প্রণাম মনে মনে!
নেই কোনভাবেই কোনো আয়োজন,
আজকের মানুষ গৃহবন্দী,
বাইরে নৃত্যরত মহামারি 'করোনা'।
"উলঙ্গিনী নাচে রণরঙ্গে,
আমরা নৃত্য করি সঙ্গে।
দশ দিক আঁধার ক'রে
মাতিল দিক্-বসনা..."
কবির লিখনী দিয়ে,
পরিস্থিতির গাম্ভীর্য পর্যালোচনা করেই,
জানালাম অন্তিমে আমার কবিপ্রণাম।
গুরুদেব, লহ প্রণাম
মিতালী গায়েন
ঊনবিংশ শতাব্দী ----
রত্নগর্ভা ভারতবর্ষের ইতিহাসে
এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
এই শতাব্দী ভারতবাসীর হাতে
তুলে দিয়েছিল এক অমূল্য রত্ন উপহার -
যাঁর অম্লান দ্যুতিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল
ভারতবর্ষের দিগ্-দিগন্ত-
তিনি হলেন বিশ্ববরেণ্য
কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।।
হে কবি ! আমরা তোমার প্রত্যক্ষ স্পর্শ
নাইবা পেলাম,
আমরা পেয়েছি তোমার পবিত্র স্মৃতি-
তা-ই আমাদের অক্ষয় সম্পদ।
তুমি ভারতীয় শিল্প -সাহিত্য-গানে
যা দিয়েছো - - -
তার " হিসাব মিলাতে
মন মোর নহে রাজি,
কী পাইনি "।
গুরুদেব ! তুমি আমাদের আর্তি-অনুভূতিগুলো
ভাষার ফুলে ছন্দবদ্ধ মালায়
সাজিয়ে দিলে- - -
আমাদের নিত্যদিনের কথা বলায়,
গানে- গল্পে-প্রেমে-প্রাণে
এনে দিলে অফুরান আনন্দ।
ওগো জীবন-প্রেমিক কবি !
"আজ নয়ন সম্মুখে তুমি নাই,
নয়নের মাঝখানে নিয়েছো যে ঠাঁই "।
তাই তোমার জন্মতিথির পুণ্য লগ্নে দাঁড়িয়ে
তোমাকে প্রণতি জানাই।
তোমার টানে
কবিতা ভট্টাচার্য
আকাশে র ক্যানভাসে শুধু আজ রবি ছবি
প্রার্থনা সঙ্গীতের মন্ত্রধ্বনি উচ্চারিত হয় দিকেদিকে
দূর-দূরান্ত থেকে আসছে বহু মানুষ জন
লোকের ভীড় চেঁচামেচির মধ্যেও
গানে কবিতায় ভরে উঠে শান্তিনিকেতন
টুকরো কথা, চকিত হাসি, কত শব্দ বিনিময়
চলকে পড়া ভাঁড়ের চা,বাতাসে ভেসে আসে সুর
ভালোবাসায় ভরা এই বৈশাখী রোদ্দুর
কেউ দেয় তুলিতে টান,কেউ বা
চঞ্চল মন খোঁজে আলো আধাঁর
রাঙামাটির পথে পড়ে আছে কত নুড়ি
গাছে গাছে আছে কৃষ্ণচূড়া
বিবর্ণ হয় দিনের রঙ
ভোরের আকাশ ম্লান হয়ে পড়েছে
তবুও অন্তর মাঝে তুমি একাকী
তুমি বাউলের দেশে আনন্দ গান
অন্তত সময় ধরে ছুঁয়ে থাক
সবটুকু রাত্রি জীবন
এখনও তোমার টানে সুরের রাজ্যে
হয় উৎসব
কবিতার বীজ বুনছে।।
আমার রবীন্দ্রনাথ
রবীন বসু
তুমি তো আলো জীবনের মানে
তুমি এক ক্রান্তদর্শী ঋষি, কবি,
ভরিয়েছ আমাদের ভুবন গানে
চৈত্র-শালবনে এঁকে রাখো ছবি l
তুমি তো সন্তানহারা পিতা, দুঃখ
গিলে হয়ে গেলে নীলকণ্ঠ ঝোরা,
মন থেকে গভীরে যা ছিল সূক্ষ্ম
তাতে তুমি রঙ দিলে আনকোরা l
সে রঙ ক্যানভাসে ভরে প্রতিদিন
তোমাকে প্রণাম করি এ-জন্মদিন।
সঙ্গী রবীন্দ্রনাথ
অসীম দাস
অস্থির ভাবনা রাশি
ভাবায় আমায় দিনরাত,
অব্যক্ত মানস লোকে,সঙ্গী নেই কেউ
আছেন শুধুই রবীন্দ্রনাথ।
দুঃখ সুখ সব আছে
অচেনা আনন্দ আছে
প্রকৃতির সঙ্গ সুধা আসে যায়
তার পাছে পাছে।
সব সুখ ধরা দেয়
তার লেখা গানে,
নিবিড় আনন্দ রাশি
অবলা বাণীকে শুধু টানে।
ঋষি কবি বাণী তার
দিয়েছেন মোরে,
জীবনের কোন প্রত্যুষ কালে
করাঘাত করেছেন দোরে,
আমার মানস লোকে
তাহার কব্যের বারি পাত,
তিনিই আছেন চিদাকাশে
নিতান্ত অধরা রবীন্দ্রনাথ।
প্রেম কাব্যাগীতিময়
লক্ষ্মী কান্ত দাস
দিবসের কোলাহল --
এই অপরাহ্নে তুমি এলে
মৌন হয় একান্ত মুখরতায় ,
অপেক্ষার তপ্ত ধরা ,
প্রাণ ফিরে পায় ,
প্রানসুধারসে ভরে নিতে আনন্দ কলসখানি ,
শুধু রাধা , শুধু রাধা ,
ছেয়ে থাকে চরাচর ,
ছন্দ বর্ন গন্ধ কাব্যগীতিময় ।
এখানে কালো জলে আরো কালো অন্ধকার নামে প্রতিসন্ধ্যায় ,
নিজের মরণের প্রতীক্ষায় ,
সত্ত্বার জলাঞ্জলি দিয়ে ,
জীবন , তরী বেয়ে তীরে ফিরে ,
আচম্বিতে ফিরে পায় সম্বিৎ ,
নিজের উত্তরণের মহাকাব্যখানি আদরের কর্দমে মাখামাখি মলিন ,
ঋণ লীন হলে ক্ষীণ বলিরেখা , সমাধিস্থ চৈতন্যের মত
আকাশের গায়ে চাঁদ দ্বিতীয়ায় ,
নিরুদ্দিষ্ট আবেশে ওষ্ঠ্য অধর চায়
একযোগে উচ্চারিতে ' ভালোবাসি ' ।
রবীন্দ্রনাথ
স্বাতী ভট্টাচার্য
তোমার কাছে পেয়েছি মোরা
উদার হওয়ার শিক্ষা
তোমার কাছেই নিয়েছি মোরা
সকল প্রেমের দিক্ষা!
বাঙালির তুমি স্বপ্নদেবতা
তুমিই প্রাণের নাথ
শয়নে, স্বপনে, বাচনে, মননে
তুমি রবীন্দ্রনাথ।
বাল্য, শৈশবে, কৈশোর, যৌবনে
তুমি যে মোর গুরু ,
সহজ পাঠের পাঠ নিয়ে তো
মোদের চলার শুরু।
দুঃখ যখন পেয়েছি যত
তুমি ধরেছ হাত ;
আনন্দেও তুমিই আছ
হে রবীন্দ্রনাথ।।
মৃত্যু দেবতাও মানিয়াছে হার
তোমারি দীর্ঘ জীবনে,
আজও তাই তুমি অমর রয়েছ
এই বাঙালির মননে।।
আনিলে 'নোবেল ' বাঙালির ঘরে
ত্যাগিলে ' নাইট ' হেলায়,
অপরাজিত তুমিই রহিলে
জীবন -মরণ খেলায়!
জন্মদিনের পূণ্য লগণে
প্রনমি তোমায় নাথ!
চলার পথে আশীষ মাগি
হে রবীন্দ্রনাথ!
সমাবর্তন
মনোজ চট্টোপাধ্যায়
স্মৃতির সরণি বেয়ে বহুযুগ আগেকার,
স্কুলজীবনের কথা মনে পড়ে বারবার।
হঠাৎই মেদুর মন হয় ভারাক্রান্ত,
মনে পড়ে আজ কত মুখ অবিশ্রান্ত।
স্কুলে যে ছেলেটা ছিল মেয়েদের হার্টথ্রব,
আজ দেখি বিষন্ন, গম্ভীর অবয়ব।
রোগাভোগা যে মেয়েটি ছিল একরত্তি,
ভারোত্তোলক আজ, চেহারাটা দত্যি।
পিছনবেঞ্চে ছিল যে ছেলেটা ফাঁকিবাজ,
বিরাট ব্যবসা তার, ফুরসৎ নাই আজ।
টিপটপ সেজেগুজে যে মেয়েটা আসত,
ওকালতি পেশা তার, দিনরাত ব্যস্ত।
প্রতি ক্লাসে মার খেয়ে কেটে যেত দিন যার,
সেই ছেলে আর্মিতে আজ বড় অফিসার।
সাধারণ ব'লে যাকে করিনি তো লক্ষ্য,
সাহিত্য জগতের লেখক সে দক্ষ।
ক্লাসেতে টপার হত যে মেয়েটা বরাবর,
হেঁসেলে বন্দি আজ, পায় না যে অবসর।
যে ছেলেটা হ'ত ফেল অঙ্কেতে বারবার,
সে-ই আজ নামকরা ফ্যাশন ডিজাইনার।
প্রচ্ছদ দেখে কভু কোরো নাকো জাজমেন্ট,
বইটা প'ড়লে তবে ধরা যায় কন্টেন্ট।
শিশুবেলা কত রঙে রঙিন সে আয়না,
বড় হবে কোন রঙে আগে বোঝা যায় না।
সমাবর্তন আজ শেখাল যে আমারে,
স্বরলিপি গাঁথা হয় সুরে - সারেগামারে।
এসো হে পঁচিশে বৈশাখ
সন্দীপ সাহু
কবি রবি,
আফগানিস্তান আক্রান্ত।
ইরাক আক্রান্ত।আক্রান্ত আরো অনেকে
ঘরে বাইরে।
তবু পঁচিশে বৈশাখে
তুমি আছো ভীষণ ভাবে আছো।
নাচ গান আবৃত্তি নাটকের পেলবতায়।
বিষাক্ত নাগিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নয়।
সভা সমিতি সেমিনারে
জীবনদেবতা তত্ত্বে, রাজার আধ্যাত্মিক সত্তায়,
তোমায় খোঁজার অছিলায়---
হবে দিস্তার পর দিস্তা আঁতলামি!
তোমার সহৃদ-চেতনায় জীবন্ত
উপেনের চোর হওয়ার যন্ত্রণা,
কেষ্টার নির্মল মানবতা,
ওরা কাজ করে-এর ওরা,
কারুর হৃদয়তন্ত্রীতে সুর তুলবে না।
মানুষ এড়িয়ে চলে,
ভয় পায় বিবেকের মুখোমুখি হতে।
পঁচিশে বৈশাখ তুমি এসো
খর রুদ্র কালবৈশাখে
দৈত্যের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামে
ঘরে বাইরে
ঘরে ঘরে।
সংকটে রবীন্দ্রনাথ
স্বরূপ কুমার মাইতি
যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ মহাযুদ্ধ
মহামারীর বিপর্যয়ে ধরাশায়ী সভ্যতা,
মানব প্রজাতির ত্রাস |
প্রেমের স্ফুলিঙ্গের জীবন্ত ছাই হৃদয়ে,
দুঃখ,মৃত্যু,দহন,বিচিত্র রাগ.....
তারই মাঝে গৃহবন্দী সুখ স্বাচ্ছন্দ্য
সকল দ্বেষ, হিংসা,অহংকার,সান্ত্বনা,
বিরহ যন্ত্রণা |
বোশেখের জ্ঞানহীন তৃপ্তিহীন
নিষ্ঠুর চোখ "ভীরু তোমা চেয়ে"
"সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি |"
ফিরে দেখি "নবজাতক"ও "রোগশয্যায়"
বিশ্বযুদ্ধে আজ সংকটে কবি,
গেয়ে উঠি "প্রভাত সংগীত"
পূব থেকে পশ্চিম "পথে ও পথে প্রান্তরে"
ছায়া আঁকা,
বোশেখের ২৫ এ এসে
স্মরণ করি কেমনে রবি ঠাকুরের "মরণ মিলন"
কবির "জন্মদিনে" এটাই বোধ হয় "শেষ লেখা |"
কবিগুরু স্মরণে
ভবানী প্রসাদ দাশগুপ্ত
পঁচিশে বৈশাখে এলে ধরাধামে
জাগ্রত হে প্রিয় কবি,
প্রকৃতির রূপে গুণে মুগ্ধ অন্তরে
আঁকলে প্রেমের ছবি।
দিনমণির দানে আলোর বানে
প্রকৃতি রূপ ছড়ায়,
ঋতুচক্রের অনিন্দ্য রূপ-মাধুরী
সবার মন মাতায়।
বৈশাখে প্রখর আলোর খেলায়
কবি রবির পদার্পণ,
বিশ্ববাসী তাঁরে কবিগুরু রূপে
করলেন সম্ভাষণ।
বাংলার সাহিত্যে প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে
যাঁর নিত্য বিচরণ,
পরমাত্মার দানে বিশুদ্ধ জ্ঞানে
গীতিকাব্য প্রনয়ণ।
প্রেম-বিলাসী কবি ভাবের ছবি
গ্রাম-বাংলার সাথী,
ধ্যানে জ্ঞানে প্রকৃতির রূপ দর্শণে
জাগতেন দিবা-রাতি।
জোড়াসাঁকোর প্রাসাদে জন্ম হলেও
কর্ম শান্তিনিকেতনে,
বাংলা সাহিত্যে তাঁর শ্রেষ্ঠ অবদান
গোটা বিশ্ববাসী জানে।
চিত্রনাট্যে কবিতায় গানের জগতে
যাঁর অবাধ সন্তরণ,
স্রষ্টার অপার করুণায় মিলে
তাঁর পরমাত্মা দর্শণ।
আজকের দিনে পরম শ্রদ্ধাভরে
করি প্রণাম নিবেদন,
দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে পালিত হবে
প্রয়াণ তিথি বাইশে শ্রাবণ।
প্রাণের ঠাকুর
অঞ্জন ভট্টাচার্য
যেই ঠাকুরের পুজো দিতে
লাগে না ফুল ফল
জপতপ ধূপ লাগে না বা
গঙ্গা নদীর জল,
ঢাক লাগে না শাঁখ লাগে না
নয়তো কোশা কুশি
কবিতা ছড়া নাটক গানে
করতে পারো খুশি,
মন্দিরে নয় মন্ডপে নয়
সাহিত্যেরই হাটে
পাবেই তাঁকে হৃদয় দিয়ে
খুঁজলে সহজপাঠে।
সেই ঠাকুরের ছবি যে থাকে
সব বাঙালির ঘরে
জাতীয় গানেই এপার ওপার
তাঁকেই স্মরণ করে,
সে যে আমাদের প্রাণের ঠাকুর
সকলেই তা জানে
বিশ্বকবি নামে যে তাঁকেই
বিশ্ববাসী মানে,
সেই ঠাকুরের জনম তিথি
পঁচিশে বৈশাখ
তাঁরই পুজোর জন্য বুকেই
আসন পাতা থাক।
আমার শ্রদ্ধা
ভক্ত গোপাল ভট্টাচার্য
ওগো মোর প্রাণের কবি
তুমি আছো নিরন্তর, তাই পূর্ণ করি প্রাণ ।
হে কবি অনন্ত জ্যোতি ,
বাণীরূপী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ।
বার - বার নবজাত , বার- বার জন্মান্তরকারী
আমার প্রথম প্রেম - সর্বশেষ প্রেম ,
তাও তুমি ।
বিশ্ব মাঝে যাদের আবিষ্কার করেছে
যাদের ভেবেছে গুণী ।
আজ মন-প্রাণ তোমার স্মরণে
আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে
দেখি জীবন সর্বস্ব তুমি ।
তোমার গভীর উৎস হতে
আমি উৎসারিত ।
মৃত্যুর অতলে, জানি সে আসন্ন বিলুপ্তির
আঁধারেও জ্বলিবে তোমার বাণী ।
জীবনেরে দিয়ে গেছে পূর্ণতার
শেষ সার্থকতা ।
তোমার সেই অমূল্য কথা
" জেনে রেখো জীবনটা মরনেরই যোগ্য " ।
বন্ধু আমার
মঞ্জুলা বর
দুঃখ সুখে আছো তুমি
প্রকৃত বন্ধু হয়ে ।
বিপদে আপদে ডাকি আমি
মন প্রাণ লয়ে ।।
বন্ধু তুমি আমার প্রাণে
আছো হৃদয় জুড়ে ।
রেখে বুকে মধুর টানে
সুখ নেবো কুড়ে ।।
তুমি আমার মনের সাথী
বাঁচি তোমায় নিয়ে ।
অন্তর কোণে তোমায় গাঁথি
সুখের মালা দিয়ে ।।
আমার তুমি মন কলি
স্মৃতির পটে রাখি ।
মনের বনে কথা বলি
খুশির সুবাস মাখি ।।
স্বপ্ন দেখি তোমায় নিয়ে
আশার আলো ধরে ।
দুঃখের মাঝে সুখ দিয়ে
খুশির জোয়ার ভরে ।।
যতই আঘাত আসুক বুকে
হাতটি হাতে ধরি ।
স্মৃতির পাতায় ছবি এঁকে
রাখি হৃদয় ভরি ।।
আসছে বছর বলবো আমরা
মনোজ ভৌমিক
রবীন্দ্রনাথ, এবার তুমি জোড়াসাঁকো ঘরেই থেকো ,
ওরা সবাই ডাকবে তোমায় একদম যেও নাকো ।
শান্তিনিকেতন যেমন আছে থাকুক তেমন আজ ,
নন্দন আর রবীন্দ্র সদনেও থাকবে না সে সাজ ।
ছোট্ট বেলার সেই ঘরেতেই বন্দীজীবন যাপন ,
কাটাও একা একাই সেথা পেন খাতা করে আপন ।
গণ্ডীকাটা ঘরটা থেকেই তাকিও গো জানালা দিয়ে,
তালগাছ কি তেমনি আছে যেমন ছিল এক পায়ে !
জটাজুটো ঝুরি নিয়ে কি দাঁড়িয়ে সেই প্রাচীন বট !
পুষ্করিণীটা কি তেমনি আছে বুকে নিয়ে ছায়ানট !!
তোমার মনের ভাবনাগুলো কাগজে কলমে লেখো ,
সময় করে খেলার সাথী প্রিয় বৌঠানকেই ডেকো ।
পুতুল খেলার মাঝে তোমার ভাবনা প্রেমগভীর ,
মনের মধ্যে মনকে খুঁজে হৃদয়ে ছড়াও আবীর ।
ভাবের খেলায় মত্ত থেকো আজও তোমরা দু'জন ,
অভাগী বৌঠানের জন্য ক'দিন হয়ে থেকো সুজন ।
বছর ঘুরে আসবে আবার ভুলবে পুরোনো দিন,
আসছে বছরেই বলবো আমরা," শুভ জন্মদিন। "
এই পৃথিবী তোমার অপেক্ষায়
বিমল মণ্ডল
দানবের ছদ্মবেশ
শক্তিমান ছায়া ঘেরা রূঢ় হৃদয়
সময়ের দীর্ঘতা
এক লহমায় স্তব্ধ করে
মুহূর্তের চিন্তা শঙ্কিত এ পৃথিবী
কোনো পথ নেই আর
বিশ্বাস হেঁটে চলে আমার হৃদয়ে
আঁধারে কাতর আকুতি ঝিঁঝি অপেক্ষায়
নিশুতি রাতে ঘুমের গভীরে-
কত জীবন ডুবে যায়!
অবসাদ এতো লক্ষ কোটি মানুষের
শেষ দেখে অসুর করোনা
তোমারই চেনা এই পৃথিবীতে
এই অসুখী সময়ে তুমি এলে
আসলে তোমায় পড়ে মনে
তোমারও সাহিত্যে পেয়েছি প্লেগের ইতিহাস
তোমার গানের সুতো আজ
আকাশে জুড়েছে নক্ষত্রের সাথে
শান্তি- প্রেম - ক্ষমা আজ ক্ষীণ হয়ে আসে
তারই মাঝে তোমারই প্রেম
এই পৃথিবীতে শান্তির আশ্রয়
শুধু অঞ্জলিপুট স্তরে স্তরে সাজানো
আজ এ পৃথিবী তোমার অপেক্ষায় ...
আপনার মতামতের অপেক্ষায় ...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন