শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

নির্বাচিত কবিদের কবিতাগুচ্ছ




বিকাশ দাস(মুম্বাই)
  
---------------- ----
      বি কা শ দা স
-------------------------








        ভবিতব্য 
যাওয়াই ভালো 
দু’পায়ে অন্ধকার ঠেলে আর এক নতুন অন্ধকারে ।
যাওয়াই 
ভালো 
আলোর সাঁকো ফেলে আর এক নতুন অন্ধকারে ।
এখন
 
মাকড়সার জালে ভর্তি
  দেশের বাড়ি 
বেঁচে থাকার
    তাগিদে বিদেশ পাড়ি 
জেনেও ....
একদিন
   আসতে হবে ফেরত ঘরে 
সম্পর্কের সৌরভে
  দু’হাত চার করে ।
দুটি হাত দুটি প্রান্ত
 
সতর্ক রেখে
 
দু’হাত এক করো বা আলাদা করো
 
ভগ্নাংশের মধ্যেই খুঁজে নিতে হবে তোমার অবশিষ্ট
 
আকাশ মাটির গন্ধ তোমার ভবিতব্য
  
যদিও
 
তোমার দু’হাত
 আজ সর্বস্বান্ত অথর্ব  
ছেঁড়া ঘুড়ির মতো জীবনের সুতোয়
 একলা কাঁটাতারে ।




             ধন্যবাদ ঈশ্বর  

তোমার নিকানো পাথরে খুঁজতে এসেছি ঘর
তোমার চরণ ধোয়া জলে নীরোগ থাকার বর
তবু,রোজ নিচু হয়ে আসি নিচু হয়ে বসি নিচু হয়ে ফিরে যাই
অজান্তে তোমার পাপোশে আমার পায়ের ধুলো রেখে যাই
ধন্যবাদঈশ্বর

যখন আমার তীর্থভূমি দুয়ার খোলা হাওয়ায়
জেনেছি আমার ধুলোপায়ে আমার ঘরের গন্ধ
আমার নিশ্বাস প্রশ্বাসে আমার সংসারের ছন্দ

ঘরে থাকতে আকাশ 
তোমার আকাশ কুর্নিশ করতে কেন যাবো?
আমার উঠোন ছেড়ে
তোমার উঠোনে  সুখ খুঁজতে কেন যাবো?

ধন্যবাদঈশ্বর



      এখন তুমি যাও 
অভাব এখন তুমি যাও 
আবার এসো
কতটা খিদে কতটা ঘুম স্বচ্ছলতার
বেঁচে থাকা দরকার 
তোমার দু’হাত
  নেবো আমি নিংড়ে ।

অন্ধকার এখন তুমি যাও
 
আবার এসো
কতটা আলো কতটা ছায়া সম্ভোগের
 
পেতে রাখা দরকার
 
তোমার হৃদয়
  নেবো আমি নিংড়ে ।

জীবন এখন তুমি যাও
 
আবার এসো
কতটা অন্ধ কতটা বধির অলক্ষ্যে
 
ঢেকে রাখা দরকার
 
তোমার শরীর
  নেবো আমি নিংড়ে

                                       
                                         
         লক্ষ্মীছাড়া কবিতা

অনর্থ জেনে কবিতা    ছেড়ে দিয়েছি
অর্থের বৃষ্টিতে ভিজতে  ফিরে এসেছি
মাথার চাতাল বলতে   খোলা আকাশ
পায়ের তলায় মাটি  ক্ষুর গাঁথা উচ্ছ্বাস
দু’ হাতে পাথরে পাথর গেঁথে  ঈশ্বর পেয়েছি
দূরত্ব ধরে ধরে দ্রুত নিজেকে এগিয়ে নিয়েছি

লক্ষ্মীছাড়া দুঃখ শ্রম
কোথায় কবে কখন শেষ হবে  লাঞ্ছনার কাল  বিষ তুলে
কি ভাবে শুরুর বিধান হলে দূরের শেষ মহার্ঘ দুয়ার খুলে 
কল্পনার তীর্থে  নির্বোধ ভেঙে ভেঙে বাস্তব পাবো 
রোজ দুমুঠো ভাত কবিতার পাতায় বসে।। 



        হৃদয় 

আমার হৃদয়
জানি,
  ছোট্ট নৌকা পালতোলা
উত্থাল স্রোতের ভয়ে নোঙর বাঁধা ঘাটে ।
আমার হৃদয়
জানিবড্ড জেদি অভিমানী
  
নাবাল দুঃখের আঁচে দুচোখ কান্না বাঁধে। 
আমার হৃদয়
জানিবৃষ্টি খোলা অস্থিরদোলা
অসহায় নিরুপায় জোয়ার ভাটার টানে ।
আমার হৃদয়  
জানিশরবিদ্ধ রমণ পাতার শয্যা
  
আতশবাজির গন্ধে শুয়ে একান্তের পাশে 
আমার হৃদয়
জানিচূর্ণ মেঘের নিশুতি রাত্রি
ভয়ের
  রোমশ শরীর মেখে নিয়তি হাত। 
আমার হৃদয়  
জানিএকবুক ভর্তি
  একুরিয়াম
নিঃস্রোত জলের নিঃশব্দতার শব্দ ভেঙে
আমার ব্যক্তিগত কবিতা ।



          দায়

সেদিন  জ্যোৎস্নায়  চাঁদ ছিলো না ।
সেদিন   সমুদ্রে
     ঢেউ ছিলো না ।
সেদিন   নদিতে
     স্রোত ছিলো না ।
আমার দায় আমাকে কুড়ে কুড়ে গ্রাস করছিলো
প্রশ্নের ঘাড়ে প্রশ্ন আমার কাছে
  উত্তর ছিলো না ।
যেদিন তোমাকে দেখলাম
সম্পর্ক জলের মতো ঠেলে নিয়ে যায় আমাকে অভিসারে...
যেখানে চাঁদ
জ্যোৎস্নার বালিশ মাথায়
 নিটোল ঠোঁটে রেখেছে আঙুল ।
যেখানে ঢেউ
সমুদ্রে যুবতী বুকভরা স্তন মাতৃত্বের তৃষ্ণায় অস্থির আকুল ।
যেখানে স্রোত
নদীর দুটি বেণীতে আততসারে বেঁধে জাগিয়ে পারের কুল ।
দুচোখ একবুক জল নিয়ে অন্ধকারের খাদে
বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছি নিজের দায়ের কাছে ।

  মৃত্যুর জন্য কবিতা দায়ী

থেমে গেছে বৃষ্টির ছলকানি
থেমে গেছে আকাশের গোঙানি
তবু তুমি আসোনি আকবর চাচার চায়ের দোকানে।

ধ্বসে গেছে মাটির আত্মগ্লানি
ধ্বসে গেছে বসতবাড়ির ঝলকানি
তবু তুমি আসোনি শেষবিদায় দেখে নিতে শ্মশানে।

কার শব রেখে চুল্লিতে ধরে আছো উছলান
আগুনের সেঁক লেগে বেঁচে ওঠে মৃত্যুর প্রাণ।
প্রকৃতির হৃদকমলে থাক ধর্মজাত যার যার
এইটুকু পৃথিবী সবার সমান সমান অধিকার।

কবির আঙুল জানে বেঁধে নিতে কবিতায় নিশ্চুপ কথার ঝংকার
মৃত্যুর জন্য কবিতা দায়ী অবিমৃশ্য হাড় হৃদয়ের নিরর্থ অহংকার।





        কঠিন ঠাঁই

যুবতী মধ্য শর্বরী
চাঁদকে বলেছিলো আগুনের ঢেলা
না যায় ছোঁওয়া না যায় ফেলা।
আধুত অন্ধকার বিকলাঙ্গ বিকালবেলা
দুপা জড়ানো তোমার নুপুর
শিখেয়েছিলো আমায় পথচলা।
আকাশের ভেতর
বর্ষার জল
বুকের ভেতর
চোখের জল
ছোটো ছোটো রোদ বৃষ্টি
অনাবিল ভালোলাগার দৃষ্টি।
ভালোবাসা ঘর বাজারে সবজির মধ্যে লুকোনো পোকা
ঘুম শান্তির কাঁচা রাস্তায় ছিটকে আসা ধোকা ।
আজ ঘরছাড়া বেশ্যার বাড়ি চল।
সেখানে নাকি নেমেছে চাঁদের পাক ঢল।
সব তীর্থ দেব অরণ্য মরুভূমি;
সূর্য ডোবা বিবর্ণ আকাশ চুমি।



                       অঙ্কুরীশা                







২টি মন্তব্য: