প্রতিদিন বিভাগে
অণুগল্প — ২
প্রথম অপরাধ
রক্তিম
সকাল হতে না হতেই রোজ বাবা ছেলেকে ফোন করে। ছেলে বাবার ফোন পেয়ে-ই পড়াশোনাতে মনযোগ দেয়। মা মরা ছেলে।। ছেলের ভালোর জন্য কলকাতার বাইরে পড়াশোনার জন্য রেখে দিয়ে আসে। কিন্তু বাবা মাঝে মাঝে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ছেলেকে ফোন করতে ভুলে যায়। ছেলে মানসিক যন্ত্রণা ও কষ্ট পায়। আজ কেন বাবা আমায় ফোন করলনা এই চিন্তা ছেলেকে কুরে কুরে খায় আর অপরাধ বোধে ছটফট করতে থাকে। কাল যে বন্ধুরা জোর করে সিনেমা দেখতে নিয়ে গেল। রাস্তার খাবার খেয়েছিল। আর যেটা বাবা বারবার বারণ করেছিল সেটার স্বাদ নিয়েছিল স্বপ্নিল। সিগারেটের ধোঁয়া টানতে কষ্ট হচ্ছিল, কাশির পর কাশিতে চোখে জল এসে গিয়েছিল। বাবার মুখ ভেসে উঠেছিল ধোঁয়ার ভিতরে স্পষ্ট বাবা যেন বাবা বলে উঠল – খোকা কষ্ট হচ্ছে কাছে আয় মাথায় হাত বুলিয়ে দিই। তোর সব যন্ত্রণা আমায় দিয়ে দে। তোকে যে বারবার বারণ করেছিলাম এই জিনিস ধরবিনা। দেখলি তো এখন কত কষ্ট। যে কোন মুহূর্তে শ্বাস বন্ধ হয়ে অঘটন ঘটতে পারে। ছোটবেলায় ডাক্তারবাবু বলেছিলেন - হার্টে একটা ফুটো আছে অপারেশন করে নেবেন সময়মত। এই সাবধান বাণী মানতে হবে সারাজীবন ধরে। এই অভাবের সংসারে আমি পেরে উঠিনি খোকা আমায় ক্ষমা করে দিস। তাই বারবার সাবধান বাণী তোকে বলে গেছি।
স্বপ্নিল বাবাকে ফোন করে বারবার । বাবা ফোন ধরেনা। স্বপ্নিলও ঠিক করলো বাবাকে কালকের ঘটনা সবটা বলবে। বাবা নিশ্চয় তাকে ক্ষমা করে দেবে জীবনের প্রথম অপরাধ বলে। কিন্ত বাবা যখন ফোন ধরলনা বাবার কাছে চলে আসে হন্তদন্ত হয়ে । অসময়ে ছেলেকে দেখে অবাক - কিরে খোকা কেন অসময়ে আবার কলকাতায় এলি? বাবা তুমি ফোন ধরলেনা ভাবলাম তুমি ভাল নেই তাই চলে এলাম । আমি যদি উল্টোটা বলি তুই নিশ্চয় কোন অপরাধ করেছিস তাই আমার কাছে এসেছিস ক্ষমা চাইতে। খুব কি ভুল হবে সেটা। খবর এসেছে আমি যে বাবা সবটা জেনে গেছি। তবে তোর প্রথম অপরাধ বলে ক্ষমা করে দিলাম সবসময় স্মরণ রাখিস। তোর মাকে মৃত্যুর সময় কথা দিয়েছিলাম তোকে ভাল রাখব । আমাকে হারিয়ে দিসনা খোকা। আয় কাছে আয় আমার কাছে বসবি আয়।একটু আদর করি।

খুব ভালো লাগলো গল্পটি।যথার্থ।
উত্তরমুছুন