মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

মুখাবরণ /বিমল মণ্ডল


১.
উন্মত্ত নববর্ষের সূচনা
কৌতুকী পৃথিবীর আকাশ
অপিরিমেয়  আক্রান্ত ভোরের থেকে রাত
ছবি আঁকা ক্যাম্প
প্রায় আন্দোলনের মতো

পৃথিবীর সমস্ত মুখাবরণ
দূরত্বের চিহ্ন আঁকে  দুঃখের 
রোজ চোখের অশ্রু নিয়ে। 

২.
এক বিশাল বাতাস
পৃথিবীকে আজ দিগন্ত থেকে দিগন্তে টেনে নিয়ে যাচ্ছে
এক আকাশ থেকে অন্য আকাশে
একটা নদী থেকে আর একটা নদীতে
অজস্র  দেহের ঝটপটানি
বিন্দু থেকে সিন্ধুতে

আমি ভাবছি- হয়ে যাচ্ছে দুর্ভাগ্য
আমি লিখছি- বাড়ছে অসুখ

অসময়ের বাতাস -ভয়ঙ্কর
সাংঘাতিক বেদনায়- যাতনায়
বন্ধ হয়ে আসে নিঃশ্বাস। 


৩.          
  
প্রতি রাতে স্বপ্ন  জেগে ওঠে    
মানুষ - মানুষীর শরীরে
অগাধ অসুখের ভীড়ে
ভেঙে যায় পরিবেশ

সারা রাত উড়ে যায় জানালার পর্দা     
কত অসুর সেনা ডুবে 
উঁচু-নিচু, ধর্মাধর্ম অভেদে

সকাল হাওয়ায়  দুঃসংবাদ
কঠিন - কঠোর আলিঙ্গন  বিরত
হাজারো  হাজারো সূচক
ভিন্ন স্বাদের অসুখের ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়া। 

৪.
একলা বৈশাখ


বছরের শুরুতে একটা ঋতু
অতীত উপেক্ষা আনন্দ আয়োজন
ইতিহাসের পৃষ্ঠায় শিরোনামে
রাগ- অভিমান সমারোহে

পূর্বপুরুষের শব্দ রশ্মি
ভেসে যায়  উন্মুক্ত সমুদ্রে
পয়লা বৈশাখ উন্মোচিত অন্ধকারে
আবছা আলোয় একান্ত একলা বৈশাখ 

রোদ্দুর তরঙ্গ ঠেলে
একলাই শুরু করে অস্থির সংগ্রাম। 


৫.
সাঁকোর জন্য


প্রকৃতি-নিঃশব্দে
সমুদ্র-কেঁদে,হেসে
জীবন-নড়বড়ে সাঁকো
      
এদের হাঁটার ভিন্নতা স্বাদে
যে দ্রুত পার হয়ে যায়
অনেকটা প্রতিযোগিতার আশ্রয়

অনেক ক্লান্তির রোমন্থন
উদ্দাম প্রকৃতি -সমুদ্র -জীবন
প্রত্যাশা হারমানাহার স
সাঁকোর জন্য।   
      


    ৬.            
   সামনে শূন্যতা 

এতো অন্ধকারময় পৃথিবীর  আকাশ 
দিন-রাত একাকার 
আকাশে  তারাদের  ভীড়ে পৃথিবীর  মানুয়
কতরূপ মুখ, চোখ শরীরী ব্যঞ্জনা
আবছা  বাতাসে ভেসে যায় সমুদ্র  ঢেউয়ে

শব্দহীন পরিবেশ
নির্জন  নক্ষত্র  নামে
সাঁকো  নেই

পৃথিবীর  সব শব্দ  খেলা  করে 
তারাদের  ঘরে 

সামনে শূন্যতা 
থাকে পড়ে মৃত্যুর  সেতু ।


৭.
সম্মতি 


মনের গোপন  সম্মতি
জানিয়েছি পথের ধারে
সময়ের  আপত্তি  নেই 
বাড়ির  লোকেরা? 
তা রাজি  হয়ে যাবে

শুধু  তোমার অপেক্ষায় 
ভয়ের আবেশ ধাপে  ধাপে 
সাহসী হয়ে ওঠে 

পথ, বাড়ির  লোক 
তোমার  সম্মতিতে।
     
  


 




    


       
     
           

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন